২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের দিন শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়, যাতে ২৭৯ জনের বেশি নিহত ও ৫০০ জনের বেশি আহত হন। রাজধানী কলম্বো, নিগম্বো ও বাত্তিকালোয়া শহরের তিনটি গির্জা এবং কলম্বোর তিনটি বিলাসবহুল হোটেল শাংরি লা, সিনামন গ্র্যান্ড ও কিংসবুরিতে এই সন্ত্রাসী হামলা হয় । স্থানীয় ইসলামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠী ‘ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত’ (NTJ) এবং আইএস (ISIS) এই হামলার সাথে যুক্ত ছিল। পুরো ঘটনা পরিচালনা করেছিল সন্ত্রাসী নওফার মৌলবী৷
ওই সন্ত্রাসী হামলার ঘনায় শ্রীলঙ্কার আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় এসেছে। নাম উঠে এসেছে পুলাস্থিনি (Pulasthini) নামে এক হিন্দু তরুনীর৷ কিভাবে ওই তরুনী এই সন্ত্রাসী হামলায় জড়াল শুনলে আপনি চমকে যাবেন৷ পুলাস্থিনি ছিলেন একজন হিন্দু নারী, যিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ইস্টার সানডে বোমা হামলার ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়েছিলেন। আর এর নেপথ্যে রয়েছে “লাভ জিহাদ”৷
পড়াশোনার জন্য টিউশন ক্লাসে যাওয়ার সময় মহম্মদ হাসথুনের ( Mohammed Hasthun) সাথে পুলাস্থিনির পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তিনি হাসথুনকে বিয়ে করেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ‘সারা জেসমিন’ (Sara Jasmine) নাম ধারণ করেন। ২০১৯ সালের ইস্টার সানডে বোমা হামলার সময় কাতুয়াপিতিয়ায়( Katuwapitiya) অবস্থিত সেন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চে (St. Sebastian’s Church) যে আত্মঘাতী হামলা হয়েছিল, তার জন্য দায়ী ব্যক্তিটি ছিলেন তাঁরই স্বামী।
খবর অনুযায়ী, সারা জেসমিন সেইনথামারুথুর একটি গোপন আস্তানায় ছিলেন, যেখানে অন্যান্য ইসলামপন্থী চরমপন্থীরাও লুকিয়ে ছিল। সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এই মামলার অন্যতম বড় এক অমীমাংসিত প্রশ্ন হয়ে রয়েছে। ২০১৯ সালের সেইনথামারুথু বিস্ফোরণে তিনি মারা গেছেন কি না—তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন ডিএনএ পরীক্ষায় পরস্পরবিরোধী ফলাফল পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালেও শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। জননিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাপ্ত তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে তিনি হয়তো এখনও জীবিত আছেন। এছাড়া, পরস্পরবিরোধী ডিএনএ প্রমাণের বিষয়ে আরও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ওই হিন্দু মহিলার কাহিনী কেবল ‘পুলাস্থিনি’ থেকে ‘সারা জেসমিন’ হিসেবে ধর্ম পরিবর্তনের গল্প নয়। এটি হিন্দু পরিবারের এক উচ্চশিক্ষিত নারীর গল্প, যাঁর জীবন ধর্ম পরিবর্তন, বিবাহ এবং ইস্টার সানডে-র হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের সংস্পর্শে আসার পর নাটকীয়ভাবে বদলে গিয়েছিল। তাঁর চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে এখনও মতভেদ রয়েছে।।

