এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তরপ্রদেশ,৩০ জুন : উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য অনুদানকে ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ গভীর হচ্ছে। এরই মধ্যে, স্বামী গোবিন্দানন্দ সরস্বতী রবিবার (২৮ জুন, ২০২৬) সরাসরি শঙ্করাচার্য স্বামী অবীমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীকে লক্ষ্য করে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। গোবিন্দানন্দ সরস্বতীর দাবি, রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠিত হওয়া সত্ত্বেও স্বামী অবীমুক্তেশ্বরানন্দ রাম মন্দিরের নামে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছেন এবং পরবর্তীতে সেই তহবিলের অপব্যবহার করেছেন।
স্বামী গোবিন্দানন্দ সরস্বতী এই পুরো বিষয়টি নিয়ে রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এই অনুদান আত্মসাতের মামলায় অবীমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে অবিলম্বে একটি এফআইআর দায়ের করা হোক, অবৈধভাবে সংগৃহীত তহবিলের ১০০% পুনরুদ্ধার করা হোক এবং তাঁর কথিত সম্পত্তি অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করা হোক।
স্বামী গোবিন্দানন্দ সরস্বতী বলেছেন, “অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য যারা অনুদান সংগ্রহ করেছিলেন, স্বামী অবীমুক্তেশ্বরানন্দ তাদের মধ্যে একজন। অবীমুক্তেশ্বরানন্দ ১,০০০ গ্রাম থেকে টাকা ও সোনা সংগ্রহ করেছিলেন। আমার গুরুদেব সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়ে জিতেছিলেন। গুরুজীর সময়েও মানুষ কোটি কোটি টাকা দান করেছিলেন। আমার গুরুদেবের মৃত্যুর পর স্বামী অবীমুক্তেশ্বরানন্দ সেই টাকা ও সোনা চুরি করে নেন।”
নিজের দাবিগুলো পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “রাম মন্দির মামলায় এসআইটি আটজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। একইভাবে, স্বামী অবীমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধেও একটি এফআইআর দায়ের করা উচিত, কারণ ভগবান রামের সম্পত্তি তাঁর দখলে রয়েছে। তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে মন্দিরে উৎসর্গ করা উচিত।”
এই পুরো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রামালয় ট্রাস্ট, যা ১৯৯০-এর দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি.ভি. নরসিংহ রাও-এর আমলে গঠিত হয়েছিল। এর প্রথম সভাপতি ছিলেন প্রয়াত শঙ্করাচার্য স্বামী স্বরূপানন্দ সরস্বতী।২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, রামালয় ট্রাস্টের সচিব স্বামী অবীমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী দেশজুড়ে গ্রামগুলো থেকে ১,০০৮ কিলোগ্রাম সোনা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ‘স্বর্ণ সংগ্রহ সর্পর্যা’ অভিযানের ঘোষণা করেন । বর্তমানে রাম মন্দিরটি শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত হয় এবং রামালয় ট্রাস্ট কর্তৃক সংগৃহীত দান ও সোনার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।।
