এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১৩ অক্টোবর : বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের সামনে গরুর মাংসের পিকনিক করার প্রতিবাদ করার অপরাধে এক হিন্দু ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে । ওই হতভাগ্য ছাত্রের নাম সৈকত হালদার । তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের আবাসিক । তার বিরুদ্ধে ইসলামের নবি হজরত মহম্মদকে নিয়ে কটুক্তি করার মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে । আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে সাময়িক বহিষ্কার ও তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের সামনে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে পিকনিক আয়োজন করেছিল পাকিস্তানপন্থী কিছু ছাত্রছাত্রী । এ নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের হস্তক্ষেপে রান্না শেষ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা অন্যত্র গিয়ে খাবার গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে। যদিও রান্না সম্পন্ন করা হয় মন্দিরের সামনেই ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে আয়োজনটির উদ্দেশ্য, স্থান নির্বাচন এবং মন্দিরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কয়েকটি পোস্টে অভিযোগ করা হয়, রান্নার চুলা তৈরিতে মন্দিরের ইট ব্যবহার করা হয়েছিল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ফেসবুক পেজ ‘জবিয়ান্স’-এ মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্নার আয়োজন নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশের পর মন্তব্যের ঘরে ধর্মীয় অনুভূতি ও উপাসনালয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা যায়। ওই বিতর্কের একপর্যায়ে সৈকত হালদারের বিরুদ্ধে মুসলিমদের নবিকে নিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। পরে কথিত মন্তব্যের স্ক্রিনশট বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ।
জানা গেছে,সৈকত হালদার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী । এখন তার জীবন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে ।।

