এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৩ জুলাই : পশ্চিমবঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র (Birth and Death Certificates) প্রদানে নতুন নিয়ম জারি হয়েছে। এখন থেকে পঞ্চায়েত প্রধান বা পুরপ্রধানরা সরাসরি আর এই শংসাপত্র ইস্যু করতে পারবেন না, শুধুমাত্র অনুমোদিত ও নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকরাই এই শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা রাখছেন । কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে যে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র বানিয়ে দিয়ে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর-এ নাম তুলেছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা । এবার সেই সমস্ত দুর্নীতি ধরতে গোটা রাজ্য জুড়ে একযোগে প্রতিটি পঞ্চায়েত অফিসে পুলিশ হানা দিতে শুরু করেছে । যা নিয়ে শোড়গোল পড়ে গেছে রাজ্য জুড়ে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, সরকারের নির্দেশমতো প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র নথিভুক্তকরণ( রেজিস্ট্রেশন) যে খাতা রয়েছে তা বাজেয়াপ্ত করবে পুলিশ এবং এই ডেথ এবং বার্থ সার্টিফিকেটে যদি অসংগতি থেকে থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় নাম তুলতে গিয়ে বহু বাংলাদেশিদের জন্ম শংসাপত্র বানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ । তাই এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই পদক্ষেপ বলে জানা গেছে ।আগামী শনিবার এই মর্মে বিধানসভায় বিল পেশ হতে পারে বলেই জানান পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
আজ বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানান,আর জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে পারবেন না রাজ্যের পুরপ্রধান এবং পঞ্চায়েত প্রধানেরা। এ বার থেকে সরকারি আধিকারিকেরা এই শংসাপত্র দেবেন। কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তা দিতে পারবেন না। স্বাস্থ্য দফতর গোটা রাজ্যে আধিকারিকদের দায়িত্ব ভাগ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। তিনি আরও বলেন,’জন্ম শংসাপত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের পরে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। এসআইআর করতে গিয়ে অনেক ভুলভ্রান্তি ধরা পড়েছে। পুলিশের কাছেও অনেক অভিযোগ এসেছে। অনেক জায়গায় নকল জন্ম শংসাপত্র ধরা পড়েছে। অনেক সুযোগসুবিধা নিয়েছেন অনেকে। নিয়ম থাকলেও বহু অনিয়ম হয়েছে।’ মুখ্যসচিব এ-ও জানিয়েছেন যে, শংসাপত্র দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কেউ অবৈধ কাজ করলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
তবে পশ্চিমবঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র প্রদানে অনিয়ম শুধু ২০২৬ সাল থেকে নয়,বরঞ্চ ১৯৯৭ সাল থেকে নথিবদ্ধ সমস্ত শংসাপত্র যাচাই করে দেখা হবে। তার ভিত্তিতে তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে । ওই তথ্যভাণ্ডার কেন্দ্রের পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে । মুখ্য সচিব বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা হবে। যাঁর কাছে শংসাপত্র নেই, তাঁর শুনানি করে তা দেওয়া হবে। অবৈধ শংসাপত্র বাতিল হবে এবং সেই ব্যক্তির সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে ।’ তিনি সাফ জানিয়ে দেন,’কোনও অবৈধ বিদেশি নাগরিক এখানে থাকতে পারবেন না।’
আজ কলকাতা-সহ দুর্গাপুর, নদিয়া, বীরভূমের সিউড়ি, রামপুরহাট, দুবরাজপুর এবং কোচবিহারের বিভিন্ন পঞ্চায়েত, পুরসভা-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় হানা দেন তদন্তকারীরা। রেজিস্টার, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখতে সংগ্রহ করেছে পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা খুঁটি পরীক্ষা করেন বিভিন্ন বছরের জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র । অনুমান করা হচ্ছে যে, শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই কড়াকড়ির কারনে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র বিতরণে অনিয়মের কারনে ফেঁসে যেতে পারে তৃণমূলের অনেক পঞ্চায়েত প্রধান ও পুরসভার চেয়ারম্যানরা ।।
