এইদিন ওয়েবডেস্ক,নদীয়া,১৯ আগস্ট : ঘৃণামূলক বক্তব্যের মামলায় সমন অমান্য করায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে নদীয়ার কৃষ্ণনগরের তৃতীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত । ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে কৃষ্ণনগরের সাংসদের বিরুদ্ধে। একাধিকবার তাঁকে সমন দেওয়া হলেও, তিনি হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ।
২০২৫ সালের আগস্টে সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে । তা থেকেই ঘটনার সূত্রপাত৷। একটি সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনী এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি । সেই মন্তব্যের পরিপ্রক্ষিতেই কৃষ্ণনগরের এসিজেএম আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। নদীয়ার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ দে গত ১৩ মে এই মামলাটি করেছিলেন। মামলার শুনানির জন্য একাধিকবার তৃণমূল সাংসদকে সশরীরে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বারবার তলব করা সত্ত্বেও তিনি আদালতে হাজিরা দেননি । বারবার নির্দেশ অমান্য করেন মহুয়া৷ কিছুদিন আগে মহুয়া মৈত্র আদালতে যাবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু মহিলা ডিম হাতে আদালত চত্বরে জড়ো হন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ওই ঘটনার পর কৃষ্ণনগরের এই সাংসদের বিরুদ্ধে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তিনি ওই মহিলাদের বোরখা পরার পরামর্শ দেন, যাতে কেউ তাদের চিনতে না পারে । এই ভিডিও বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন কৃষ্ণনগর আদালতে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ফের একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা চয়ন নন্দী দাবি করেন, ‘সাংসদ তার ভিডিও বার্তায় যে বক্তব্য রেখেছেন, তা মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। একই সঙ্গে এটিকে একটি ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, যা উভয় ধর্মের জন্যই অবমাননাকর।’ এরপরই নদিয়ার হোগলবেড়িয়ার থানার মামলা দায়ের হয়। মহুয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৭৯ ধারা (নারীর শ্লীলতাহানি/মর্যাদাহানি ),১৯৬ ধারা (গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উস্কে দেওয়া),২৯৯ ধারা (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত),৩৫১ ধারা (অপরাধমূলক ভয় দেখানো) এবং৩৫৩(২) ধারা (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য) মামলা রজু করা হয় ।
মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট রক্ষাকবচ দিয়েছিল ঠিকই, তবে একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছিল, তদন্ত চলবে। সংসদের অধিবেশন মিটলে থানায় গিয়ে হাজিরা দিতে হবে মহুয়া মৈত্রকে।
হাই কোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান মহুয়া। তার আইনজীবী বিচারকের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য উপস্থিত হলে আদালত চত্বরের বাইরে তিনি হেনস্তার শিকার হতে পারেন। এই সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর আর্জি শুনতে অস্বীকার করে শীর্ষ আদালত।
আজ বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে হাজিরা দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন বিচারক। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাস তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।।
