এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৯ সেপ্টেম্বর : মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যে দুর্নীতি হয়নি বলে অভিযোগ । তার মধ্যে অন্যতম হল দুর্গাপুজোর ভুয়া পাস বিক্রির নামে বিশাল অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতি । আর এই দুর্নীতিতে সরাসরি নাম জড়িয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের । আজ মঙ্গলবার সাতসকালেই ইন্দ্রনীল সেনের কসবার ঠিকানার বাড়িতে হানা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট(ইডি) এর একটি দল । কসবার পাশাপাশি হিন্দুস্তান পার্ক, হাইল্যান্ড পার্ক এবং হুগলির সিঙ্গুরে প্রাক্তন মন্ত্রীর বাগানবাড়িতেও একযোগে তল্লাশি অভিযান চলছে ।
ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নেতৃত্বাধীন সংস্থা ‘মাস আর্ট’ (massArt)-এর বিরুদ্ধে ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের জন্য চড়া দামে টিকিট বা পাস বিক্রি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে। আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা প্রতারণা করা হয় বলে অভিযোগ ।
তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পরবর্তী মাস ছয়েকের মধ্যে মধুছন্দা সেনের নেতৃত্বাধীন সংস্থা ‘মাস আর্ট’ (massArt)-এর আত্মপ্রকাশ হয় । নিজেদের ইউনেস্কোর আনুষ্ঠানিক অংশীদার হিসেবে জাহির করে তারা প্রচার চালাতো। এমনকি কোনওরকম অনুমতি ছাড়াই ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এই সংস্থার বিরুদ্ধে। কলকাতার প্রায় চব্বিশটি বাছাই করা পুজোমণ্ডপের প্রিভিউ শো দেখানোর নাম করে চড়া মূল্যে পাস বিক্রি করা হতো। একেকটি পাসের মূল্য ১৭৪৯ টাকা থেকে শুরু করে ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইউনেস্কো ওই মণ্ডপগুলি নির্বাচন করেছে বলে দাবি করা হলেও তার কোনও সত্যতা মেলেনি।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুনে বউবাজার থানায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর পত্নী মধুছন্দা সেন এবং ‘মাস আর্ট’ নামক একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ওই সংস্থাতেই সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন মধুছন্দা। অভিযোগ যে, এই বিশেষ পাস সংগ্রহের জন্য ২০২২ সালে প্রায় ২৯ হাজার, পরের বছর প্রায় ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে ।।
