এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০৩ মে : মুসলিম বন্ধুকে পূজার অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ করার অপরাধে বাংলাদেশের সিলেটের নবীগঞ্জে এক হিন্দু যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । তার বিরুদ্ধে ধর্মনিন্দার অভিযোগ আনা হয়েছে । ওই হতভাগ্য যুবক হলেন, নবীগঞ্জ পৌর এলাকার শিবপাশা এলাকায় করগাঁও ইউনিয়নের বড় শাখোয়া গ্রামের বাসিন্দা রবিন দেব । ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে । প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের ইসলামি কট্টরপন্থীদের মানসিকতা নিয়ে ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, রবিন দেবদের গ্রামের শ্রী শ্রী গোবিন্দ জিউর আখড়ার দুয়েক আগে বাৎসরিক পূজোর অনুষ্ঠান হয় । সেই কারনে তিনি তার এক ঘনিষ্ঠ মুসলিম বন্ধুকে পুজোয় আসার জন্য নিমন্ত্রণ জানান । মুসলিম বন্ধু পাঞ্জাবি ও মাথায় টুপি পরিহিত অবস্থায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং সেখানে নাচ-গানসহ সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করেন। পরবর্তীতে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে । আর ভিডিওটি দেখে চরম ক্ষিপ্ত হয় ইসলামি কট্টরপন্থীদের দল । কট্টরপন্থীরা রবিন দেবের বিরুদ্ধে ইসলামের অবমাননার অভিযোগ তোলে৷
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি দল রবিন দেবকে আটক রেখে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শরিয়া আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে । পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। পরবর্তীতে রবিন দেবকে নবীগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ মোনায়েম মিয়া তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় ।
অভিযোগকারীদের দাবি, রবিন দেব এক মানসিক ভারসাম্যহীন মুসলিম ব্যক্তিকে পাঞ্জাবি ও টুপি পরিয়ে একটি হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করান এবং সেটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন, যা তাদের মতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আটকের পর রবিন দেব পুলিশের কাছে দাবি করেন, তিনি বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “ভাইরাল” হওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন। তবে এতে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে এ আঘাত লাগতে পারে, সেটা তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করেননি ।
এদিকে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, শ্রী শ্রী গোবিন্দ জিউর আখড়ার পূজা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ ঘটনায় সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়া বা এর দায়ভার সম্পর্কেও তারা স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। নবীগঞ্জের সচেতন মহলের অনেকেই বলছেন, নবীগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান রয়েছে। তাই এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।।
