এইদিন ওয়েবডেস্ক,বীরভূম,১৬ আগস্ট : এক সময়ে বীরভূমের বেতাজ বাদশা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে টানা ২২ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । বোলপুর বাইপাস সংলগ্ন সায়গলের ফ্ল্যাটে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বিপুল নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার করা হয়েছে । ওই ফ্লাট থেকে বীরভূম জেলা পুলিশ নগদ ১৩ লক্ষ টাকা, ৭৫০ গ্রামেরও বেশি সোনা এবং ৩০০-র বেশি নানা বেআইনি ও বিতর্কিত সম্পত্তির দলিল পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে । আজই তাকে বীরভূমের সিউড়ি আদালতে তোলা হবে ।
উল্লেখ্য,গোরু পাচার মামলায় বেআইনি সম্পত্তি অর্জন ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগে সিবিআই ও ইডি-র হাতে আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সায়গল হোসেন। প্রায় আড়াই বছর কারাবাসের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে বোলপুরে নিজের ফ্ল্যাটেই বসবাস করছিলেন তিনি ।
পুলিশ সূত্রে খবর,বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে পাথর ও বালি পরিবহনকারী ট্রাকে জাল ডিসিআর ব্যবহার করে রাজ্য সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বীরভূমের পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে । এই বিপুল আর্থিক জালিয়াতির ঘটনার তদন্তের সময় সায়গল হোসেনের নাম উঠে আসে । তবে প্রথমে টুলুর শ্যালকের আবাসন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ । সেখানে পৌঁছে তদন্তকারীরা সরাসরি তল্লাশি শুরু করেন অনুব্রতর প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গলের ফ্ল্যাটে। এরপর দীর্ঘ ২২ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি শেষে সায়গলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, গতকাল টুলু মণ্ডলের পাথর খাদানে ডিসিআর জালিয়াতিকাণ্ডে সিউড়ি থেকে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের হেডক্লার্ক প্রবীর দাসকে গ্রেপ্তার করে মহম্মদ বাজার থানার পুলিশ। টুলু মণ্ডলের সহযোগীদের থেকে বাজেয়াপ্ত বিভিন্ন ডায়েরি ঘেঁটে অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিকের যোগসূত্রের প্রমাণ মিলেছে। তৃণমূল আমলে ডিসিআর জাল করে হাজার হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন টুলু মণ্ডল। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও পুলিশ এখনও তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ইতিমধ্যেই আগাম জামিনের জন্য টুলুর আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন । কিন্তু তার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত ।।
