এইদিন ওয়েবস্ক,কালনা(পূর্ব বর্ধমান), ০৯ আগস্ট : পূর্ব বর্মমানডেক ক্লানার সফল বিধায়ক সি মজুমদারের “লাবাজি” ও “প্রাণেশের অভিযোগ” সহ অভিযোগের অভিযোগ তুললেন নন্দি স্থানীয় তেওয়ারিগ্রাম এক মহিলা। মহিলার অভিযোগ, নবনির্মিত ভবনের এক অংশে নির্ণয় করা হয়েছে অজুহাত তাদের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেছে। জনসভা নিয়ে তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন রাজ্যের নেতা শমীক ভট্টাচার্যকে একটি চিঠিও বলেছে নন্দিনীদেবী। অন্যদিকে বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার জানিয়েছেন,মহিলা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন । খুব শীঘ্রই তিনি মহিলার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন । পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন যে, আদালত নির্মান কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা না বললেও তিনি নির্মান কাজ চালিয়ে গিয়ে আদালত অবমাননা করেছেন ।
জানা গেছে,কালনা পৌরসভার ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় রয়েছে নন্দিনী তেওয়ারিদের ওই নবনির্মিত ভবনটি । ভবনটির একাংশ “অবৈধ” ভাবে নির্মিত বলে দাবি করে বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ । বৃহস্পতিবার সেই ভবনের মালিক নন্দিনী তেওয়ারি সর্বসমক্ষে সেই তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন । আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কালনা পৌরসভার প্রতিনিধিরা এসে ফের ওই ভবনটি তালা লাগিয়ে সিল করে দিয়ে যায় । ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় পড়ে যায় এলাকায় ।
সংবাদমাধ্যমের কাছে শেয়ার করা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে উদ্দেশ্য করে লেখা ওই চিঠির বিষয়বস্তুতে নন্দিনী তেওয়ারি লিখেছেন, “তোলাবাজি, বাড়িতে লোক নিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং নবনির্মিত বিল্ডিংয়ে বেআইনিভাবে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আবেদন” । তিনি লিখেছেন, ‘কালনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙ্গাপাড়ায় আমার একটি নবনির্মিত বিল্ডিং রয়েছে। উক্ত বিল্ডিংটি কালনা পৌরসভার অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছে এবং এর হোল্ডিং নম্বর- ১৩২।
গত ১২/০৬/২০২৬ তারিখে কালনার নবনির্বাচিত বিধায়ক শ্রী সিদ্ধার্থ মজুমদার এবং কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি শ্রীমতি মৌসুমী মণ্ডল আমাকে ও আমার স্বামীকে কালনার তালবোনা এলাকায় অবস্থিত বিধায়ক কার্যালয়ে রাত প্রায় ১০টায় বিল্ডিং সংক্রান্ত সমস্ত মূল নথিপত্রসহ উপস্থিত হতে বলেন। আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে সমস্ত নথিপত্র প্রদর্শন করলে তাঁরা বলেন যে নথিগুলি নাকি জাল এবং “তেজপাতা”। এরপর তাঁরা অভিযোগ করেন যে আমরা বেআইনিভাবে বিল্ডিং নির্মাণ করেছি এবং বিল্ডিংয়ের কাজ চালিয়ে যেতে হলে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে, অন্যথায় বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এত বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করায় আমরা অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে জানাই যে আমাদের পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর আমাদের সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়।
তিনি লিখেছেন,পরদিন ১৩/০৬/২০২৬ তারিখে বিকেল প্রায় ৫টার সময় কালনার বালী, মাটি, কয়লা, মাফিয়া সুব্রত পাল নামে এক ব্যক্তিকে কয়েকজন লোক নিয়ে আমাদের বাড়িতে পাঠানো হয়। তারা মদ্যপ অবস্থায় আমাদের বাড়িতে এসে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার স্বামীকে যেখানে পাবে সেখানে মেরে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৪/০৬/২০২৬ তারিখে দুপুর প্রায় ১২টার সময় কালনা থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, পুলিশ আমাদের অভিযোগের যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে একই দিন রাতে উল্টে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।পরবর্তীতে ১৫/০৭/২০২৬ তারিখে আমার স্বামী আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তাঁকে প্রায় এক মাস বাড়ির বাইরে আত্মগোপন করে থাকতে হয়।
এরপর তিনি লিখেছেন,এরপর ২৬/০৭/২০২৬ (রবিবার) তারিখে বিধায়ক শ্রী সিদ্ধার্থ মজুমদার কয়েকজন লোক নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসেন এবং ২৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। আমি সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলে তিনি তাঁর লোকজন নিয়ে আমার নবনির্মিত বিল্ডিংয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় ফোন করে আমাদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও এর আগে তিনি কালনা পুরসভার চেয়ারম্যানকে চাপ দিয়ে আমার এই বিল্ডিং এর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করান, এইভাবে আমাকে এবং আমার স্বামীকে দিনের পর দিন চরম হেনস্তা করা হচ্ছে।বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।’
তিনি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে আবেদন জানান, অতএব, আপনার নিকট আমার বিনীত প্রার্থনা, বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করলে আমরা ভয়মুক্তভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারব এবং আমাদের নবনির্মিত বিল্ডিংয়ের তালা খুলে আইনসম্মতভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হব।এর জন্য আমরা আপনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
কালনা পৌরসভার উপপতি তপন পড়েলের দাবি, পৌরসভার বিল্ডিং প্লান না মেনে ভবনট তৈরি করেছেন নন্দিনী তেওয়ারি। ইতিমধ্যেই পৌরসভা সেই কারণে তাকে একটি নোটিশ ধরিয়েছিল। নোটিস অমান্য করেই তিনি ভেতরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন আর সেই কারণেই পৌরসভা ওই বিল্ডিংটিকে সিল করে দেয় বলে এমনই দাবি করেছেন তিনি ।
অন্যদিকে নন্দিনী তেওয়ারি তিনি দাবি করেন, তারা সমস্ত প্ল্যান মেনেই কাজ করেছেন৷ যে সমস্যাটি রয়েছে সেটি আদালতে বিচারাধীন৷ পৌরসভার নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি চিঠিও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কালনার বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার বিজেপি নেত্রী মৌসুমী মন্ডল এবং আর এক বিজেপি নেতা তাদেরকে ডেকে পাঠিয়ে তাদের থেকে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কিন্তু তিনি তা দিতে অস্বীকার করাতেই তাদের নবনির্মিত ভবনে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে ফোন করে বারবার হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নন্দিনীদেবী ।
এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেত্রী মৌসুমী মন্ডল বলেন, উনি এক একবার এক এক রকম কথা বলছেন । কখনো বলছেন ৫০ লাখ টাকা চেয়েছি, কখনো বলছেন ৫০ হাজার, আবার রাজ্য সভাপতি এর কাছে তিনি যে অভিযোগ পাঠিয়েছেন, সেখানে ২৫ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন। এর থেকেই বোঝা যায় যে উনি পুরোপুরি মিথ্যা বলছেন।’।
