এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৭ আগস্ট : আরজি কর ‘অভয়া’র ধর্ষণ-খুন মামলায় সিবিআইয়ের তদন্তে ফের অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট । বৃহস্পতিবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। শুনানিতে এই প্রকার একটি সংবেদনশীল মামলায় সিবিআইয়ের আগাছা মানসিকতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত । বিচারপতিরা সিবিআইয়ের আইনজীবীর কাছে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, মানুষ আর কতদিন বিচারের অপেক্ষায় বসে থাকবে ? সকলে বিচার চাইছে। যদিও সিবিআইয়ের তরফে এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৮ আগস্ট ধার্য্য করা হয়েছে ।
আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও শীর্ষেন্দু সিংহ রায় আদালতে জানান,শেষ দু’বছরে সিবিআই কী তদন্ত করেছে তার স্পষ্ট রূপরেখা নেই। মায়ের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। ভিডিও রেকর্ডিং আমরা দিয়েছি। শেষ রাতে ১৬ জন ছিল। একজন স্থানীয় ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের টিআই প্যারেড করা হয়। তার পক্ষে কি সম্ভব? সিবিআই আমাদের অতিরিক্ত হলফনামা অনুযায়ী গেলে তদন্তে আরও কিছু উঠে আসত।
পালটা সিবিআইয়ের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদীর দাবি,জুনিয়র চিকিৎসক সৌমিত্র রায় তাঁর সঙ্গে শেষবার ডিনার করেছেন নির্যাতিতা। তাঁর বয়ান এখনও নেওয়া হয়নি। আমরা প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। আমাদের আধিকারিকদের কিছু ভুল হলে নিশ্চয় খতিয়ে দেখবেন। অভয়ার বাবা-মায়ের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন,কেন ওই চিকিৎসককে জেরা করা হল না? কেন তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না?
প্রসঙ্গত,আরজি কর মামলার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে । অভিযোগ যে সিবিআই আরজি করের ওষুধের কালোবাজারির তদন্তে যতটা আগ্রহী, ততটা আগ্রহী নয় ‘অভয়া’র ধর্ষণ-খুনের কিনারা করার বিষয়ে । এই বিষয়ে তৎকালীন তদন্তকারীরা আধিকারিক সীমা পাহুজার ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক ছিল । তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি পর্যন্ত তুলেছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলি ।
এদিন সিবিআইয়ের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদীর দাবি, গত ৭ জুলাই সিট তদন্তভার গ্রহণ করেছে। তাই আরেকটু সময় চেয়ে নেন তিনি। এই কথা শুনে বিরক্ত হয়ে বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, ‘আপনাদের রিপোর্ট থেকেই তথ্যপ্রমাণ নষ্ট, দেহ টেনে আনার উল্লেখ রয়েছে। এর আগে আমরা আপনাদের নির্দেশ দিয়েছিলাম সেটা আপনারা নাকি বুঝতেই পারেননি। এই তো অবস্থা। ঘটনার দিন রাত থেকে শেষ পর্যন্ত কি হয়েছে পুনরায় জানান। আগের তদন্ত যা হয়েছে তা সরিয়ে নতুন করে তদন্ত করুন। এভাবে কতদিন আমরা মামলা বিচারাধীন রাখব? সকলে বিচার চাইছে।’
প্রসঙ্গত, গত ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। কলকাতা পুলিশের তরফে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয় আদালত। তারপর থেকে এই মামলা যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই আছে৷ কয়েক সপ্তাহ আগে সঞ্জয়কে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রিজন ভ্যান থেকে সে চিৎকার করে বলে, ‘আমায় ফাঁসানো হয়েছে ।’ এমনকি সে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের নাম পর্যন্ত নেয় । কিন্তু পুলিশ তাকে তড়িঘড়ি নিয়ে চলে যায় । এখন সিবিআইয়ের ব্যর্থতার কারনে ‘অভয়া’র ধর্ষণ-খুনের ন্যায়বিচার আদপেই হবে কিনা এই সন্দেহ আরও প্রবল হচ্ছে ।।
