প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৪ আগস্ট : এবারে খোদ রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষামন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর হোয়াটসঅ্যাপ সাইবার প্রতারকরা হ্যাক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে । একথা মন্ত্রী নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলসা করে জানিয়েছেন যে,তাঁর পরিচিত মহলে হয় মেসেজ করে টাকা আদায় করা হয়েছে অথবা করছে জনৈক “অভিষেক কুমার” নামে এক প্রতারক । বিষয়টি তিনি বর্ধমান থানার সাইবার সেলকে জানিয়েছেন । ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ।
সোমবার রাতে একটি ভিডিও বার্তায় মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন,’প্রায় আধ ঘন্টা আগে আমার ৯৪৭৪৭৭৮৮৯৮ নম্বরটি হ্যাক হয়েছে। কেউ এই নম্বরে টাকা পাঠাবেন না, কিউআর কোডও পাঠাবেন না। যে আমার ফোন হ্যাক করেছে, তার নাম অভিষেক কুমার। ওই নম্বর থেকেই এই প্রতারণা করা হয়েছে।’ মন্ত্রী আরো জানিয়েছেন,তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হওয়ার পর থেকেই তাঁর পরিচিতদের কাছে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করে মেসেজ পাঠানো শুরু হযেছে। কারও কাছে ৪৫ হাজার, কারও কাছে ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে।বর্ধমান শহরের খালাসিপাড়ার বাসিন্দা ও মন্ত্রীর পরিচিত শেখ সোহরাবের কাছ থেকে প্রথমে ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর ফের টাকা দাবি করা হয়েছে । এমনকি বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খানের কাছেও ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হযেছে বলে অভিযোগ মন্ত্রীর ।
সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন,তাঁর নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে কোনও আর্থিক লেনদেনের অনুরোধ এলে তা যাচাই না করে যেন কোনওভাবেই টাকা পাঠানো না হয়। পাশাপাশি তাঁর এই সতর্কবার্তাটি যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও আবেদনও তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পরেই রাতেই বর্ধমান শহরের কালনাগেটের খাঁপুকুর এলাকায় মন্ত্রীর বাড়িতে ছুটে যায় বর্ধমান থানার সাইবার সেলের পুলিশ । জেলা পুলিশ সুপারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। সাইবার থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় ফের একবার সাইবার প্রতারকদের দৌরাত্ম্য সামনে চলে এলো । যদি খোদ জনপ্রতিনিধিরা সাইবার প্রতারকদের কবলে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় ? এই প্রশ্ন উঠছে ।।
