এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৩ জুন : ইংল্যান্ডে প্রকাশ্য দিবালোকে সড়কপথে এক ১৭ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ কিশোরীর শিরোচ্ছেদের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে । শুক্রবার বিকেলে ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার প্রদেশের বার্নলির কাছে ব্রিয়ারফিল্ডের রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময় এক বিদেশি অভিবাসী ওই কিশোরীর পিছন দিক থেকে আচমকা ছুটে এসে ছুরি দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে কেটে শিরোচ্ছেদ করার চেষ্টা করে । যদিও কিশোরী কোনো রকমে নিজেকে তার হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ছুটে পালাতে সক্ষম হয় ।সেই দৃশ্যের সিসিটিভি ফুটেজ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ৷ গলায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় ১৭ বছর বয়সী মেয়েটি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । মেয়েটি এখন হাসপাতালে জীবন- মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ।
এর কিছুক্ষণ পরেই হত্যাচেষ্টার সন্দেহে ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক্স-এ এই মর্মান্তিক ফুটেজটি ভাইরাল হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের পুলিশ হামলাকারীর পরিচয়, জাতীয়তা বা অভিবাসন অবস্থা প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে । তবে ওই বিদেশী একজন অচেনা মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে চেয়েছিল, তার কারন এখনো স্পষ্ট নয় ।
ভয়াবহ ফুটেজে দেখা যায়, বার্নলির কাছে ব্রিয়ারফিল্ডের রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময় এক বিদেশি অভিবাসী ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর গলায় ছুরিকাঘাত করছে। ছুরিধারী লোকটি পেছন থেকে অতর্কিতে হামলা করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে। মেয়েটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ।
এদিকে কিয়ের স্টারমারের লেবার পার্টি সরকারের অধীনে গণ অভিবাসন ব্যর্থতা, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে রাস্তায় হিংসা এবং দ্বি-স্তরীয় পুলিশি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই সাম্প্রতিক ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং ইংল্যান্ড জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হচ্ছে । ব্রিটিশদের অভিযোগ,এটা কোনো “হঠাৎ ঘটে যাওয়া অপরাধ” নয়। লাগামহীন গণ-অভিবাসন এবং দ্বি-স্তরীয় পুলিশি ব্যবস্থার ফল এটাই: আমাদের মেয়েরা নিজেদের শহরেই শিকার হচ্ছে, আর ব্যবস্থাটি হামলাকারীদের রক্ষা করছে এবং যে কেউ অভিযোগ করলে তাকে শাস্তি দিচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের সমালোচকরা বলছেন,ব্রিটেনের মেয়েরা এখন স্টারমারের এই বিশাল প্রতিস্থাপন পরীক্ষার আনুষঙ্গিক ক্ষতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা প্রশ্ন তুলেছেন,ব্রিটিশ জনগণ তাদের দেশ পুনরুদ্ধার করার আগে আর কত গলাকাটা আর কত শিশুর মৃত্যু হবে ?
