এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তর চব্বিশ পরগনা,০১ জুন : “ডিটেক্ট-ডিলিট এন্ড ডিপোর্ট”- অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তাঁর সেই নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের নিজের দেশে । কিন্তু বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢল দেখে তাদের আর ফেরত নিতে চাইছে না বাংলাদেশ সরকার । রবিবার রাতে ৮-১০ জন্য অনুপ্রবেশকারীকে বনগাঁর পেট্রাপোল বর্ডার (Petrapole Border) দিয়ে ওপারে ঠেলে দেয় বিএসএফ৷ কিন্তু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) তাদের নিতে অস্বীকার করে । ফলে জিরো লাইনে ঝুলে আছে ওই বাংলাদেশিদের জীবন ।
জানা গেছে,রবিবার রাতে ৮-১০ জনের মতো একটা দলকে পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের বেনাপোল সাদিপুর সীমান্তের খড়েরমাঠ এলাকা দিয়ে ঠেলে দেয় বিএসএফ । অনুপ্রবেশকারীরা জিরো লাইনে আসতেই আটকে দেয় বিজিবি । বিএসএফ ও বিজিবি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়লে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় । ফলে প্রায় এক ডজন বাংলাদেশির এখন অস্থায়ী ঠিকানা হয়েছে জিরো লাইনে খোলা আকাশের নিচে । যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক গোলম মহম্মদ সাইফুল্লাহ আলম খান বলেছেন,বিএসএফের সাথে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ রেল স্টেশন থেকে চার জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে রেল পুলিশ (জিআরপি)। তাদের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার একটি হাই স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্র এবং এক নাবালিকাও রয়েছে। শনিবার সকাল ৭.৩৫ নাগাদ বনগাঁ স্টেশনে ২-৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ওই চার জনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটক ব্যক্তিরা দাবি করেন যে তাঁরা প্রায় ৬–৭ বছর আগে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পুলিশ জেলার অশোকনগর থানার ২৪ নং গুমা রেলগেটের কাছে একটি ভাড়াবাড়িতে বর্তমানে তাঁরা বসবাস করছিল ।
আটকদের মধ্যে জলিল হোসেন (২৩) এবং ওই স্কুলছাত্র (১৪) আদতে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। আরাফত সর্দার (১৮) এবং ওই ১৪ বছরের কিশোরীর বাড়ি বাংলাদেশের যশোর জেলায়। জিআরপির তরফে জানানো হয়েছে, আইন মেনে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার এবং বনগাঁ পুলিশ জেলার বিদেশি নিবন্ধন আধিকারিকের (এফআরও)-এর দফতরে পেশ করা হবে ।।
