এইদিন ওয়েবডেস্ক,কোচবিহার,১৩ আগস্ট : কোচবিহারের স্বঘোষিত “মহারাজ” ও বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন রায়ের উসকানিতে নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসু সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক অপমানজনক পোস্ট করছিল একাংশের মানুষ । গতকাল নবান্নে বসে ওই সমস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর অ্যাকশন মোডে পুলিশ । কোচবিহারের ইসলামপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে ৷ ধৃতকে কিরণ কুমার দাস নামে চিহ্নিত করেছে পুলিশ । সাইবার ক্রাইম ও চাকুলিয়া থানার পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয় । আজ বৃহস্পতিবার ধৃতকে পেশ করা হবে ইসলামপুর আদালতে পাঠানো হবে । পুলিশ সূত্রে খবর, নেতাজিকে অপমান করায় এযাবৎ ৬ টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে । সোশাল মিডিয়া থেকে সরানো হয়েছে অন্তত ৮৭ টি পোস্ট ।
কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসু সম্পর্কে প্রকাশ্য মঞ্চে একাধিকবার অসম্মানসূচক মন্তব্য করা রাজ্যসভার সাংসদ নগেন রায়কে কি গ্রেপ্তার করা হবে ? এই বিষয়টিও গতকাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আইন সকলের জন্যই সমান’ তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গেরম মাটিতে দাঁড়িয়ে পূজ্যপাদ প্রাতঃস্মরণীয়, দেশপ্রেমীক, যিনি স্বাধীনতা পাইয়ে দিয়েছেন, সেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সম্পর্কে যারা যেখানে অপমানজনক, অশোভন, আপত্তিজনক শব্দ প্রয়োগ করেছেন সেটা কোনও প্রকৃত ভারতবাসী, রাষ্ট্রবাদী দেশপ্রেমিক স্বীকার করে না। আমরা পশ্চিবঙ্গের মাটিতে এটা করতে দেব না।’ মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই বিষয়ে সাংসদ বা বিধায়কও আইনের উর্ধে নয় ।
উল্লেখ্য, বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন রায় (অনন্ত মহারাজ) এই বিতর্কের জন্মদাতা। সম্প্রতি তাকে আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রাসঙ্গিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়। তাঁর দাবি, আজাদ হিন্দ ফৌজের জওয়ানরা আসলে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অংশ ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি তাঁদের বন্দি করার পর নেতাজির হাতে তুলে দেয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেই সেনাবাহিনীর ‘অপব্যবহার’ করেছিলেন। এর পরে তিনি নেতাজিকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে চিহ্নিত করে দেন। যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে যায় বিজেপি। এনিয়ে বিজেপির কোনও নেতা সেভাবে মুখ খোলেনি। বিজেপির অস্বস্তি আরও বাডড়ে যখন নগেন রায়ের অনুগামীরা ফেসবুকে নেতাজিকে নিয়ে ‘অপমানজনক’ পোস্ট করে তাঁকে খাটো করার চেষ্টা করতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে তা আন্দাজ করতে পেরেই উত্তরবঙ্গ থেকে নিশীথ প্রামাণিক সহ বিজেপির নির্বাচিত বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি উল্লেখ করেন। তারপরই কঠোর অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী।।
