এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৩ মে : দায়িত্ব পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সরানো হল কালীঘাট থানার ওসি চামেলী মুখার্জীকে । পোলেরহাট থানার অ্যাডিশনাল ওসি বলাই বাগকে কালীঘাটের ওসি করা হয়েছে। গৌতম দাসের বিতর্কিত ছবি পোস্টের পর উল্টোডাঙার মহিলা থানার ওসি করা হয় চামেলী মুখার্জীকে । কিন্তু তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির বিজেপি প্রার্থী মানব গুহ । তার দাবি, চামেলির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে। তিনি চামেলির সঙ্গে ‘বিচারাধীন মামলার আসামি’ শব্দটিও জুড়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, “এরপরেও কি নির্বাচন কমিশন তাঁকে কালীঘাট থানার ওসি রাখবে? অভিযুক্ত আসামি কি করে থানার ওসি হয়, নির্বাচনের সময়?’
অবশেষে কালীঘাট থানার ওসি চামেলী মুখার্জীকে সরানোয় নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মানব গুহ । আজ তিনি কমিশনকে ধন্যবাদ ফেসবুকে পোস্ট করেছেন,’কালীঘাট থেকে সরানো হল চামেলীকে । ধন্যবাদ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে । বিজেপি প্রার্থী মানব গুহের অভিযোগ পেয়ে, তারা কালীঘাট থানার ওসির পদ থেকে রাতারাতি সরিয়ে দিল চামেলী মুখার্জীকে।
সাংবাদিক মানব গুহের করা আলিপুর আদালতে মামলায়, অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার চামেলী মুখার্জিকে কালীঘাট থানার ওসি করা হয়েছিল। আসামি চামেলী মুখার্জি নিজে রাজ্যের লিগ্যাল সেলে উকিলের দাবি করেছে, তার প্রমাণ দিয়েছিলাম। প্রমাণ দেখে নির্বাচন কমিশন তাকে কালীঘাট থানার ওসি রাখল না।
অভিযুক্ত আসামি কি করে থানার ওসি হয়, নির্বাচনের সময়? প্রশ্ন তুলেছিলাম। নির্বাচন কমিশনে কি পুলিশ অফিসার চামেলী মুখার্জি জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আলিপুর আদালতে একটা মামলা চলছে, যেখানে তিনি হাজিরা দেননি, তার বিরুদ্ধে যে কোনদিন আদালত থেকে বডি ওয়ারেন্ট বের হবে। এই প্রশ্ন রয়ে গেল।বলেছিলাম না, মিথ্যা মামলা যারা করবে আর মিথ্যা মামলায় যারা সঙ্গ দেবে, তাদের কাউকে ছাড়ব না…..জয় হিন্দ বন্দেমাতরম ।’
এর আগে তৃণমূলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদারের অভিযোগের ভিত্ততে গৌতম দাসকে কালীঘাট থানা থেকে সরানো হয় । আসলে গৌতম দাস নিজের হোয়াটসঅ্যাপে একটি স্টেটাস দিয়েছিলেন। সেই ছবি দেখা যায় যে, থানার ভিতরে নিজের আসনে বসেই গৌতম দাস অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল হাতে তাক্ করে রয়েছেন ।
জয়প্রকাশের দাবি, এই ধরনের পোস্ট শুধু অস্বস্তিকর নয়, আইনের চোখেও প্রশ্ন তুলতে বাধ্য। তাঁর মতে, কর্তব্যরত অবস্থায় কোনও পুলিশ আধিকারিকের এভাবে অস্ত্র হাতে ছবি পোস্ট করা নিয়মবিরুদ্ধ। পাশাপাশি, অস্ত্র-সহ হুমকিমূলক বার্তা সমাজমাধ্যমে প্রচার করাও কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার পরিপন্থী বলেও দাবি তার । এই বিষয়ে তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে অভিযোগ করেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানান। এরপরই গৌতম দাসকে সরিয়ে উল্টোডাঙার মহিলা থানার ওসি চামেলি মুখার্জিকে কালীঘাট থানার ওসি করা হয়।
উল্লেখ্য,রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন মমতা ব্যানার্জির ভাইকে রাস্তার পাশে এক জায়গায় একাধিকজন বসায় জন্য সতর্ক করে দেন গৌতম দাস । তারপরেই বিতর্কিত ছবি পোস্টের জন্য তৃণমূলের জয়প্রকাশ মজুমদারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে কালীঘাট থানা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়৷।
