এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৬ জুলাই : ইরান -সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে তার ফ্লাইট পরিবর্তন করতে বাধ্য হন বলে জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া একটি নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে করে তুরস্কে পৌঁছান। তবে, সেখানে থাকাকালীন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্ভরযোগ্য তথ্য পায় যে, ইরানপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।এরপর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে নতুন বিমানের পরিবর্তে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই ভ্রমণ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সেই পরামর্শও মেনে বিমান পরিবর্তন করেন।
কর্মকর্তাদের মতে, হুমকিটি শুধু নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বলা হয়েছিল যে, এর উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্প এবং তিনি যে বিমানে ভ্রমণ করছেন, সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা।হোয়াইট হাউস প্রাথমিকভাবে ফ্লাইট পরিবর্তনটিকে একটি রুটিন প্রক্রিয়া বলে অভিহিত করলেও, কর্মকর্তারা পরে স্বীকার করেন যে ইরান-সম্পর্কিত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
সে সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, ব্রিটেনে মোতায়েন আমেরিকান সৈন্যদের নতুন বিমানটি দেখার সুযোগ করে দিতে তিনি বিমানটিতে পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে এর পেছনে কোনো নিরাপত্তাজনিত কারণ ছিল না।
এই ঘটনাটি কাতারের সরবরাহ করা নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বলা হচ্ছে যে, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানগুলোতে থাকা কিছু উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও নতুন বিমানগুলোতে স্থাপন করা হয়নি। সম্প্রতি সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ট্রাম্প জবাব দেন, “খুব শীঘ্রই সমস্ত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রায় ১৪ বছরের পুরোনো বিমানটিকে রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার জন্য দ্রুত ও ব্যয়বহুল সংস্কার করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য চলতি বছরের শেষের দিকে বিমানটিকে প্রায় এক মাসের জন্য পরিষেবা থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, “রাষ্ট্রপতির ভ্রমণের জন্য নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। তবে, জরুরি অবস্থার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই সময় রাষ্ট্রপতি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভ্রমণ করবেন।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কে আসা হুমকিটি, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের একটি ষড়যন্ত্র বিষয়ে ইসরায়েলের দেওয়া পৃথক গোয়েন্দা তথ্য থেকে ভিন্ন ছিল। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা ইসরায়েলের দেওয়া তথ্যকে সন্দেহের চোখে দেখতেন, এই বিশ্বাসে যে, ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য এই তথ্য ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
ট্রাম্পের তুরস্ক সফর চলাকালীনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা পুনরায় শুরু করায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে হুমকির জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতাকে, অর্থাৎ আমাকে, লক্ষ্যবস্তু বানাতে চায়। তাদের প্রতিটি তালিকায় আমার নাম আছে। এখন পর্যন্ত আমি ভাগ্যবান। কিন্তু আমি জানি না এটা কতদিন চলবে।”
এদিকে, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারান বলেছেন যে শীর্ষ মার্কিন নেতাদের বিরুদ্ধে হুমকির মাত্রা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
তিনি বলেন,”আমার ২৪ বছরের কর্মজীবনে আমি এমন মাত্রার হুমকি কখনো দেখিনি। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অস্থিতিশীল। শুধু দেশের শীর্ষ নেতাদের জন্যই নয়, স্থানীয় কর্মকর্তাদের জন্যও হুমকির মাত্রা বেড়েছে ।”
কারান এর আগে ট্রাম্পের নিরাপত্তা দলের প্রধান ছিলেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ার বাটলার-এ একটি নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে হত্যাচেষ্টার সময় ট্রাম্পকে রক্ষা করা কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন।।
