কট্টর ইসলামি মানসিকতায় এখন পাকিস্তানকেও টেক্কা দিচ্ছে বাংলাদেশ । আর সেখানে মৌলবাদের ক্রম উত্থানের ফলে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে সংখ্যালঘু হিন্দুরা । অনান্য অপরাধ তো আছেই, পাশাপাশি দুর্গাপূজা ঘনিয়ে আসতে যথারীতি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ব্যাপক বেড়ে গেছে বাংলাদেশে । নিজের স্বজাতীয়দের বিরুদ্ধেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইমতিয়াজ মেহমুদ নামে এক বাংলাদেশি । তিনি ইসলামি চরমপন্থীদের এই প্রকার সাম্প্রদায়িক মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করে ফেসবুকে একটা বড়সড় পোস্ট করেছেন । তার সেই পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হল :
দীর্ঘদিন ধরে এটা চলে আসছে, আজও চলছে। এক অর্থে বলতে পারেন এইটাই হয়ে গেছে বাংলাদেশের প্রথা- শরতের শুরু থেকেই বাংলাদেশের একদল মানুষ দুর্গা পূজার প্রস্তুতি শুরু করে আর সংখ্যাগুরু ধর্মের লোকেরা দুর্গা পূজার প্যান্ডেলে নির্মিত বা নির্মীয়মাণ মূর্তি ভাংচুর করে। আমার বয়স তো তিরিশ ছাড়িয়েছে বহু বছর হয়ে গেল, তিরিশের আগে বা পড়ে কোন একটা বছরও আমার মনে পড়ে না যেবছর এই ঘটনার ব্যতিক্রম হয়েছে। সিরিয়াসলি বলছি, আপনার যদি মনে থাকে কোন একটি বছরের কথা যেবছর হিন্দুদের দুর্গা পূজার সময় এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি, আমাকে জানাবেন।
গতকাল বিবিসি একটা প্রতিবেদন করেছে যেখানে শুরুতেই বলছে, বালাদেশে দুর্গাপূজার প্রস্তুতিতে ১১টি জেলায় ১৩টি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পূজা উদযাপন পরিষদ। গতকালই আবার খবর বেড়িয়েছে, টাঙ্গাইলের জামুর্কি ইউনিয়নে একটা প্যান্ডেলে ঢেকে রাখা প্রায় সমাপ্ত মূর্তিতে হামলা করে কারা যেন সাতটি প্রতিমা ভাংচুর করেছে। না, এমনিতে কোন এলেবেলে মাধ্যমের খবর না, নিউ এজ, বিডিনিউজ, সমকাল আর অন্যান্য কাগজে সবাই সবিস্তারে রিপোর্ট করেছে। আপনিই বলুন, এইটা কি একটা সুস্থ স্বাভাবিক সমাজের চিত্র হতে পারে?
সাম্প্রদায়িকতা এই দেশে আগেও ছিল, এখনো আছে। দেশভাগের আগেও এদেশে সাম্প্রদায়িকতা ছিল, কিন্তু ১৯৪৭ সনে যেহেতু দেশভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে এর নেট ফলাফল হলো যে আমাদের দেশে সেই যে হিন্দু বিদ্বেষ বেড়ে গেল সেটা আর শান্ত হলো না । আমরা চেষ্টা করেছি, আমাদের পূর্ব প্রজন্ম একটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ার জন্যে লড়াই করেছে, শেষে রীতিমত যুদ্ধ করে পাকিস্তান নামিক পশুশক্তিকে পরাজিত করেছে। স্বাধীন দেশ হলো। নতুন দেশ- যেখানে মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতি হলো ধর্মনিরপেক্ষতা আর যার যার ধর্ম পালনের অধিকার হলো মৌলিক অধিকার। কিসের কি! সেখ সাহেবকে প্রাণে মেরে এরা আবার পাকিস্তান স্টাইল চালু করে দিয়েছে।
শোনেন, একটা দেশ যেখানে হিন্দু ধর্মবিশ্বাসী মানুষের কখনো শান্তিতে ওদের সবচেয়ে বড় পূজাটা করতে পারেনা, যেদেশে হিন্দুদের মূর্তি ভাঙা একটা নিয়মিত প্রথায় পরিণত হয়েছে, যেখানে হিন্দুদের ধর্মীয় মন্দিরে হামলা করা কার্যত কোন অপরাধই নয়- এটা সভ্য দেশ হতে পারে না। না, দেশকে নিয়ে আমার অহংকারের অন্ত নাই- কেননা দেশ তো হচ্ছে মা, দেশকে তো ভালোবাসি। কিন্তু সত্যিটা মানতে হয়, দেশ অসুস্থ, বাংলা আমার জননী আমার অসুস্থ। এক ভাইরাসে আক্রান্ত আমার দেশ সেই কবে থেকে! এটা দূর করতে হবে। সাম্প্রদায়িকতা কোন অবস্থাতেই সহ্য করবেন না।
সরকারের কাছে আমার কোন প্রত্যাশা নাই, ওদের কাছে কিছু দাবীও আমি করতে চাইনা। আমি কেবল মানুষের কাছে আহ্বান জানানই, ভাই সাহেব সাম্প্রদায়িকতা একটি ব্যাধি, অতি সংক্রামক নোংরা ব্যাধি। সাম্প্রদায়িকতা রোধে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হওয়ার জন্যে বাংলাদেশের জন্ম হয়নি। এতো রক্ত আমরা সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ার জন্যে দিইনি।
তিনি প্রতিমা ভাঙচুরের একটা ছবি সংযুক্ত করে লিখেছেন, ছবিটা নিয়েছি আজকের পত্রিকা থেকে।
(পোস্ট লিঙ্ক :https://www.facebook.com/share/1HpyMxmcPh/)।

