এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৭ আগস্ট : সম্প্রতি কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ও উগ্র বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে আরএসএস ছাত্র সংগঠন এবিভিপি ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে । সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহতও হয় । সংঘর্ষের মুহুর্তে কেউ বা কারা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ নম্বর গেটে লাগানো ঐতিহ্যবাহী প্রতীকটি ভাঙচুর করে৷ সমগ্র ঘটনা নিয়ে বাংলা সংবাদপত্র “আনন্দবাজার পত্রিকা” এক্সক্লুসিভ খবর করে৷ পত্রিকার প্রথম পাতায় ব্যানার হেডলাইন করা হয় : “গেরুয়া গুন্ডামি” । যানিয়ে বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি তীব্র প্রতিবাদ জানায় । আজ বৃহস্পতিবার TV9 বাংলা মেগা কনক্লেভে এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি ওই পত্রিকা গোষ্ঠীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “গেরুয়ার মানে জানেন ? উত্তর পেয়ে যাবেন” ।
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’ এরপর যত নির্বাচন হবে বোমা গুলির আজ পাবেন না । ফলতার উপনির্বাচন ছিল পুলিশ মন্ত্রীর প্রথম পরীক্ষা । সারাদিন টিভি খুলে কোথাও হিংসার খবর পাননি । যারা যাদবপুর নিয়ে হেডলাইন করছে “গেরুয়া তাণ্ডব”, তারাও খুঁজে পাননি ।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আপনি বলুন তো গেরুয়া তাণ্ডব, এটা লেখা যায় ? আরে, আপনি বলুন বিজেপির তাণ্ডব,যদি করে থাকে । লিখুন এবিভিপির তান্ডব,যদি করে থাকে । লিখুন শুভেন্দু বাহিনীর তাণ্ডব, যদি করে থাকে । উত্তর আমরা দেব । কিন্তু আপনারা কাগজে লিখেছেন “গেরুয়া তান্ডব”? গেরুয়ার মানে জানে ওই সংবাদপত্র গোষ্ঠী ?
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’আরে ওটা স্বামী বিবেকানন্দের গায়ে ছিল । ওটা প্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের গায়ে ছিল । ওটা স্বামী প্রণবানন্দের গায়ে ছিল । সমস্ত শুভ কাজে ওটা লাগে । সব মন্দিরের মাথায় ওই ধ্বজটাই থাকে । ওটাই আমাদের শৌর্য । ওটাই আমাদের গর্ব । ওটা ত্যাগ, কৃচ্ছসাধন, সংযম ব্রতের প্রতীক । ওটা কোন দলের প্রতীক নয় । আর আপনার লিখে দিলেন ? উত্তর পেয়ে যাবেন,আপনারা কিছু করতে পারবেন না।’
তিনি এই পত্রিকা গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে বলেন, নির্বাচনের আগে আপনাদের ভাড়া করা বিশ্লেষকরা বলেছিল : “আরে, বিজেপি ওটাতো হিন্দুদের পার্টি” । পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু আছে, সরকারিভাবে ২০১১ এর সেনসাস অনুযায়ী ৭২ শতাংশ । আর বেসরকারিভাবে ৬৫ শতাংশ হিন্দু আছে । ২৯৪ টা আসনের মধ্যে ১৫০ টা হিন্দু অধ্যুষিত । ওই ১৫০ টা আসন লড়ে কেউ ১৪৮ আসন পেতে পারে ? কখনোই না । ১১০-১২ টা পাবে৷ আপনারা দেখতে থাকুন । আমরা ২০৮ পেয়েছি । আমি একটা ছেড়েছি বলে ২০৭ । দেখবেন কিভাবে কাজ আমরা করি ।’
উল্লেখ্য,যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে গত ২১ আগস্ট “আনন্দবাজার পত্রিকা” প্রথম পাতার ব্যানার শিরোনাম ছিল : “গেরুয়া গুন্ডামি” । শিরোনামে এতপর লেখা হয় : “যাদবপুর দখলে ভাঙা হয় প্রতীক” । এক সময় ওই পত্রিকায় সাংবাদিকদের কাজ করা বর্ষীয়ান সাংবাদিক সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় ওই শিরোনামের তীব্র নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন,’উস্কানির জন্য আনন্দবাজার গ্রুপের
সমস্ত বিজ্ঞাপন বন্ধ করুক সরকার,এবং স্থায়ী ভাবে । কিভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে উস্কানির কাজ করেছে সেই ইতিহাস দীর্ঘ,একটা সংবাদ মাধ্যমের যখন সংযত আচরণ প্রয়োজন তখনই এরা অন্য পথে হাঁটে,সিঙ্গুর থেকে আজ পর্যন্ত সেই ট্র্যাডিশন অব্যাহত,থামানো দরকার এই লাগাতার অসভ্যতা…।’।
