এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৭ জুন : কিশোরীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত কলেজ স্ট্রিটের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । তবে পুলিশ চুড়ান্ত নাটকীয়তার তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয় । আজ রবিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ কাউন্সিলরের বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। বহু ডাকাডাকি করেও গেট খোলেনি । পুলিশ প্রায় সাড়ে ৫ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর শেষ পর্যন্ত তালা খুলতে চাবিওয়ালাকে খবর দেয় । বাড়ির সদর দরজা সহ আরও কোলাপসিবল গেটের তালা খুলে ঘরের ভিতরে ঢোকেন আধিকারিকরা। কাউন্সিলরকে ঘর থেকে টেনে বের করে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। এই ঘটনায় কাউন্সিলর সহ মোট ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে ।
বিজেপি নেত্রী দ্বিনীতা ঘোষ বলেছেন,’মহম্মদ জসিমউদ্দিন জিহাদি হিন্দু বিরোধী আপাদমস্তক জামাত মানসিকতার এই জসিমউদ্দিন পূর্বে শিবমন্দির ভাঙার অভিযোগ উঠেছিল সেই সময় আমি সোচ্চার হয়েছিলাম, পড়ে তড়িঘড়ি আবার মহাদেব কে মন্দির তৈরি করে আবার বসিয়ে দেয়, সেইদিন আমার কিছু করার ছিল না আজ আত্মার শান্তি হলো ।’
তৃণমূল কাউন্সিলর জসিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৩ সালের মে মাসে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে । সেই পকসো মামলায় মূল অভিযুক্ত ছিল স্থানীয় কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমুদ্দিন এবং তৃণমুলের ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট আলী সানি । নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, তৎকালীন জোড়াসাঁকো থানার ওসির সাহায্যে জসিমুদ্দিন কোনওভাবে কেস থেকে ছাড় পেয়ে জামিন পেয়ে গেলেও, সানি প্রায় আট মাস জেলে ছিল।জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নির্যাতিতার পরিবারকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শনিবার রাতেও মার্কেট থেকে ফেরার পথে নির্যাতিতাকে আটকায় কাউন্সিলর ও তার দলবল। ‘কেস না তুললে পরিবারকে এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না’-এই হুমকি দিয়ে নির্যাতিতার ওপর চড়াও হয় আফসার আলী ছোটু নামের এক যুবক। মারধরের জেরে গুরুতর আহত অবস্থায় নির্যাতিতা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আট জনের নামে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ দায়ের হতেই মহম্মদ জসিমুদ্দিনকে পাকড়াও করতে তৎপর হয় জোড়াসাঁকো থানার । ভোরের দিকে খবর আসে যে বাড়িতেই রয়েছে জসিমুদ্দিন । কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই একাধিক গেটে তালা ঝুলিয়ে ঘরের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকে ৷ পরে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ বাইরে আনতেই গনরোষ ছড়িয়ে পড়ে । অভিযুক্ত কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ জসিমউদ্দিনকে বাড়ি থেকে বের করতেই তাঁকে টার্গেট করে ডিম ছুড়তে থাকেন উত্তেজিত জনতা। এলাকায় জমায়েত হঠাতে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বাহিনী। অন্যদিকে অভিযুক্ত কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠরা তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করে৷ পুলিশ লাঠি হাতে তাড়া করলে তারা চম্পট দেয় । ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনের অন্যের জায়গা গায়ের জোরে দখল করা ও তোলাবাজির মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ।।
