৭৯ খ্রিস্টাব্দে ইতালির ভিসুভিয়াস পর্বতের অগ্ন্যুৎপাত, যা শহরটিকে লাভার নিচে চাপা দিয়েছিল,যেটা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবে চিহ্নিত । এই দুর্যোগ এক মুহূর্তে একটি শহর এবং হাজার হাজার মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। আগ্নেয়গিরি থেকে ওঠা লাভা আর পুরু ছাই প্রতিটি পৃষ্ঠতল ঢেকে ফেলেছিল। গরম ধূলিকণা মৃতদেহগুলোর গায়েও লেগে গিয়েছিল। এর ফলে অনেক মৃতদেহ ঠিক যে ভঙ্গিতে মারা গিয়েছিল, সেই ভঙ্গিতেই জীবাশ্মে পরিণত হয়। এই জীবাশ্মাবশেষগুলোর অনেকগুলোই আজও ইতালির জাদুঘরগুলোতে প্রদর্শিত হয়।
এই জীবাশ্মাবশেষগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ‘হস্তমৈথুনরত মানব’-এর দেহাবশেষ। জীবাশ্মটির গঠন এমন একজন যুবকের মতো, যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঘরে শুয়ে হস্তমৈথুন করছিল। এ নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিল, যার মধ্যে অন্যতম হলো, যুবকটি যখন হস্তমৈথুন করছিল, তখন হয়তো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল এবং সে ওই অবস্থাতেই মারা গিয়েছিল। জীবাশ্মটিকেই ‘হস্তমৈথুনরত মানব’ বলা হয়। এমনকি এমনও জল্পনা ছিল যে, যুবকটি মৃত্যুর আগে শেষ সান্ত্বনা হিসেবে হস্তমৈথুন করেছিল।
কিন্তু বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, যুবকটি সেই সময়ে হস্তমৈথুন করছিল না। আগ্নেয়গিরিটি হঠাৎ করে বিস্ফোরিত হয়নি। বিস্ফোরণের আগে যখন ধোঁয়া ও ধুলো চারিদিকে আচ্ছন্ন করেছিল, তখন হস্তমৈথুন করার সময় ছিল না। এছাড়াও, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে বহু মানুষ মারা গিয়েছিল। বিজ্ঞান মনে করে যে, মৃত্যুযন্ত্রণার সময় যুবকটি হয়তো অস্বাভাবিক কোণে পড়ে গিয়েছিল। পম্পেইতে এমন অনেক জীবাশ্ম পাওয়া গেছে যা একইভাবে অদ্ভুত কোণে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ থেকেও এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, উত্তপ্ত আগ্নেয়গিরির বিষাক্ত গ্যাসের কারণে এই মানুষগুলোর মাংসপেশীর অস্বাভাবিক সঞ্চালন ঘটে থাকতে পারে।।
