এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৮ জুন : অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ভারতের অভিযান জোরদার হওয়ায় বাংলাদেশ ৬০,০০০ সীমান্তরক্ষী মোতায়েন করেছে । নিজের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করে এর পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারত । অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের পুশ ব্যাককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ইতিহাসে ভারতের সীমান্তে বৃহত্তম সেনা মোতায়েন । বাংলাদেশের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর প্রায় ৬০,০০০ সদস্যকে দেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে। এই মোতায়েনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য, কারণ বিজিবি-র মোট সক্রিয় সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭০,০০০ বলে অনুমান করা হয়, যার অর্থ হলো বাহিনীর প্রায় সম্পূর্ণ অংশ ভারত সীমান্তে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে।বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করা অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর ভারতীয় প্রচেষ্টা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি নাগরিকের দলকে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত পয়েন্টে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে, যারা অননুমোদিত পথে ভারতে প্রবেশের কথা স্বীকার করেছিল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি ঘটেছে কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর কাছে, যেখানে কয়েক ডজন সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীকে প্রত্যাবাসনের জন্য নির্ধারিত সীমান্ত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। মুর্শিদাবাদ সেক্টরেও একই ধরনের পদক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার পর বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের অবশেষে গ্রহণ করা হয়।
এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো এই ঘটনাগুলোকে ভারতের পক্ষ থেকে লোকজনকে সীমান্তের ওপারে “ঠেলে দেওয়ার” প্রচেষ্টা হিসেবে চিত্রিত করেছে, অন্যদিকে স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে যে এই ধরনের চলাচল ঠেকাতে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে এমনকি সীমান্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সমর্থনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে, এবং এই মোতায়েনকে তাদের ভাষায় আন্তঃসীমান্ত চাপ মোকাবেলার একটি জাতীয় প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই পরস্পরবিরোধী ভাষ্যগুলো যাই হোক না কেন, সংখ্যাগুলোই আসল চিত্র তুলে ধরে। বাংলাদেশ এর আগে কখনও ভারতীয় সীমান্তে তার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এত বড় একটি অংশ মোতায়েন করেনি। এই সিদ্ধান্তটি ভারতের পক্ষ থেকে আরও আগ্রাসী প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টার সম্ভাবনা নিয়ে ঢাকার ক্রমবর্ধমান উদ্বেগেরই প্রতিফলন। তবে ভারতও অনড় অবস্থানে রয়েছে।
ভারত বারবার বলেছে যে, তারা দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করছে এবং যাচাইকৃত বিদেশি নাগরিকদের প্রতিষ্ঠিত সীমান্ত পথ দিয়েই ফেরত পাঠানো হবে। সরকার সীমান্ত বেড়া নির্মাণ প্রকল্পও ত্বরান্বিত করেছে, নজরদারি ব্যবস্থা প্রসারিত করেছে এবং বেশ কয়েকটি রাজ্যে যাচাই অভিযান বাড়িয়েছে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা যুক্তি দেন যে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো যাচাইয়ের অনুরোধ দীর্ঘ সময় ধরে অমীমাংসিত থাকায় প্রত্যাবাসন প্রায়শই বিলম্বিত হয়। এই অবস্থান অনুযায়ী, আসল চ্যালেঞ্জ অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করা নয়, বরং তাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য সময়মতো সহযোগিতা নিশ্চিত করা।এই প্রেক্ষাপটে, বিজিবি-র ব্যাপক মোতায়েনকে একটি সাধারণ সীমান্ত ব্যবস্থার চেয়ে ভারতের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী প্রয়োগ কৌশলের একটি প্রতিক্রিয়া বলেই বেশি মনে হচ্ছে।
আগামী সপ্তাহগুলোতেই স্পষ্ট হবে যে, উভয় পক্ষের এই বর্ধিত সামরিক ধাঁচের উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সংবেদনশীল এই সীমান্তে বৃহত্তর সমন্বয়ের দিকে নিয়ে যায়, নাকি উত্তেজনা আরও গভীর করে।।
