এইদিন স্পোর্টস নিউজ,২৯ জুন : নাবালিকা মেয়েদের যৌন নিপীড়নের দায়ে তিনটি পৃথক পকসো মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া কেরালা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (কেসিএ) প্রাক্তন কোচ এম মনুকে (৪০) মোট ৯৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও তিনটি মামলার রায় বিচারাধীন থাকায়, মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সর্বশেষ রায়ে, তিরুবনন্তপুরমের ফাস্ট ট্র্যাক বিশেষ আদালত তৃতীয় মামলায় শহরের শ্রীভারাহামের বাসিন্দা মনুকে ৪৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৭৯,০০০ টাকা জরিমানা করেছে। তৃতীয় মামলার রায়টিও দিয়েছেন বিশেষ বিচারক অঞ্জু মীরা বিরলা।আদালত চতুর্থ মামলাতেও মনুকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা স্থগিত রেখেছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৭ ধারা অনুযায়ী আদালত জানিয়েছে যে, এই নতুন দণ্ডাদেশটি পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশগুলোর সাথে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে। এর আগে প্রথম মামলায় মনুকে ১৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দ্বিতীয় মামলায় ৩৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। শনিবার ৪৮ বছরের কারাদণ্ডাদেশের ফলে কামুনিকে মোট ৯৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কিশোরীদের যৌন হয়রানি
কেরালা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে ক্রিকেট কোচিং করানো মনু ২০১৮ সালে একজন কিশোরী খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। সেই সময় মনু ওই খেলোয়াড়কে হুমকি দেন এবং যৌন হেনস্থা করেন। ক্রিকেট কোচের এই কর্মকাণ্ডে হতবাক হয়ে ওই কিশোরী ঘটনার পর প্রশিক্ষণে আসা বন্ধ করে দেন। মনু তার এই জঘন্য কাজ এখানেই থামাননি, তিনি আরও অনেক কিশোরীকে যৌন হয়রানি করেন।
মোট ৬টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে
ভুক্তভোগী তিরুবনন্তপুরম সিটি পুলিশ স্টেশনে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, মনু প্রশিক্ষণে আসা তরুণীদের হুমকি ও যৌন নিপীড়ন করত এবং তাদের ভিডিও রেকর্ড করে বারবার যৌন নিপীড়নের সময় সেই ভিডিওগুলো তাদের দেখাত। একটি অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর, এতে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগের ভিত্তিতে তিরুবনন্তপুরম পুলিশ অভিযুক্ত কোচ মনুকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে মনুর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের ৬টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিরুবনন্তপুরম পকসো ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে এই মামলাগুলোর বিচারকার্য চলছে।।
