প্রথমে ইস্যু ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ । বিদেশি অশুভ শক্তির মদতপুষ্ঠ অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও যোগেন্দ্র যাদবদের মদতে হঠাৎ গড়ে ওঠা ভূঁইফোড় গোষ্ঠী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) দেশে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করে নরেন্দ্র মোদীকে সরানোর ষড়যন্ত্র করে । কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয় । কিন্তু ইংরাজি সংবাদমাধ্যম “দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস” রাহুল গাঁধির তোলা “ভোট চুরি”র অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলিকে অক্সিজেন দিয়ে দেয় । যার ভরসায় ফের কেন্দ্রের ক্ষমতা বদল করতে দ্বিতীয় দফার ষড়যন্ত্র চলছে ! অগ্রভাগে সিজেপি থাকলেও পূর্ণ শক্তিতে সমর্থন জানাচ্ছে কংগ্রেস, বামপন্থী ও উগ্র বামপন্থী,সমাজবাদী পার্টি, কালীঘাট তৃণমূলের মত রাজনৈতিক দলগুলি । সমর্থন জানাচ্ছেন প্রকাশ রাজ,নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমির মত বিতর্কিত অভিনেতা অভিনেত্রীরা । এখন প্রশ্ন উঠছে : দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে তারপর আবার দেশের বিভাজন ঘটানোই কি নরেন্দ্র মোদী বিরোধীদের ‘প্ল্যান বি’ ?
এই প্রসঙ্গে কন্নড় বিজেপি নেতা সর্বানপ্রসাদ বালাসুব্রহ্মণ্যনের একটি তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদন খুবই প্রাসঙ্গিক ৷ কংগ্রেস নিজেদের ভোটব্যাংক বাড়াতে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের এদেশে ঢুকিয়ে কিভাবে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটানোর ষড়যন্ত্র চালিয়েছিল তার একটা খন্ডচিত্র তুলে ধরেছেন । যে ষড়যন্ত্র পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জি তার ১৫ বছরের শাসনকালে চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে । সর্বানপ্রসাদ বালাসুব্রহ্মণ্যনের ইংরাজিতে লেখা প্রতিবেদনের অনুবাদ নিচে তুলে ধরা হল :
মোহাম্মদ কামরুদ্দিন একজন পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন। তিনি ইসলামাবাদ থেকে ঢাকা হয়ে এবং তারপর বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে আসামে প্রবেশ করেন। তার একটি পাকিস্তানি পাসপোর্ট ছিল। এরপর তাকে সমস্ত প্রয়োজনীয় ভারতীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়। ভোটার তালিকাতেও তার নাম ছিল। যেহেতু তিনি অর্থায়ন পাচ্ছিলেন, তাই তিনি শীঘ্রই একজন ‘সমাজকর্মী’ হয়ে ওঠেন। ১৯৯৬ সালে, তিনি আসামের যমুনামুখ বিধানসভা কেন্দ্র (নং ৯০) থেকে বিধানসভা নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন!
সেই সময় রাজীব গান্ধীর প্রাক্তন ক্যাবিনেট সচিব এবং গান্ধী পরিবারের সভাসদ টি. এন. শেষান ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার! এবং মজার ব্যাপার হলো, টি. এন. শেষান, যিনি একজন ‘পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারী প্রার্থী এবং বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ভোটারদের’ গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ণ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন, তাঁকেই সেই সময়ে একজন ‘শক্তিশালী, কঠোর এবং সৎ কর্মকর্তা’ হিসেবে ব্যাপক প্রচার দেওয়া হয়েছিল! কিছু মানুষ এখনও সেই ঘোর থেকে বের হতে পারেনি।
যাইহোক, যেহেতু টি. এন. শেষানের প্রসঙ্গ উঠেছে, তাই আরও একটি তথ্য জানাই। পি. ভি. নরসিমা রাও সরকার নির্বাচন কমিশনে পরিবর্তন এনে আরও দুজন কমিশনার নিয়োগ করেছিল। বর্তমানে আমরা যে তিনজন নির্বাচন কমিশনার থাকার ব্যবস্থা দেখি, তার সূচনা সেই সময় থেকেই হয়েছিল। এই বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ্য করুন: তাঁদের নিয়োগ করেছিলেন ‘নরসিমা রাও, কংগ্রেস নয়’!
গান্ধী পরিবার নরসিমা রাওয়ের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিল এবং আরও অনেক কারণের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম প্রধান একটি কারণ। তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার টি.এন. শেষানের মাধ্যমে গান্ধী পরিবার অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমান ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিল! আজ, যে লোকেরা দুই কমিশনারের প্রতি অবিচার হয়েছে বলে চিৎকার করছে, তারাই এই ব্যবস্থাটিকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিল।
পাঁচ বিচারপতির একটি সাংবিধানিক বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয় এবং ১৯৯৫ সালের ১৪ জুলাই আদালত সর্বসম্মতিক্রমে (৫-০) কংগ্রেসের নেতা শেষানের আবেদন খারিজ করে দেয় এবং বহু-সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনের কাঠামোকে, সেইসাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের সমান অংশগ্রহণকে বহাল রাখে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল : সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিধানটিও আদালত এই রায়ের মাধ্যমেই বহাল রেখেছিল। বর্তমান মামলায় নির্বাচন কমিশন আদালতে এই ১৯৯৫ সালের রায়ের ওপর নির্ভর করবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মতপার্থক্য বা ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু এসআইআর সংক্রান্ত গৃহীত সকল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠের বা সর্বসম্মতভাবে স্থির করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাই বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি লিখেছেন,এবার মূল প্রসঙ্গে ফেরা যাক। ভারতে একজন পাকিস্তানি প্রার্থীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটা কোনো শীর্ষ পর্যায়ের ব্যতিক্রম ছিল না। সময় গড়ানোর সাথে সাথে পরিস্থিতি কেবল খারাপই হয়েছে। ২০০৮ সালে একটি পৃথক মামলায় (‘সায়রা বেগম ও অন্যান্য বনাম আসাম সরকার’), গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি বি. কে. শর্মা একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত করেন — “আসামে কে নির্বাচনে জিতবে তা নির্ধারণে বাংলাদেশি নাগরিকরা কিংমেকার হয়ে উঠেছেন।” এই কথা কোনো বিজেপি নেতা বলেননি, বরং সমস্ত পরিসংখ্যান, তথ্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখার পর আদালত নিজেই বলেছিল!!
সর্বানপ্রসাদ বালাসুব্রহ্মণ্যনের কথায়, যারা এসআইআর-এর বিরোধিতা করছেন, তারা জানেন যে ভারতীয় ভোটাররা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তারা চায় অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের আবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। কিন্তু তারা নিশ্চিত যে এই ইচ্ছা পূরণ হবে না। নির্বাচনে জেতার জন্য মাঠে নেমে মানুষের সমস্যা তুলে ধরা এবং জনগণের জন্য কাজ করার মতো কঠিন পরিশ্রম তারা করতে চায় না। এই লোকগুলোর সাথে জনগণের এক বিরাট ‘বিচ্ছিন্নতা’ রয়েছে। এটি ‘নাচতে না জেনে উঠানকেই দোষ দেওয়া’-র মতো এক করুণ পরিস্থিতি।
তিনি বলেন,সুতরাং, এটা বুঝুন: ভোটার তালিকা ‘শুদ্ধিকরণের’ বিরোধিতা কেবল একটি রাজনৈতিক বিষয় নয়! কংগ্রেস গত ২৬ বছরে ওড়িশায়, ৩৩ বছরে ত্রিপুরায়, ৩৬ বছরে গুজরাটে, ৩৬ বছরে বিহারে, ৩৭ বছরে উত্তর প্রদেশে, ৪৯ বছরে বাংলায় এবং ৫৯ বছরে তামিলনাড়ুতে একবারও সরকার গঠন করতে পারেনি। কংগ্রেস কি কেবল নির্বাচনে জেতার জন্যই এই সবকিছু করছে? না। তারা এখন প্ল্যান বি-তে চলে গেছে।
তারা শতভাগ নিশ্চিত যে, মোদী পরাজিত না হলে বা ক্ষমতাচ্যুত না হলে তাদের পক্ষে ক্ষমতায় আসা অসম্ভব। বিজেপি কিছুটা আত্মতুষ্ট ও অতি আত্মবিশ্বাসী ছিল, যা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে কংগ্রেসের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ করে দিয়েছিল। তারা সেই সুযোগটি নষ্ট করেছে। এরপর থেকে বিজেপি পরবর্তী প্রায় প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনেই (ব্যতিক্রম—তামিলনাড়ু ও কেরালা) দেখিয়ে দিয়েছে যে, বিজেপি এবং মোদী সাধারণত এমন সুযোগ সহজে দেন না।
সেই কারণেই, বাংলার নির্বাচনের পর কংগ্রেস তাদের ‘প্ল্যান বি’ সক্রিয় করেছে — প্রথমে বিশৃঙ্খলা, তারপর গৃহযুদ্ধ, তারপর আবার দেশের বিভাজন, এবং তারপর সেই খণ্ডগুলোর কোনো একটির ওপর শাসন! প্রথম ধাপটি হলো: গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তাদের বিশ্বাস ধ্বংস করা! কংগ্রেস আজ ঠিক তাই করছে না? শান্তভাবে ভেবে দেখুন।
তিনি দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানান, একটি সহজ পরীক্ষা করে দেখুন — আপনার পারিবারিক গ্রুপ, সোসাইটি গ্রুপ বা বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জিজ্ঞাসা করুন যে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম মুছে ফেলা হয়েছে কি না। ৪-৫টি গ্রুপে জিজ্ঞাসা করলেই আপনি প্রায় এক হাজার লোকের একটি নমুনা পেয়ে যাবেন। আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে আপনি এমন একজনকেও খুঁজে পাবেন না যার নাম মুছে ফেলা হয়েছে!
ঠিক এই কারণেই আমি বলছি…যদি আপনি না চান যে আরেকজন পাকিস্তানি মোহাম্মদ কামরুদ্দিনকে ভারতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া হোক… এবং যদি আপনি না চান যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা মোহাম্মদ কামরুদ্দিনের মতো কাউকে বিধানসভা বা সংসদে পাঠাক… তাহলে স্যারের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচারের শিকার হবেন না!একজন ভারতীয় নাগরিক এবং ভারতীয় ভোটার হিসেবে, আমি জ্ঞানেশ কুমারকে আমার পূর্ণ সমর্থন জানাই!! জয় হিন্দ!

