এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,০৩ আগস্ট : পাকিস্তান ভিত্তিক কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই- মহম্মদের সদস্য হামিম শেখ ও তার প্রেমিকা অর্পিতা সরকার গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে একের পর এক চমক সামনে আসছে ৷ এবারে এই চক্রের আর এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হল হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকা থেকে । ধৃতের নাম আদিত্য সিং ওরফে রাজ । বর্ধমান শহরের অভিজাত এলাকা রেনেসাঁ থেকে ধৃত সন্ত্রাসী হামিম মণ্ডলকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে । হামিমের পূর্ব পরিচিত আদিত্যকে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রায় সম্পর্কীয় তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব ছিল বলে জানতে পেরেছে বেঙ্গল এসটিএফ। ধৃত যুবকের এই চক্রের পেছনে কি কি ভূমিকা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে । আজ ধৃতকে বর্ধমান আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছে এসটিএফ।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে যে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, সেই ঘটনার সঙ্গেই সরাসরি যোগ রয়েছে ধৃত আদিত্যের। কিছুদিন আগে পাকিস্তানের “আবিদ জাঠ” মন্ত্রী উমেশ রাইকে ফোন করে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা এবং তাঁর পুত্রকে অপহরণ করার হুমকি দিয়েছিল। সেই সময় দাবি করা হয়েছিল যে, মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের প্রতিটি মুহূর্তের গোপনীয় তথ্য ওই চক্রের হাতে রয়েছে। তদন্তে নেমে এসটিএফ জানতে পেরেছে, হাওড়ার এই মন্ত্রী ও তাঁর পরিবার সংক্রান্ত সমস্ত সংবেদনশীল তথ্য বাইরে পাচার করার মূল দায়িত্বে ছিল এই আদিত্য সিংহ। সে নিয়মিত সেই তথ্যগুলি সন্ত্রাসী হামিম মণ্ডলের কাছে সরবরাহ করত।
এর আগে এই সন্ত্রাসী চক্রের মূল পাণ্ডা হামিম মণ্ডলকে বর্ধমান থেকে এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় নাশকতা পরিকল্পনা কষেছিল তারা। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই চক্রের মূল নিশানায় ছিলেন রাজ্যের একাধিক বিজেপি ও আর এস নেতা, যার মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীও রয়েছেন। পরিকল্পনা ছিল মন্দিরেও নাশকতা ঘটানোর । নিউটাউনে কিছু দিন থাকার সময় হামিম মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের রাস্তা এবং কোন সময়ে তাঁর নিরাপত্তা সবচেয়ে কম থাকে, তা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় রেকি করেছিল। এছাড়া বিভিন্ন মন্দিরের ছবিও মিলেছে অর্পিতার মোবাইল ফোন থেকে । তবে তদন্তে জানা গেছে, এই পুরো চক্রে অর্পিতা সরকারকে মূলত ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করা হতো। বিভিন্ন নেতা, মন্ত্রী ও সরকারি আমলাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁদের কাছ থেকে গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নিত অর্পিতা।
এদিকে হামিম সম্পর্কে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে এস টি এফের তদন্তে । সেটা হল, হাওড়ার পিলখানার ৭ নম্বর আলম মিস্ত্রি লেন এলাকার একটি বাড়ির দুটি ঘরে দীর্ঘদিন ধরে জামার ট্যাগ তৈরির কাজ চালাচ্ছিল হাকিম। এই কারখানার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তার বাবা মইনুদ্দিন মন্ডলও ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ১১ মাসের চুক্তিতে ওই বাড়ির দুটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন হামিম ও তার বাবা। মাসিক ভাড়া ছিল ১১ হাজার টাকা। কারখানায় মূলত জামার ট্যাগ তৈরির কাজ হতো। হামিম ও তার বাবা ছাড়াও এখানে আরও এক মহিলা কর্মী কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, গত ৪-৫ দিন ধরে কারখানাটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ভিতরে কোনও কাজকর্ম হচ্ছে না। এলাকার লোকজন মাস দুয়েজ আগে শেষবার হামিমকে কারখানায় দেখেছেন। তারপর থেকে তার গতিবিধি সম্পর্কে কেউ কিছু জানেন না। ঘটনার জেরে হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং হামিমের নিখোঁজ থাকার খবর ছড়াতেই গোটা আলম মিস্ত্রি লেন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বিধায়ক তথা মন্ত্রী উমেশ রায় জানিয়েছেন, টাকার বিনিময়ে পাকিস্তানি জঙ্গিদের মদত দেওয়া, তথ্য পাচার করা এবং ভিডিও বানিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করা এই সমাজবিরোধীদের উপযুক্ত শাস্তি মিলবেই । এসটিএফ পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং এই ষড়যন্ত্রে জড়িত একজনও ছাড় পাবে না। রাষ্ট্রের বিরোধী যারা তাদের কড়া শাস্তি হবে ।।
