অষ্টবক্র গীতার ২০তম অধ্যায়টি ‘জীবনমুক্তি’ বা ‘আত্মের সীমা অতিক্রম’ (Liberation in Life) নিয়ে রাজা জনকের একটি পরম উপলব্ধি। এখানে জনক নিজের অদ্বৈত, নিরঞ্জন ও নিষ্ক্রিয় স্বরূপের কথা বলেন । এই অধ্যায়ে দেহ, মন, জগত, শাস্ত্র, এমনকি মুক্তি বা আনন্দের কোনো অস্তিত্বই ‘আমি’ (আত্মা)-তে নেই—এই অদ্বৈত জ্ঞান প্রকাশিত হয়েছে ।
জনক উবাচ ॥
ক্ব ভূতানি ক্ব দেহো বা ক্বেংদ্রিয়াণি ক্ব বা মনঃ ।
ক্ব শূন্য়ং ক্ব চ নৈরাশ্য়ং মত্স্বরূপে নিরংজনে ॥২০-১॥
ক্ব শাস্ত্রং ক্বাত্মবিজ্ঞানং ক্ব বা নির্বিষয়ং মনঃ ।
ক্ব তৃপ্তিঃ ক্ব বিতৃষ্ণাত্বং গতদ্বংদ্বস্য় মে সদা ॥২০-২॥
ক্ব বিদ্য়া ক্ব চ বাবিদ্য়া ক্বাহং ক্বেদং মম ক্ব বা ।
ক্ব বংধ ক্ব চ বা মোক্ষঃ স্বরূপস্য ক্ব রূপিতা ॥২০-৩॥
ক্ব প্রারব্ধানি কর্মাণি জীবন্মুক্তিরপি ক্ব বা ।
ক্ব তদ্ বিদেহকৈবল্যং নির্বিশেষস্য সর্বদা ॥২০-৪॥
ক্ব কর্তা ক্ব চ বা ভোক্তা নিষ্ক্রিয়ং স্ফুরণং ক্ব বা ।
ক্বাপরোক্ষং ফলং বা ক্ব নিঃস্বভাবস্য মে সদা ॥২০-৫॥
ক্ব লোকং ক্ব মুমুক্ষুর্বা ক্ব যোগী জ্ঞানবান্ ক্ব বা ।
ক্ব বদ্ধঃ ক্ব চ বা মুক্তঃ স্বস্বরূপেঽহমদ্বয়ে ॥২০-৬॥
ক্ব সৃষ্টিঃ ক্ব চ সংহারঃ ক্ব সাধ্য়ং ক্ব চ সাধনম্ ।
ক্ব সাধকঃ ক্ব সিদ্ধির্বা স্বস্বরূপেঽহমদ্বয়ে ॥২০-৭॥
ক্ব প্রমাতা প্রমাণং বা ক্ব প্রমেয়ং ক্ব চ প্রমা ।
ক্ব কিংচিত্ ক্ব ন কিংচিদ্ বা সর্বদা বিমলস্য মে ॥৮॥
ক্ব বিক্ষেপঃ ক্ব চৈকাগ্র্য়ং ক্ব নির্বোধঃ ক্ব মূঢতা ।
ক্ব হর্ষঃ ক্ব বিষাদো বা সর্বদা নিষ্ক্রিযস্য মে ॥২০-৯॥
ক্ব চৈষ ব্যবহারো বা ক্ব চ সা পরমার্থতা ।
ক্ব সুখং ক্ব চ বা দুখং নির্বিমর্শস্য মে সদা ॥২০-১০॥
ক্ব মায়া ক্ব চ সংসারঃ ক্ব প্রীতির্বিরতিঃ ক্ব বা ।
ক্ব জীবঃ ক্ব চ তদ্ব্রহ্ম সর্বদা বিমলস্য মে ॥২০-১১॥
ক্ব প্রবৃত্তির্নির্বৃত্তির্বা ক্ব মুক্তিঃ ক্ব চ বন্ধনম্ ।
কূটস্থনির্বিভাগস্য স্বস্থস্য মম সর্বদা ॥২০-১২॥
ক্বোপদেশঃ ক্ব বা শাস্ত্রং ক্ব শিষ্যঃ ক্ব চ বা গুরুঃ ।
ক্ব চাস্তি পুরুষার্থো বা নিরুপাধেঃ শিবস্য মে ॥২০-১৩॥
ক্ব চাস্তি ক্ব চ বা নাস্তি ক্বাস্তি চৈকং ক্ব চ দ্বয়ম্ ।
বহুনাত্র কিমুক্তেন কিংচিন্নোত্তিষ্ঠতে মম ॥২০-১৪॥
ইতি অষ্টবক্রগীতা সমাপ্তা ।
॥ ওং তত্সত্ ॥
অষ্টবক্র গীতা বিংশতিতমোঽধ্যায়ঃ-এর সারসংক্ষেপ:
অদ্বৈত স্বরূপ: রাজা জনক উপলব্ধি করেন যে তিনি চিরকালই অদ্বৈত—শরীর, ইন্দ্রিয়, মন বা জগতের কোনো অস্তিত্বই তাঁর আত্মায় নেই ।
বন্ধন ও মুক্তির ঊর্ধ্বে: তিনি বলেন, আমার নিরঞ্জন (কলঙ্কমুক্ত) স্বরূপের মধ্যে শাস্ত্র, জ্ঞান, অজ্ঞান, সুখ-দুঃখ বা স্বর্গ-নরক—সবই অবাস্তব ।
নিষ্ক্রিয় আত্মা: তিনি নিজেকে নিষ্ক্রিয় এবং অবিকারী মনে করেন, তাই কোনো কাজ বা কর্মফলের (প্রারব্ধ) দায় তাঁর নেই ।
পূর্ণ তৃপ্তি: এই পর্যায়ে সাধক কোনো কিছুর আকাঙ্ক্ষা বা বিরক্তি ছাড়াই কেবল নিজের স্বরূপের মধ্যেই শান্তভাবে অবস্থান করেন ।
প্রধান শ্লোকগুলির মূলভাব:
২০.১-২: জনক নিজেকে শরীর ও মনের ঊর্ধ্বে বলে ঘোষণা করেন ।
২০.৫: অদ্বৈত আত্মায় কর্তা বা ভোক্তা হিসেবে কেউ নেই ।
২০.১৪: উপসংহারে বলা হয়েছে—আমার মধ্যে সব কিছু আছে, আবার কিছুই নেই। আমি অদ্বৈত, আমি শান্ত । এই অধ্যায়টি পরম আনন্দের অবস্থা, যেখানে কোনো কামনা-বাসনা অবশিষ্ট থাকে না।।

