এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১০ সেপ্টেম্বর : বিনা অপরাধে একজন নিরীহ সাধুকে প্রায় ২ বছর ধরে জেলে রেখে দিয়েছে বাংলাদেশের ইসলামি মৌলবাদী সরকার । এদিকে ছেলের শোকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয় বৃদ্ধ মা । ছেলের মুখটা একবার দেখার জন্য বারবার আকুতি জানিয়েছিলেন । ছেলেও চেয়েছিলেন মৃত্যু সজ্জায় থাকা মা’কে একবার দেখতে । কিন্তু বাংলাদেশের তারেক রহমান সরকার কুখ্যাত ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদীদের জেল থেকে মুক্তি দিলেও শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার অপরাধে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী ওরফে চিন্ময় প্রভুর জামিন মঞ্জুর করেনি ।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে চিন্ময় প্রভুর মা সন্ধ্যা রানি ধর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে মাত্র ৫ ঘন্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় তাকে । কার্যত সন্ত্রাসীদের মত সন্ন্যাসীকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নে তাঁর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে আনা হয় । আশ্রমে এসে মায়ের নিথর দেহ দেখে আর স্থির থাকতে পারেননি ওই সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী৷ কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি । ইসলামি মৌলবাদী সরকারের এই প্রকার অমানবিকতায় নিন্দার ঝড় উঠেছে বিশ্ব জুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ।
২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর বিনা অপরাধে চিন্ময় প্রভুকে জেলে ঢুকিয়ে দেয় বাংলাদেশের তৎকালীন তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা “মোল্লা” মহম্মদ ইউনুস । মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া ইসলামি স্টেট, আল কায়দার মত কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সন্ত্রাসীদের মুক্তি দিলেও একজন সর্বত্যাগী হিন্দু সন্নাসীকে মুক্তি দেয়নি ইউনুস । কারন,চিন্ময় প্রভু বাংলাদেশের হিন্দুদের আত্মরক্ষার জন্য সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন । এটাই ছিল তার একমাত্র অপরাধ ।
এদিকে সন্নাসী ছেলের সঙ্গে এই প্রকার অমানবিকতা মেনে নিতে পারেননি বৃদ্ধা মা সন্ধ্যা রানিদেবী । হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি । হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেই সময় ধরা পড়ে মারন রোগ ক্যান্সার বাসা বেধেছে তাঁর শরীরে ৷ সম্ভাব্য পরিনতি আঁচ করে সন্ধ্যা রানিদেবী হাসপাতাল থেকে আশ্রমে ফিরে আসেন। বারবার সন্নাসী পুত্রের মুখটা একবার দেখতে চেয়েছিলেন । চিন্ময় প্রভুর আইনজীবীরা তাঁর জামিনের আবেদনও করেন । কিন্তু ইসলামি চরমপন্থী সরকারের মন গলেনি । আজ তাঁর বৃদ্ধা মা প্রয়াত হলে মাত্র ৫ ঘন্টার জন্য সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয় । মায়ের নশ্বর শরীর কবরস্থ করার পরেই ফের তাকে পুরে দেওয়া হয় কারাগারে।
কিন্তু সাইফুল ইসলাম যে আইনজীবী হত্যার অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেটি ছিল কট্টর মৌলবাদী দল জামাত ইসলামি ও বিএনপির মিলিত ষড়যন্ত্র। সেই সময় চট্টগ্রাম আদালতের ভিতরে ছিলেন সন্নাসী । এমনকি হত্যার মুহুর্তের ভিডিও পর্যন্ত লোপাট করে দেওয়া হয়েছে । সেই সময় তাঁর গ্রেপ্তারিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত। কিন্তু বিনা দোষে চিন্ময় প্রভুকে ২ বছর ধরে কারাগারে রাখা হয়েছে ।।
