প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমান ২৮ সেপ্টেম্বর : রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগ সারানোর কথা বলে অথবা টাকার লোভ দেখিয়ে দরিদ্র হিন্দুদের খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার বিস্তর অভিযোগ উঠছে । কিছু কিছু জায়গায় সন্দেহভাজন ধর্মান্তকরণ গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জোরদার প্রতিরোধে নামতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলিকে । এমনই জোরদার প্রতিরোধ হল পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমানের বিজয়রাম দেওয়ানদিঘি এলাকায় । ’’অঙ্কুর নারুলা মিনিস্ট্রিজ’-এর বর্ধমান শাখার বিরুদ্ধে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ তুলে প্রার্থনা স্থলে চড়াও হয়ে হামলা,ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি ও আরএসএস এর সঙ্গে যুক্ত লোকজনের বিরুদ্ধে । ওই খ্রিস্টান সংগঠনটির পক্ষ থেকে এনিয়ে বর্ধামান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ।
‘অঙ্কুর নারুলা মিনিস্ট্রিজ’-এর সদস্য ঋতম দে,চন্দ্রা সাউ ও সংগীতা দাসদের অভিযোগ,রবিবার দুপুরে বিজয়রাম নেড়োদিঘী এলাকার গোপাল ভবনে যীশু খ্রীষ্টের প্রার্থনা চলছিল। সেই সময় বিজেপি ও আরএসএস কর্মীরা জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিতে দিতে সেখানে এসে অশান্তি সৃষ্টি করেন। তাঁরা প্রতিবাদ করতেই বিজেপি ও আরএসএস কর্মীরা সকল প্রার্থনাকারীদের উপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে। তারা কয়েকজনকে রাস্তায় নামিয়ে নিয়ে কান ধরে ওঠবস করায়। মহিলাদেরও তারা রেহাই দেয়নি ।
বর্ধমান থানায় দায়ের করা অভিযোগে ঋতম দে জানিয়েছেন, মারধর করা ছাড়াও প্রার্থনা স্থলে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ-সহ বেশ কিছু সামগ্রী হামলাকারীরা নিয়ে চলে গিয়েছে। তার আরও অভিযোগ,হামলাকারীরা প্রার্থনা সভায় এসে তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তকরণের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনে। তাঁরা নাকি বিদেশ থেকে আর্থিক সাহায্য পান এই অভিযোগও তাঁদের বিরুদ্ধে তোলা হয়। যদিও তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্মান্তকরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে ঋতম দে দাবি করেছেন।
যদিও ওই খ্রিস্টান সংগঠনটির আনা অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে
ভিএইচপি-র যুব সংগঠন বজরং দল । পাল্টা অভিযোগে বজরং দলের সদস্য ইন্দ্রনীল সাঁই বলেন,“এলাকার গরিব মানুষদের আর্থিক অসহায়তার সুযোগ নিয়ে যীশুর প্রার্থনার নামে সনাতনীদের ধর্মান্তরিত করা হচ্ছিল।অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে সনাতীদের ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে,এই অভিযোগ পেয়েই তাঁরা সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।’
যদিও আইন হাতে তুলে নেওয়াকে সমর্থন করেননি বিজেপির জেলা মুখপাত্র শান্তরূপ দে । তিনি বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনাকে বিজেপি সমর্থন করে না। যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তার জন্য পুলিশ ও আইন রয়েছে। কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারেন না। প্রার্থনাস্থলে ঢুকে এইভাবে হামলা চালানো ঠিক নয়। যদি জোর করে সনাতনীদের ধর্মান্তকরণ করা হয়, তার জন্যও পুলিশ রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনই কাম্য নয়।’।

