এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৮ আগস্ট : ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান শুক্রবার একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা এই তিনটি আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে সহযোগিতাকে আরও জোরদার করবে বলে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।সৌদি বাদশাহ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সৌদি আরবের ধর্মীয় স্থান মক্কা নগরীতে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।
এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,’এই চুক্তির লক্ষ্য হলো যেকোনো আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা তিনটি দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি তিনটি রাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সকল দিক আরও জোরদার করার সুযোগও প্রদান করে ।’
এটি তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান এবং ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী ও দ্রুত বর্ধনশীল প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী তুরস্ককে একত্রিত করে। এর আগে তুরস্কের হাবেরতুর্ক টিভি চ্যানেল ও অন্যান্য গণমাধ্যম জানিয়েছিল যে, যৌথ সামরিক অভিযান ও প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের অনুমতি দেওয়া সম্ভব। সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে।
গাজা, ইরান এবং লেবানন যুদ্ধসহ অন্যান্য আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই চুক্তিটি হয়েছে। সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে শরিফ বৃহস্পতিবার তিন দিনের সফরে এসে পৌঁছেছেন।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের উপায়, সেইসাথে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং বৃহত্তর নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় বলেছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে শরিফের এই সফর হলেও, তা শুধু তাৎক্ষণিক সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর লক্ষ্য হলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
ভারতের কি এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?
হ্যাঁ। পাকিস্তান একটি উদীয়মান মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কৌশলগত নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সফল হয়েছে, যেখানে তার অংশীদাররা গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।।
