অষ্টবক্র গীতার দশম অধ্যায়টি “কর্ম সিদ্ধান্ত” বা বিরাগ (অনাসক্তি) নামে পরিচিত। এই অধ্যায়ে ঋষি অষ্টবক্র রাজা জনককে জাগতিক আসক্তি, কামনা এবং অর্থকে ‘শত্রু’ হিসেবে ত্যাগ করে আত্মজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন।
অষ্টবক্র উবাচ ॥
বিহায় বৈরিণং কামমর্থং চানর্থসংকুলম্ ।
ধর্মমপ্যেতয়োর্হেতুং সর্বত্রানাদরং কুরু ॥১০-১॥
স্বপ্নেংদ্রজালবত্ পশ্য দিনানি ত্রীণি পঞ্চ বা ।
মিত্রক্ষেত্রধনাগারদারদায়াদিসংপদঃ ॥১০-২॥
যত্র যত্র ভবেত্তৃষ্ণা সংসারং বিদ্ধি তত্র বৈ ।
প্রৌঢবৈরাগ্যমাশ্রিত্য় বীততৃষ্ণঃ সুখী ভব ॥ ১০-৩॥
তৃষ্ণামাত্রাত্মকো বংধস্তন্নাশো মোক্ষ উচ্যতে ।
ভবাসংসক্তিমাত্রেণ প্রাপ্তিতুষ্টির্মুহুর্মুহুঃ ॥১০-৪॥
ত্বমেকশ্চেতনঃ শুদ্ধো জড়ং বিশ্বমসত্তথা ।
অবিদ্যাপি ন কিঞ্চিৎসা কা বুভুত্সা তথাপি তে ॥১০-৫॥
রাজ্যং সুতাঃ কলত্রাণি শরীরাণি সুখানি চ ।
সংসক্তস্যাপি নষ্টানি তব জন্মনি জন্মনি ॥১০-৬॥
অলমর্থেন কামেন সুকৃতেনাপি কর্মণা ।
এভ্যঃ সংসারকান্তারে ন বিশ্রাংতমভূন্ মনঃ ॥১০-৭॥
কৃতং ন কতি জন্মানি কায়েন মনসা গিরা ।
দুঃখমায়াসদং কর্ম তদদ্যাপ্যুপরম্যতাম্ ॥১০-৮॥
দশম অধ্যায়ের সারমর্ম :
আসক্তি ত্যাগ (শ্লোক ১-২): কামনা (কাম) ও অর্থকে (সম্পত্তি) শত্রু হিসেবে ত্যাগ করুন। বন্ধু, ভূমি, ধন এবং আত্মীয়-স্বজন—এদের স্বপ্নের মতো ক্ষণস্থায়ী বলে মনে করুন।
সংসার থেকে বিরাগ (শ্লোক ৩): যেখানেই তৃষ্ণা বা আকাঙ্ক্ষা আছে, সেখানেই সংসার (বন্ধন)। প্রৌঢ় বৈরাগ্য বা দৃঢ় অনাসক্তি অবলম্বন করে তৃষ্ণামুক্ত ও সুখী হোন।
বন্ধন ও মুক্তি (শ্লোক ৪): আকাঙ্ক্ষাই বন্ধন, আর তার নাশই মুক্তি। জগতের প্রতি উদাসীন থাকলেই বারবার আনন্দ পাওয়া যায়।
আত্মার স্বরূপ (শ্লোক ৫-৬): আপনি একমাত্র শুদ্ধ চেতনা, আর এই বিশ্ব জড় এবং অসৎ। শরীর, স্ত্রী, রাজ্য—এসব প্রতি জন্মেই নষ্ট হয়, তবুও মানুষ এতে আসক্ত থাকে।
কর্ম থেকে নিবৃত্তি (শ্লোক ৭-৮): ধন, কামনা এবং এমনকি পুণ্যকর্মের প্রতিও উদাসীন হোন, কারণ এগুলিও সংসার চক্রের কারণ। দেহ, মন ও বাক্যের দ্বারা কৃত সমস্ত দুঃখময় কর্ম থেকে নিবৃত্ত হোন।
সংক্ষেপে, দশম অধ্যায়ে জীবনের সমস্ত আসক্তি বর্জন করে আত্মার স্বরূপ উপলব্ধির জন্য চরম বৈরাগ্য অবলম্বনের উপদেশ দেওয়া হয়েছে ।।
