এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০৬ আগস্ট : বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার ১০ নম্বর ভীমপুর ইউনিয়নের রসুলপুর মৌজার খোদ্দনারায়নপুরের বৈষ্ণবপুর মড়াপুকুর ২০০ বছরের পুরাতন শ্মশান দখলের চেষ্টা করছে সংখ্যাগুরু মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন । খোদ্দনারায়নপুর ঋষিপাড়ার শ্রীমুকুন্দ ঋষির ছেলে শ্রীগজেন্দ্র ঋষি (৬৫) মারা যাওয়ার পর শ্মশানে দেহ সৎকার করতে গেলে মুসলিমরা বাধা দেয় । এরপর শ্মশানে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করে মৃতের পরিবারসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা । এই ঘটনায় উপজেলা জুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয় ।
জানা গেছে,খোদ্দনারায়নপুরের বৈষ্ণবপুর মড়াপুকুর এলাকার ওই শ্মশানটি ২০০ বছরের প্রাচীন । খোদ্দনারায়নপুর পালপাড়া, ঋষিপারা, লক্ষ্মীপুর ভূইয়াপাড়া রসুলপুর পাহানপাড়া ,গনেশপুর পাঁচপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পরিবারের কেউ মারা গেলে এই শ্মশানেই মৃতদেহ সৎকার করেন । খোদ্দনারায়নপুর ঋষিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গণেশ ঋষি দীর্ঘ রোগভোগের পর বুধবার ভোর রাতে বাড়িতে মারা যান ৷ পরিবারে সদস্য ও খোদ্দনারায়নপুর ঋষিপাড়ার সনাতন ধর্মালম্বীরা লাশ সৎকারের জন্য উপজেলার বৈষ্ণবপুর মরা পোকরা মহাশ্মাশানে দেহ সৎকার করতে এলে দেখেন শ্মশানের চারেদিকে বাঁশের বেঁড়াদিয়ে অবরোধ করে রাখা হয়েছে ।
মৃত গজেন ঋষির ছেলে সন্তোষ ঋষি বলেন, ‘আমরা বেড়া খুলে শ্মশানে ঢুকতে গেলে মৃত দবিরউদ্দিনের জামাই মহম্মদ আব্দুল খালেক, মহম্মদ নাইম এবং মোছাঃ শেফালী বেগমরা এসে বাধা দেয় । আমরা প্রতিবাদ করলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ।’
জানা গেছে,খবর পেয়ে বেলা ১২ টা নাগাদ সেখানে আসেন ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ ভদ্র, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দয়াল চন্দ্র পালো ও বিপুল মেম্বার উপস্থিত ছিলেন, ভীমপুর ইউনিয়ন বিএমপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন, ভীমপুর ইউনিয়নের সাবেক সহঃ সভাপতি, দলের জেলা সদস্য মহম্মদ আব্দুল মজিদ, কৃষক দলের সভাপতি মহম্মদ উজ্জ্বল হোসেন সহ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীরা । অবশেষে তাদের হস্তক্ষেপে বেড়া খুলে শ্মশানের চুল্লি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে মৃতদেহ সৎকার করা হয় ।
এরপর মৃতদেহ ফেলে রেখে পাঁচগ্রামের এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বিক্ষোভ করে । পরে বেলা ১২ টার দিকে ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির চেয়ারম্যান শ্রীরামপ্রসাদ ভদ্র, ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শ্রী দয়াল চন্দ্র পালো ও বিপুল মেম্বার উপস্থিত ছিলেন, ভীমপুর ইউনিয়ন বিএমপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন, ভীমপুর ইউনিয়নের সাবেক সহঃ সভাপতি ও জেলা দলের সদস্য মোঃআব্দুল মজিদ, কৃষক দলের সভাপতি মোঃ উজ্জ্বল হোসেন সহ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের জন সাধারন তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে বৈকন্ঠপুর মরাপকড়া ২০০ বছরের শ্মশানের চুল্লি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে পুনরায় লাশ সৎকার করা হয়।
রসুলপুর মহল্লার কাঞ্চু পাহান বলেন,’দীর্ঘদিন ধরে এই শ্মশানটি রয়েছে । সেখানে আমাদের উপজেলার সব হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মৃতদেহ সৎকার করে আসছে । কিন্তু গত প্রায় ২ বছর আগে বৈকন্ঠপুর মোরা পোকরা শ্মশান নামে একটি কমিটি গঠন করা হয় । তারপর থেকে দুই শতাব্দী প্রচীন এই শ্মশান দখলের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে ।’ তার দাবি,ম্যানেজিং কমিটিতে প্রত্যেকটি গ্রাম থেকে একজন করে সদস্যকে নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে ।
উল্লেখ্য,আগে উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামে নামকরণ করা হয় এই শ্মশানটি । এখন হিন্দু শ্মশান নামকরণ করার দাবি উঠছে । আর এ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়েরই মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।।
