এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৮ আগস্ট : গতকাল বিকেলে কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক ব্যানার্জির পার্টি অফিসে পুলিশের বিলবোর্ড খোলা নিয়ে ধুন্ধুমার কান্ড বেধে যায় । কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে খুলে দেওয়া হয় তৃণমূলের নামাঙ্কিত বিলবোর্ডটি । সেই সময় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করতে দেখা যায় অভিষেক সমর্থকদের । খোদ অভিষেককে গলদঘর্ম অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কলকাতা পুলিশকে বিষোদগার করতে দেখা যায় । এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে পুলিশের দ্বারা কথিত অত্যাচারিত হওয়া সাংবাদিক ও পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনা নিয়ে অভিষেক ব্যানার্জিকে কটাক্ষ করে বলেছে,’ভাইপো, দেখ কেমন লাগে…..”।
নিজের মিডিয়া হাউসে পুলিশের হানার পুরনো একটি ভিডিও শেয়ার করে মানব গুহ লিখেছেন, ‘ভাইপো, দেখ কেমন লাগে…..ভাইপো আজ খুব গলাবাজি করে ফেসবুক লাইভে এসে বলছিল, “পুলিশ কেন সিভিল ড্রেসে, নোটিশ কোথায়, ওয়ারেন্ট নেই, বিজেপির দলদাস, শুভেন্দুর চাকর, বিজেপির কথায় গুণ্ডাগিরি করছে, আইন ভেঙে কাজ করছে”…..
বলছি কি ভাইপো, সেদিন আমাদেরও সেই একই প্রশ্ন ছিল, নোটিশ কোথায়, ওয়ারেন্ট থাকলে দিন….কর্মফল বলে একটা শব্দ আছে জানিস তো…? পিসির আঁচলের তলায় থেকে গদিতে বসেছিস তো, তোর এসব না জানারই কথা। কর্মফল।
2022 থেকে 2026, মাত্র চার বছরের মধ্যে সেই কর্মফল ভুগলি, যদিও সেদিনের থেকে অনেক কম গেল আজ, আশা করি সেটাও পূরণ হতে দেখব!!! ভাইপো তোকে জেলে যেতে দেখব আর আসল কালপ্রিট গিরিশ পার্ক থানার তৎকালীন ওসি জয়ন্ত ঘোষকেও জেলে যেতে দেখব, খুব তাড়াতাড়ি।
সেদিন প্রশ্ন করেছিলাম, ওয়ারেন্ট কোথায়, নোটিস কোথায় ? সেদিন ভাইপো তোর পাঠানো পুলিশ তার জবাব দেয়নি। গিরিশ পার্ক থানার তৎকালীন ওসি জয়ন্ত ঘোষ (প্রমোশন হয়েছে চটি চেটে কিন্তু শাস্তি পেতেই হবে, কেস চলছে, তোলা হবে না, জেলে যাবেই) তোমার চামচাগিরি করে বিনা কাগজে তুলে নিয়ে গিয়েছিল সাংবাদিক মানব গুহ কে, আজ তোমার পালা ভাইপো…।”
তিনি লিখেছেন,”আজ তোর কেঁদে কেঁদে আর্তনাদ আমাদের সবার প্রাণ জুড়িয়ে দিয়েছে। অনেকদিন পরে (সেই তোর ডিম থেরাপির পর) আজ এরকম বন্য আনন্দ পেলাম। এত তাড়াতাড়ি এই আর্তনাদ শুনতে পাব, আশাই করিনি।
ভালো লাগছে….সেদিন মানব গুহ আজকের মানব গুহের মত এত জনপ্রিয় ছিল না, কিন্তু আমার মত যারা আজ ভাইপোকে দেখে বন্য আনন্দ পেয়েছে, সেদিন তারা পাশেই ছিল আজকের মতোই….আসল খুশি সেদিন হব, যেদিন ভাইপো তুই গ্রেফতার হবি।
পুনশ্চ:- ভিডিও রইল প্রমাণ স্বরূপ, ভুলে না যাবার জন্য৷ যেমন কর্ম তেমন ফল, তোর শয়তানি তোকে আর তোর পিসিকে বারবার দেখাব। আর কলকাতা পুলিশের সেই অফিসারদের দেখাব, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিল। শাস্তি সবাইকে পেতেই হবে। আমি কাউকে ছাড়ব না।” তিনি কলকাতা পুলিশ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও অভিষেক ব্যানার্জিকে ট্যাগ করেন ।
প্রসঙ্গত,গতকাল বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক ব্যানার্জির দফতরে কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশ অভিযান চালায় । খুলে দেওয়া হয় অঅবৈধভাবে লাগানো তৃণমূলের নামাঙ্কিত বিলবোর্ড। ভবনের ছাদে উঠে পুরকর্মীরা বিলবোর্ড থেকে প্রথমে তৃণমূলের নাম লেখা ব্যানার ছিঁড়ে দেন। পরে বোর্ডটি খুলে ফেলেন। এনিয়ে পুরকর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়ান অভিষেক । এমনকি, পুলিশের সঙ্গে অভিষেক অনুগামীদের ধস্তাধস্তি, হাতাহাতিও হয়েছে। সেই সময় দফতর ঘিরে রাখে বিশাল পুলিশবাহিনী । সরকারী কর্মীদের কাজে বাধাদান ও মারধরের অভিযোগে কয়েক জনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় । ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এলাকায় ।
ঘটনাস্থল থেকে ফেসবুক লাইভে এসে বিজেপি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন অভিষেক। তৃণমূল সাংসদের দাবি, মমতা ব্যানার্জিকে ভয় পেয়েই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর দফতরের বিলবোর্ড ভেঙে দিয়েছে পুরসভা।অভিষেক বলেন,’জোর করে তৃণমূলকে শেষ করার চেষ্টা চলছে। বিজেপির এত ভয় কেন? তৃণমূলকে মিটিং-মিছিলের অনুতি দেব না। নেতাদের আক্রমণ করব, পার্টি অফিস ভাঙব, বিলবোর্ড ভাঙব— এত ভয়? শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে চাই, আমরা ঘাসফুল। ঘাস যত কাটবে, ততই বাড়বে।’
বিলবোর্ড খোলার বিষয়ে বিকেলেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। আইনজীবী অর্ক নাগ দ্রুত শুনানি চেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন করেন। বিচারপতি জানিয়েছেন, শুক্রবার বিষয়টি মামলার জন্য মেনশন করা যাবে।।
