এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৬ আগস্ট : জমি- দুর্নীতি মামলায় যে কোনও মুহূর্তে গ্রেফতারির আশঙ্কা ছিল অভিষেক ব্যানার্জির আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের । দীর্ঘদিন বেপাত্তা থাকার পর গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয় ।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। তবে তদন্তে যোগ দিয়ে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সুমিতকে উপস্থিত থাকতে হবে।
এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে প্রকাশ্য মঞ্চে হুমকির মত একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত অভিষেক ব্যানার্জিকেও অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়ে রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট । গত মাসের শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, আগামী ৬ অগাস্ট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন থানায় যতগুলি এফ আই আর দায়ের হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকাও আদালতে জমা দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। সঙ্গত কারনেই এখন প্রশ্ন উঠছে যে সাধারণ মানুষও কি পাবে একই সুবিধা ?
এদিন সুপ্রিম কোর্টে সুমিতের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণ এবং রাজ্য সরকারের পক্ষে ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তুষার মেহতা জানান, গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে সুমিত রায়কে।এমনকি,সুমিত রায়ের গ্রেফতারিতে পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাধা দেওয়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, মনে হয় যে পুলিশই মূল সমস্যার কারণ, সেটা আপনি বলতে চাইছেন না? উত্তরে তুষার মেহতা জানান,’যখনই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে যাওয়া হয়েছে, তখনই বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বাধা দিয়েছেন।’সব শুনে সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দেয়, আবেদনকারী তদন্তে সবরকমের সহায়তা করবে এবং তাঁর গ্রেপ্তারির উপরে আপাতত স্থগিতাদেশ থাকবে।
সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অভিযোগ রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি কেনাবেচায় জড়িত থাকা এবং ডেবরায় টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শালবনি থানায় অভিযোগের পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন সুমিত এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানালে ডেবরা মামলায় আগাম জামিন পেলেও শালবনি মামলায় তা খারিজ হয়ে যায়। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পেলেন তিনি।।
