এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৪ আগস্ট : দেশভাগ এবং দেশভাগের সময় হিন্দু নরসংহারের কালো অধ্যায়ের দিনগুলি সুকৌশলে মানুষকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । এনিয়ে তিনি কংগ্রেস, সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেসের মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন । মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, কংগ্রেসের একটা পরিবারের ক্ষমতালাভের কারনেই ভারত ভাগ হয়েছিল । পাশাপাশি অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের সমর্থনে মিছিল বের করা বামপন্থীদের তীব্র সমালোচনা করে ‘কমিউনিস্টরা বংশানুক্রমিকভাবে বিদেশী’ বলে মন্তব্য করেছেন । সেই সাথে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে দেশভাগ ও হিন্দু নরসংহারের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’বিগত দিনে ৩৪ বছরের কমিউনিস্ট, ওদের বাড়িতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু-স্বামী বিবেকানন্দ ক্ষুদিরাম বসুর ছবি থাকে না । ওদের সব কাকা-জ্যাঠা-বাবা- দাদু-নানা সব বিদেশি । আর পনের বছর যারা ছিলেন তারা সবাই সুরাবর্দির নাতি-নাতনী-পুতি-গুষ্ঠি । এদের মধ্যে রাষ্ট্রবাদের চেতনা ছিলনা । তাই ১৯৪৭ সালের ২০শে জুন, পশ্চিমবঙ্গ আইনসভায় ৫৮-২১ ভোটে পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিল তাকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল “পশ্চিমবঙ্গ দিবস” । আপনারা যে সরকারটা তৈরি করে দিয়েছেন, আমরা সেটা বাতিল করে সত্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছি ।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৬ আগস্ট দিনে সুকৌশলে খেলা হবে দিবস পালন করছিল পূর্বতন সরকার । খেলা- মেলা তো আনন্দের অনুষ্ঠান । কিন্তু যেদিন ১০০০০ হিন্দুকে কোতল করা হয়েছিল সেদিন কিকরে আনন্দ করা যায় ?’ উল্লেখ্য, অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত সরকার । তার প্রতিবাদে এবং পাকিস্তানের সমর্থনে কলকাতার রাজপথে নামে সিপিএম সহ বামপন্থী দলগুলি । সেই সময় বরানগরের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের নেতৃত্বে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা মিছিলকারী বামপন্থীদের মুখে কালি মাখিয়ে দিয়েছিলেন । সজল ঘোষের সেদিনের সেই পদক্ষেপকে আজ সমর্থন করেন মুখ্যমন্ত্রী ।
আজ, ১৪ আগস্ট ‘বিভাজন বিভীষিকা’ স্মরণ দিবসে মৌলালি যুবকেন্দ্রের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’ভারতকে বিভাজিত করার নামে দুটি হিন্দু গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। একটি একাত্তরে বাংলাদেশ, আরেকটি ছেচল্লিশের গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালি গণহত্যা। এসব ভুলব কী করে? গোপাল মুখোপাধ্যায় সেদিন না থাকলে হিন্দুরা শূন্য হয়ে যেত।’
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে দেশভাগ- সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা- হিন্দুনিধন প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘জিন্নার নেতৃত্বে সেদিন ভারতকে বিভাজিত করার নামে ২ হিন্দু গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। আমরা ধরে নিয়েছিলাম, দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগ হবে না। সেদিন ক্ষমতার লোভে দেশভাগ করেছিল কংগ্রেসের একটা পরিবার । বিভীষিকাময় দেশভাগ। আমরা তো সবসময় পূর্ণাঙ্গ, অখণ্ড ভারত চাই।’
বদলের বাংলায় প্রথমবার রাজ্যে পালিত হল ‘বিভাজন বিভীষিকা’ স্মরণ দিবস। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক আগের দিন দেশভাগের জেরে শেকড় ছেঁড়ার যন্ত্রণার কথা স্মরণ করে রাজ্যপাল আরএন রবি এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তা গ্রহণ করে সরকার দিনটি পালন করেছে। তবে এই বিশেষ দিনটি স্মরণে কেন উত্তর কলকাতাকে বেছে নেওয়া হল? তারও জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন,’দেশভাগের পর এই এলাকায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেদিন একমাত্র রুখে দাঁড়িয়েছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি না থাকলে আজ হিন্দুরা থাকতেন না। কলকাতার একটা রাস্তার নাম ছিল সুরাবর্দি না কী। সেটা পালটে আমরা ‘গোপাল মুখার্জি অ্যাভিনিউ’ করেছি। আর সেই নামবদল হতেই কত গবেষণা! এই সুরাবর্দি সেই সুরাবর্দি নয় – আরও কত কী!’ এমন বিভীষিকাময় অধ্যায় যাতে আমরা না ভুলি, তার জন্য দেশভাগের শিকার হওয়া মানুষদের স্মরণে স্মারক নির্মাণের জন্য শিয়ালদহ স্টেশনে ভূমিপূজা হয়েছে ইতিমধ্যেই। বদলের বাংলায় ইতিহাসকে চাক্ষুষ করার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এদিন এমন ১৩ টি বই রাজ্য সরকারের গ্রন্থাগারগুলিতে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যেগুলি দেশভাগ ও তার সমসাময়িক সাম্প্রদায়িক হিংসার উপর রচিত ।।
