উদার অভিবাসন ও মুসলিম তোষামোদি রাজনীতির কারনে কার্যত বারুদের স্তুপ হয়ে গেছে ব্রিটেন । বর্তমানে ব্রিটেনের শাসনক্ষমতায় রয়েছে মধ্য-বাম (Centre-left) দল লেবার পার্টি (Labour Party) । যার প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার (Keir Starmer) । কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ব্রিটিশ মেয়ের ধর্ষণ বা গনধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় স্টারমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ । কারন ধর্ষকদের ৯০ শতাংশের অধিক হল পাকিস্তান, সিরিয়া অথবা আফ্রিকা মহাদেশের ইসলামি রাষ্ট্র থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থী । স্টারমার পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে মানুষের ক্ষোভকে সাময়িকভাবে দমন করতে পারলেও ক্রমশ ভয়ানক আকার ধারন করছে । আজ সোমবার এডিনবরার একটি ঘটনায় তার প্রমান পাওয়া গেলো ।
স্কটল্যান্ডের ৩৬ বছর বয়সী এক যুবক ইসলামপন্থীদের কুকীর্তির প্রতিশোধ হিসেবে ৫ জন মুসলিমকে ছুরিকাঘাত করেছেন। যদিও আরও হামলার আগে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী পুলিশ তাকে ধরে ফেলে । পুলিশ যখন ওই যুবককে রাস্তায় ফেলে তাকে বাগে আনার চেষ্টা করছিল তখন সে চিৎকার করে বলে :”আমি এই হারামজাদা মুসলিম জারজদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করছি, যারা আমাদের অল্পবয়সী মেয়েদের ধর্ষণ করছে!”
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী,এডিনবরায় ৩৬ বছর বয়সী ওই যুবক একটি বড় আকারের ছুরি (ম্যাচেটি) নিয়ে পাঁচজনকে ছুরিকাঘাত করেছে; জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজন সদ্যই মসজিদ থেকে বেরিয়েছিলেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে এগিয়ে এলে ওই ব্যক্তি চিৎকার করে বলে যে, সে মুসলিমদের হাত থেকে “দেশকে রক্ষা করছে”।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে,এই হামলার ঘটনা মুসলিম-বিদ্বেষী প্রচারণার বাস্তব প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে; সমালোচকরা অনলাইন বয়ান বা প্রচারণার সাথে রাজপথে ঘটা হিংসার সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন। হামলার আগের দিনগুলোতে “ধর্ষণকারী দল” (grroming gangs) -কে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক আলোচনা সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দখল করে রেখেছিল—যা ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,গবেষক ও সম্প্রদায়ের নেতারা সতর্ক করে বলছেন যে, এডিনবরার এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ক্রাইস্টচার্চ থেকে কুইবেক সিটি এবং লন্ডন থেকে স্যান ডিয়েগো পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ধারাবাহিক ঘটনারই অংশ এটি। যদিও রাজনীতিবিদ বা অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সাররা হয়তো সরাসরি হিংসায় উসকানি দেন না, তবুও মুসলিমদের ক্রমাগতভাবে ‘বহিরাগত আক্রমণকারী’, ‘অপরাধী’ বা ‘অভ্যন্তরীণ শত্রু’ হিসেবে চিত্রিত করার ফলে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে চরমপন্থীরা মনে করে যে তারা কোনো বিশেষ দায়িত্ব বা আদেশের (ম্যান্ডেট) ভিত্তিতে কাজ করছে। অধিকারকর্মীরা বলছেন, “শব্দের গুরুত্ব অপরিসীম”; তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, আজকের উসকানিমূলক কথাবার্তাই ভবিষ্যতে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।
তবে সংবাদপত্র যাইই দাবি করুক না কেন ব্রিটেনের ক্রম ইসলামিকরণ নিতে তথ্য সমৃদ্ধ একটি প্রতিবেদন লিখেছেন সাইমন এলমার । তিনি ব্রিটেনের ইসলামিকরণের বর্ণনায় লিখেছেন,এক প্রজন্মের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৬ কোটি অভিবাসীর ইউরোপে আগমন মানব ইতিহাসে এত অল্প সময়ের মধ্যে ঘটা সর্ববৃহৎ বহির্গমন। অথচ, আশ্চর্যজনকভাবে, যে দেশগুলোতে তারা অভিবাসন করছে, সেখানকার জনগণের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই এটি সংগঠিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে । আরও খারাপ ব্যাপার হলো, যে কেউ এই বিশ্ব- ঐতিহাসিক ঘটনাটি লক্ষ্য করার সাহস দেখায়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর এর প্রভাব সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত দেওয়া তো দূরের কথা, তাকেই একটি আন্তর্জাতিক প্রচারযন্ত্র বর্ণবাদী, বিদেশবিদ্বেষী, ইসলামবিদ্বেষী বা নিছক ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিক হিসেবে আখ্যায়িত করে। ‘ দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ কেবল এই প্রতিস্থাপনমূলক অভিবাসন কর্মসূচির বাস্তবতাকেই নয়, বরং সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার, দমন এবং অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কৌশলগুলোকেও পরীক্ষা করে।
এই বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গবেষণালব্ধ একটি বই লিখেছেন৷ তিনি লিখেছেন,প্রতিস্থাপন অভিবাসন কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নয়, বরং এটি জাতিসংঘের একটি নীতি যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং গত ২৫ বছর ধরে ইউরোপ ও সমগ্র পশ্চিমা বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ দ্বারা বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি লিখেছেন,এই বইটির প্রথম সংস্করণে এই নীতির অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যগুলো এবং কীভাবে এটি সেইসব কর্পোরেশনকে লাভবান করে যারা এর শর্তাবলী গ্রহণ করার জন্য জাতিসংঘে তদবির করেছিল, তা উন্মোচিত হয়েছিল। এই হালনাগাদকৃত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণে, লেখক এই নীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে যা উপসংহারে পৌঁছেছেন, তার সপক্ষে প্রমাণগুলো পরীক্ষা করেছেন: ইউরোপের ইসলামীকরণ, একটি সভ্যতামূলক বিজয় যা যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে অগ্রসর। ব্রিটেনের সার্বভৌমত্ব এবং ব্রিটিশ জনগণের স্বাধীনতার জন্য এর অর্থ কী হবে, সে সম্পর্কে আমাদের আশঙ্কাকে সমর্থন করার জন্য এখানে তথ্য, বিশ্লেষণ এবং যুক্তি উপস্থাপন করা হলো।
বইটির বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত আকারে তিনি এক্স-এ লিখেছেন,২০১৬ সাল থেকে লন্ডনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাদিক খান, যিনি একজন দ্বিতীয় প্রজন্মের পাকিস্তানি অভিবাসী এবং ধর্মপ্রাণ মুসলিম। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদও একজন পাকিস্তানি মুসলিম। স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারওয়ারও একজন পাকিস্তানি মুসলিম। বর্তমানে ২৬ জন মুসলিম পার্লামেন্ট সদস্য এবং ৪ জন মুসলিম স্কটিশ পার্লামেন্ট সদস্য রয়েছেন—যাদের মধ্যে স্কটল্যান্ডের সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার হামজা ইউসুফও অন্তর্ভুক্ত। ওয়েলশ পার্লামেন্টের ২ জন সদস্য মুসলিম। লন্ডন বরো ‘টাওয়ার হ্যামলেটস’-এর মেয়র লুতফুর রহমান একজন মুসলিম। লন্ডন বরো ‘নিউহ্যাম’-এর মেয়র রোকসানা ফিয়াজও একজন মুসলিম। লন্ডন অ্যাসেম্বলির ২ জন সদস্য মুসলিম। হাউস অফ লর্ডসের ১৮ জন পিয়ার (সদস্য) মুসলিম। এছাড়া ২০২৫ সালে অন্তত ৮ জন আনুষ্ঠানিক মেয়র (যাদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই, তবে যাদের ভূমিকা ব্রিটেনে ইসলামীকরণের বিষয়টিকে স্বাভাবিক করে তোলা) ছিলেন মুসলিম।
তবে যুক্তরাজ্য কেবল রাজনীতিবিদদের দ্বারাই পরিচালিত হয় না; রাষ্ট্রযন্ত্র ও সুশীল সমাজের প্রতিটি স্তরে থাকা আমলা এবং বিপুল সংখ্যক প্রশাসকের দ্বারাও এটি পরিচালিত হয়। ব্রিটেনের রাজধানী শহরের দায়িত্বে এক দশকের জন্য একজন মুসলিমকে বসানো হলো ব্রিটেনে ‘ইসলামীকরণ’ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের একটি অত্যন্ত স্পষ্ট উপায়। স্বরাষ্ট্রসচিবের পদে একজন মুসলিমকে নিয়োগ দেওয়া আর একটি উপায়। ‘অফস্টেড’ (Ofsted)-এর প্রধান হিসেবে একজন মুসলিমকে বসানোও তেমনি আর একটি পদক্ষেপ। কিন্তু যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রব্যবস্থায় মুসলিমদের এই অনুপ্রবেশ কেবল স্থানীয় কাউন্সিলের প্রধান, শহরের মেয়র কিংবা আইনসভা ও ‘হাউজ অফ লর্ডস’-এর সদস্য হিসেবে আসীন বিপুল সংখ্যক মুসলিমের উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর ব্যাপ্তি তার চেয়েও অনেক বেশি।
সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি খুব একটা জানা না থাকলেও, যুক্তরাজ্যকে ইসলামীকরণের লক্ষ্যে মুসলিমরা রাজনৈতিক, বেসামরিক, সামরিক, আইনি, পুলিশ, গণমাধ্যম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিক ও দাতব্য সংস্থার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
যুক্তরাজ্যের সরকার ও সিভিল সার্ভিসের (সরকারি প্রশাসন) আওতায় বর্তমানে ‘হোম অফিস ইসলামিক নেটওয়ার্ক’ (HOIN), ‘এফসিডিও (FCDO) মুসলিম স্টাফ নেটওয়ার্ক’, ‘সিভিল সার্ভিস ইসলামিক সোসাইটি’ (CSIS), ‘সিভিল সার্ভিস মুসলিম নেটওয়ার্ক’ (CSMN) এবং ‘মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ (MPACUK)-এর মতো সংগঠনগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ‘আর্মড ফোর্সেস মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন’ (AFMA) কার্যক্রম পরিচালনা করে।যুক্তরাজ্যের বিচার বিভাগের আওতায় ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ মুসলিম লয়ার্স’ (AML), ‘মুসলিম লয়ার্স হাব’ এবং ‘মুসলিম লয়ার্স অ্যাকশন গ্রুপ’ (MLAG) কাজ করে।
সমান্তরাল শরিয়াহ বিচার ব্যবস্থার অধীনে ‘ইসলামিক শরিয়াহ কাউন্সিল’ (ISC), ‘মুসলিম আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল’ (MAT) এবং ‘মুসলিম ল (শরিয়াহ) কাউন্সিল’ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
যুক্তরাজ্যের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ‘ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ মুসলিম পুলিশ’ (NAMP), মেট্রোপলিটন পুলিশের ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ মুসলিম পুলিশ’ (AMP), ‘ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ মুসলিম পুলিশ’ (AMP), ‘স্কটিশ পুলিশ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন’ (SPMA) এবং ‘সিটি অফ লন্ডন পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন অফ মুসলিম পুলিশ’ (AMP) কার্যক্রম পরিচালনা করে।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম অঙ্গনে বিবিসি মুসলিম নেটওয়ার্ক, চ্যানেল ৪ মুসলিম নেটওয়ার্ক, আইটিভি মুসলিম স্টাফ নেটওয়ার্ক, সেন্টার ফর মিডিয়া মনিটরিং (CfMM), মুসলিম এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (MEND), ইসলাম চ্যানেল, ব্রিটিশ মুসলিম টিভি, মুসলিম টেলিভিশন আহমাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল (MTA International), উম্মাহ চ্যানেল, আহলেবাইত টিভি এবং ৫পিলারস (5Pillars)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
যুক্তরাজ্যের শিক্ষা খাতে মুসলিম টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন ইউকে (MTAUK), অ্যাসোসিয়েশন অফ মুসলিম স্কুলস অ্যান্ড ইনস্টিটিউটস (AMSI), ব্রিটিশ মুসলিম টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ফেডারেশন অফ স্টুডেন্ট ইসলামিক সোসাইটিস (FOSIS)-এর মতো সংগঠনগুলো সক্রিয় রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে ‘ন্যাশনাল মুসলিম স্টাফ নেটওয়ার্ক’ (NMSN) এবং ‘এনএইচএস (NHS) মুসলিম নেটওয়ার্ক’ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থাগুলোর মধ্যে ‘ইসলামিক রিলিফ ইউকে’, ‘মুসলিম হ্যান্ডস ইউকে’, ‘মুসলিম এইড’, ‘উম্মাহ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ (UWT), ‘মুসলিম গ্লোবাল রিলিফ’, ‘ন্যাশনাল জাকাত ফাউন্ডেশন’ (NZF) এবং ‘মুসলিম চ্যারিটি ইউকে’ সক্রিয় রয়েছে।
পাশাপাশি, শরিয়াহ-ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থায় ৫টি পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহ-সম্মত ব্যাংক (আল রায়ান ব্যাংক, গেটহাউস ব্যাংক, ব্যাংক অফ লন্ডন অ্যান্ড দ্য মিডল ইস্ট, ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড এবং আহলি ইউনাইটেড ব্যাংক) কার্যক্রম চালাচ্ছে; এছাড়া ২৫টি প্রচলিত ব্যাংকও রয়েছে যারা সাধারণ আর্থিক সেবার পাশাপাশি শরিয়াহ-সম্মত আর্থিক সেবা প্রদান করে থাকে।
যুক্তরাজ্যে কর্মরত অন্যান্য দেশব্যাপী ইসলামি সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্রিটিশ মুসলিমস’ (AoBM), ‘ব্রিটিশ মুসলিম নেটওয়ার্ক’ (BMN), ‘মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্রিটেন’ (MAB), ‘মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেন’ (MCB) এবং ‘ইসলামোফোবিয়া রেসপন্স ইউনিট’।
তিনি লিখেছেন,আমার বইতে আমি আলোচনা করেছি কীভাবে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন এবং ইসলামি বিশ্বে তাদের অর্থায়নকারীরা যুক্তরাজ্যের সরকার ও পার্লামেন্ট সদস্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারের (লবিং) মাধ্যমে এমন সব আইন প্রণয়ন ও পাস করানোর চেষ্টা করে, যা ব্রিটেনে ইসলামীকরণের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
যুক্তরাজ্যের আইন প্রণয়নের ওপর এ ধরনের মুসলিম গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবের সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হলো—’অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অন ব্রিটিশ মুসলিমস’ (APPG)-এর প্রণীত ‘ইসলাম- বিদ্বেষ’ ও ‘ইসলামোফোবিয়া’-র সংজ্ঞাটি যুক্তরাজ্য সরকারের গ্রহণ করা। ২১ জন মুসলিম এমপি ও ৫ জন মুসলিম ‘পিয়ার’ (উচ্চকক্ষের সদস্য)-সহ শুধুমাত্র মুসলিমদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি ‘আজিজ ফাউন্ডেশন’ থেকে অর্থায়ন পায়। আজিজ ফাউন্ডেশন হলো ২০১৫ সালে আসিফ আজিজ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি দাতব্য সংস্থা; মালাউই-তে জন্মগ্রহণকারী আসিফ আজিজ একজন মুসলিম আবাসন ব্যবসায়ী ও বিলিয়নেয়ার, যার কোম্পানি ‘ক্রাইটেরিয়ন ক্যাপিটাল’-এর ব্রিটেনে ৬ বিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগ রয়েছে এবং যিনি ২০২৪ সাল থেকে আবুধাবিতে কর-নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।
এই মুসলিম সংগঠনগুলো যে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর খুব কাছাকাছি—এমনকি খোদ ক্ষমতার করিডোরের পাশেই যাদের কার্যালয় অবস্থিত—সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করে, তার আরেকটি উদাহরণ হলো ‘সিভিল সার্ভিস মুসলিম নেটওয়ার্ক’। তাদের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
★ সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত মুসলিম সিভিল সার্ভেন্টদের প্রতিনিধিত্ব ও সহায়তা করা, তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা এবং তাদের স্বার্থের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়া।
★ সিভিল সার্ভিসের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক বোঝাপড়া গড়ে তোলা এবং বৈষম্য ও ভুল ধারণাগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।
★ এমন সব বরিষ্ঠ সহযোগীর একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যারা মুসলিম সহকর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে অনুধাবন করেন এবং ধর্মীয় বিষয়াদি সম্পর্কে সচেতনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেন।
তিনি লিখেছেন,নিঃসন্দেহে আমিই একমাত্র ব্রিটিশ নাগরিক নই যিনি বুঝতে পারেন না যে, যুক্তরাজ্যে কেন এমন একটি নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হবে—যদি না ব্রিটেন একটি ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ হওয়ার পরিবর্তে ইতিমধ্যেই এমন কোনো ব্যবস্থায় পরিচালিত হয় যেখানে পাকিস্তানের আদলে শরিয়া আইনের বিভিন্ন দিক কার্যকর রয়েছে। এছাড়া, ব্রিটেনের জনগণের করের টাকায় গড়ে ওঠা এমন অনেকগুলোর মধ্যে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে—যার মূল উদ্দেশ্য ব্রিটেনকে ইসলামীকরণ করা—সেটিকে কেবল সহ্যই নয়, বরং আমাদের সরকারি প্রশাসনে কেন স্থান দেওয়া হবে, তাও বোধগম্য নয়।
আমাদের পুলিশ বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থার মধ্যে মুসলিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সেই মৌলিক নীতিগুলোর পরিপন্থী—যার মধ্যে রয়েছে পুলিশের যুক্তরাজ্যের আইনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা, সেই আইনের অধীনে আদালতের রায় ও সাজা প্রদানের বিষয়টি এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আইনের চোখে সকলের সমান হওয়ার বিষয়টি। ব্রিটিশ জনগণের প্রতি দ্বিমুখী পুলিশি আচরণ, সারা ব্রিটেন জুড়ে অন্তত ১৪৯টি নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় মুসলিম ধর্ষণকারী চক্রের নেটওয়ার্ককে দশকের পর দশক ধরে আড়াল করে রাখা এবং মুসলিম ধর্ষক, খুনি ও সন্ত্রাসীদের প্রতি আদালতের চরম অন্যায় ও পক্ষপাতমূলক রায়—এসবই আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করে যে, যুক্তরাজ্য প্রকৃতপক্ষে ইতিমধ্যেই শরিয়া আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন ঘটিয়ে শিশু -বিবাহের বিষয়টি তদারককারী ৮৫টি পরিচিত শরিয়া আদালতের মতোই—বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন, সমিতি, কমিটি, কাউন্সিল, বেসরকারি সংস্থা (NGO), ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ’ (APPG) এবং নেটওয়ার্ক মিলে এমন এক প্রশাসনিক কাঠামো, আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলেছে যা যুক্তরাজ্যের আইনের আওতাতেই কাজ করে, অথচ তা যুক্তরাজ্যের আইনের স্বাধীন ও বিপরীতমুখী। তারা আমাদের পার্লামেন্ট ও সরকারের কাছে রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের আইন পরিবর্তন করতে চায়। উল্লেখ্য যে, এই বিষয়টি পাকিস্তানের ‘এনফোর্সমেন্ট অফ শরিয়া অ্যাক্ট, ১৯৯১’-এর ৪ ও ১৪ নম্বর ধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; ওই আইন অনুযায়ী, ‘শরিয়ার আলোকে আইনের ব্যাখ্যা করতে হবে’ এবং ‘বিচার ব্যবস্থাকে ইসলামীকরণের জন্য রাষ্ট্রকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।’
পরিশেষে—যদিও ব্রিটিশ সমাজে ইসলামের প্রভাবের বিষয়টি এই তালিকার মাধ্যমে পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব নয়—তবুও এসব সংগঠনের বাইরেও ব্রিটেনে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সন্ত্রাসী শাখা বা অংশ বিদ্যমান। এটি একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় সুন্নি মুসলিম সংগঠন, যা ১৯২৮ সালে মিশরে ইসলাম ও শরিয়া আইনের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
বর্তমানে ব্রিটেনে কার্যক্রম পরিচালনাকারী যেসব প্রতিষ্ঠান ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সহযোগী বা সম্মুখ সংগঠন হিসেবে পরিচিত, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ক্যামব্রিজ এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার লিমিটেড, ইমাজিন (IMA6INE) লিমিটেড, ওয়েম্বলি ট্রি লিমিটেড, ওয়াসলাফরঅল (Waslaforall), ফিউচার গ্র্যাজুয়েটস লিমিটেড, ইয়াস ফর ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট, হোল্ডকো ইউকে প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং নাফেল ক্যাপিটাল পার্টনার্স; সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি এগুলোর সবকটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বস্তুত, এখানে উল্লিখিত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের সাথেই ‘মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেন’ এবং ‘মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্রিটেন’-এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংযোগ রয়েছে—আর এই সংগঠনগুলোর নিজেদেরও ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সাথে সংশ্লিষ্টতা বিদ্যমান।
ব্রিটেনে ইসলামীকরণের প্রক্রিয়া কতটা গভীর হয়েছে, তার একটি বড় প্রমাণ হলো—যে সংগঠনটি মিশর, সৌদি আরব, লিবিয়া, সিরিয়া, জর্ডান, কেনিয়া, বাহরাইন, তাজিকিস্তান, কাজাখস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক মুসলিম দেশ এবং রাশিয়ায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ, সেই সংগঠনটিই যুক্তরাজ্যে অবাধে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা করে যে, তারা তাদের রাষ্ট্রীয় বৃত্তির জন্য অনুমোদিত তালিকা থেকে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাদ দিচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করে যে, ব্রিটিশ ক্যাম্পাসগুলোতে সক্রিয় ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর প্রভাবে আমিরাতের নাগরিকদের মধ্যে উগ্রবাদী মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম ব্রাদারহুড-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের কার্যক্রমের কথা জানা গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের ‘স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ’ (SOAS), কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অফ বার্মিংহাম, ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানচেস্টার, ইউনিভার্সিটি অফ লিডস, ইউনিভার্সিটি অফ ব্র্যাডফোর্ড এবং ইউনিভার্সিটি অফ নিউক্যাসল। একই মাসে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মিশর, লেবানন ও ফিলিস্তিনে সক্রিয় মুসলিম ব্রাদারহুডের বিভিন্ন শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
৯/১১-এর পর থেকে যারা ব্রিটেনে বসবাস করছেন তারা জানেন যে, এই পরিস্থিতি রাতারাতি তৈরি হয়নি; বরং আমরা বারবারই এর বিপরীতে আসা সমস্ত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছি—যেমনটা আজও করে চলেছি। ২০০৬ সালে, যখন টনি ব্লেয়ারের ‘নিউ লেবার’ সরকার যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় ছিল এবং ব্রিটেনে নিট অভিবাসনের হার বছরে আড়াই লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তখন ‘পলিসি এক্সচেঞ্জ’ (Policy Exchange) নামক একটি থিংক-ট্যাঙ্ক ‘হোয়েন প্রগ্রেসিভস ট্রিট উইথ রিঅ্যাকশনারিস’ (When Progressives Treat With Reactionaries) শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর একটি সম্মুখ-সংস্থায় (front) পরিণত হয়েছে। বিশ বছর পর তাদের সেই কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আজ যুক্তরাজ্য পরিচালিত হচ্ছে মুসলিমদের দ্বারা।
তিনি লিখেছেন,আমার নতুন বই ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট অ্যান্ড দ্য ইসলামাইজেশন অফ ব্রিটেন’ (The Great Replacement and the Islamisation of Britain) থেকে একটি অংশ এখানে তুলে ধরা হলো। ব্রিটেন ঠিক কতটা ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে গেছে এবং এটি রুখতে আমরা—অর্থাৎ ব্রিটিশ জনগণ—কী করতে পারি, তা জানতে চাইলে অনুগ্রহ করে আমার বইটির একটি কপি সংগ্রহের কথা বিবেচনা করুন।।
A young Scottish man বামপন্থী সরকারের তোষামোদি নীতির কারনে বারুদের স্তুপ হয়ে গেছে ব্রিটেন, শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে ব্যাপক বেড়েছে মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা, আজ ৫ জন মুসলিমকে ছুরিকাঘাত করে এক স্কটিশ যুবক বলেছেন : “আমি এই হারামজাদা মুসলিম জারজদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করছি, যারা আমাদের অল্পবয়সী মেয়েদের ধর্ষণ করছে”
উদার অভিবাসন ও মুসলিম তোষামোদি রাজনীতির কারনে কার্যত বারুদের স্তুপ হয়ে গেছে ব্রিটেন । বর্তমানে ব্রিটেনের শাসনক্ষমতায় রয়েছে মধ্য-বাম (Centre-left) দল লেবার পার্টি (Labour Party) । যার প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার (Keir Starmer) । কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ব্রিটিশ মেয়ের ধর্ষণ বা গনধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় স্টারমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ । কারন ধর্ষকদের ৯০ শতাংশের অধিক হল পাকিস্তান, সিরিয়া অথবা আফ্রিকা মহাদেশের ইসলামি রাষ্ট্র থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থী । স্টারমার পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে মানুষের ক্ষোভকে সাময়িকভাবে দমন করতে পারলেও ক্রমশ ভয়ানক আকার ধারন করছে । আজ সোমবার এডিনবরার একটি ঘটনায় তার প্রমান পাওয়া গেলো ।
স্কটল্যান্ডের ৩৬ বছর বয়সী এক যুবক ইসলামপন্থীদের কুকীর্তির প্রতিশোধ হিসেবে ৫ জন মুসলিমকে ছুরিকাঘাত করেছেন। যদিও আরও হামলার আগে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী পুলিশ তাকে ধরে ফেলে । পুলিশ যখন ওই যুবককে রাস্তায় ফেলে তাকে বাগে আনার চেষ্টা করছিল তখন সে চিৎকার করে বলে :”আমি এই হারামজাদা মুসলিম জারজদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করছি, যারা আমাদের অল্পবয়সী মেয়েদের ধর্ষণ করছে!”
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী,এডিনবরায় ৩৬ বছর বয়সী ওই যুবক একটি বড় আকারের ছুরি (ম্যাচেটি) নিয়ে পাঁচজনকে ছুরিকাঘাত করেছে; জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজন সদ্যই মসজিদ থেকে বেরিয়েছিলেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে এগিয়ে এলে ওই ব্যক্তি চিৎকার করে বলে যে, সে মুসলিমদের হাত থেকে “দেশকে রক্ষা করছে”।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে,এই হামলার ঘটনা মুসলিম-বিদ্বেষী প্রচারণার বাস্তব প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে; সমালোচকরা অনলাইন বয়ান বা প্রচারণার সাথে রাজপথে ঘটা হিংসার সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন। হামলার আগের দিনগুলোতে “ধর্ষণকারী দল” (grroming gangs) -কে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক আলোচনা সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দখল করে রেখেছিল—যা ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,গবেষক ও সম্প্রদায়ের নেতারা সতর্ক করে বলছেন যে, এডিনবরার এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ক্রাইস্টচার্চ থেকে কুইবেক সিটি এবং লন্ডন থেকে স্যান ডিয়েগো পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ধারাবাহিক ঘটনারই অংশ এটি। যদিও রাজনীতিবিদ বা অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সাররা হয়তো সরাসরি হিংসায় উসকানি দেন না, তবুও মুসলিমদের ক্রমাগতভাবে ‘বহিরাগত আক্রমণকারী’, ‘অপরাধী’ বা ‘অভ্যন্তরীণ শত্রু’ হিসেবে চিত্রিত করার ফলে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে চরমপন্থীরা মনে করে যে তারা কোনো বিশেষ দায়িত্ব বা আদেশের (ম্যান্ডেট) ভিত্তিতে কাজ করছে। অধিকারকর্মীরা বলছেন, “শব্দের গুরুত্ব অপরিসীম”; তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, আজকের উসকানিমূলক কথাবার্তাই ভবিষ্যতে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।
তবে সংবাদপত্র যাইই দাবি করুক না কেন ব্রিটেনের ক্রম ইসলামিকরণ নিতে তথ্য সমৃদ্ধ একটি প্রতিবেদন লিখেছেন সাইমন এলমার । তিনি ব্রিটেনের ইসলামিকরণের বর্ণনায় লিখেছেন,এক প্রজন্মের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৬ কোটি অভিবাসীর ইউরোপে আগমন মানব ইতিহাসে এত অল্প সময়ের মধ্যে ঘটা সর্ববৃহৎ বহির্গমন। অথচ, আশ্চর্যজনকভাবে, যে দেশগুলোতে তারা অভিবাসন করছে, সেখানকার জনগণের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই এটি সংগঠিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে । আরও খারাপ ব্যাপার হলো, যে কেউ এই বিশ্ব- ঐতিহাসিক ঘটনাটি লক্ষ্য করার সাহস দেখায়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর এর প্রভাব সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত দেওয়া তো দূরের কথা, তাকেই একটি আন্তর্জাতিক প্রচারযন্ত্র বর্ণবাদী, বিদেশবিদ্বেষী, ইসলামবিদ্বেষী বা নিছক ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিক হিসেবে আখ্যায়িত করে। ‘ দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ কেবল এই প্রতিস্থাপনমূলক অভিবাসন কর্মসূচির বাস্তবতাকেই নয়, বরং সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার, দমন এবং অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কৌশলগুলোকেও পরীক্ষা করে।
এই বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গবেষণালব্ধ একটি বই লিখেছেন৷ তিনি লিখেছেন,প্রতিস্থাপন অভিবাসন কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নয়, বরং এটি জাতিসংঘের একটি নীতি যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং গত ২৫ বছর ধরে ইউরোপ ও সমগ্র পশ্চিমা বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ দ্বারা বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি লিখেছেন,এই বইটির প্রথম সংস্করণে এই নীতির অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যগুলো এবং কীভাবে এটি সেইসব কর্পোরেশনকে লাভবান করে যারা এর শর্তাবলী গ্রহণ করার জন্য জাতিসংঘে তদবির করেছিল, তা উন্মোচিত হয়েছিল। এই হালনাগাদকৃত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণে, লেখক এই নীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে যা উপসংহারে পৌঁছেছেন, তার সপক্ষে প্রমাণগুলো পরীক্ষা করেছেন: ইউরোপের ইসলামীকরণ, একটি সভ্যতামূলক বিজয় যা যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে অগ্রসর। ব্রিটেনের সার্বভৌমত্ব এবং ব্রিটিশ জনগণের স্বাধীনতার জন্য এর অর্থ কী হবে, সে সম্পর্কে আমাদের আশঙ্কাকে সমর্থন করার জন্য এখানে তথ্য, বিশ্লেষণ এবং যুক্তি উপস্থাপন করা হলো।
বইটির বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত আকারে তিনি এক্স-এ লিখেছেন,২০১৬ সাল থেকে লন্ডনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাদিক খান, যিনি একজন দ্বিতীয় প্রজন্মের পাকিস্তানি অভিবাসী এবং ধর্মপ্রাণ মুসলিম। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদও একজন পাকিস্তানি মুসলিম। স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারওয়ারও একজন পাকিস্তানি মুসলিম। বর্তমানে ২৬ জন মুসলিম পার্লামেন্ট সদস্য এবং ৪ জন মুসলিম স্কটিশ পার্লামেন্ট সদস্য রয়েছেন—যাদের মধ্যে স্কটল্যান্ডের সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার হামজা ইউসুফও অন্তর্ভুক্ত। ওয়েলশ পার্লামেন্টের ২ জন সদস্য মুসলিম। লন্ডন বরো ‘টাওয়ার হ্যামলেটস’-এর মেয়র লুতফুর রহমান একজন মুসলিম। লন্ডন বরো ‘নিউহ্যাম’-এর মেয়র রোকসানা ফিয়াজও একজন মুসলিম। লন্ডন অ্যাসেম্বলির ২ জন সদস্য মুসলিম। হাউস অফ লর্ডসের ১৮ জন পিয়ার (সদস্য) মুসলিম। এছাড়া ২০২৫ সালে অন্তত ৮ জন আনুষ্ঠানিক মেয়র (যাদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই, তবে যাদের ভূমিকা ব্রিটেনে ইসলামীকরণের বিষয়টিকে স্বাভাবিক করে তোলা) ছিলেন মুসলিম।
তবে যুক্তরাজ্য কেবল রাজনীতিবিদদের দ্বারাই পরিচালিত হয় না; রাষ্ট্রযন্ত্র ও সুশীল সমাজের প্রতিটি স্তরে থাকা আমলা এবং বিপুল সংখ্যক প্রশাসকের দ্বারাও এটি পরিচালিত হয়। ব্রিটেনের রাজধানী শহরের দায়িত্বে এক দশকের জন্য একজন মুসলিমকে বসানো হলো ব্রিটেনে ‘ইসলামীকরণ’ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের একটি অত্যন্ত স্পষ্ট উপায়। স্বরাষ্ট্রসচিবের পদে একজন মুসলিমকে নিয়োগ দেওয়া আর একটি উপায়। ‘অফস্টেড’ (Ofsted)-এর প্রধান হিসেবে একজন মুসলিমকে বসানোও তেমনি আর একটি পদক্ষেপ। কিন্তু যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রব্যবস্থায় মুসলিমদের এই অনুপ্রবেশ কেবল স্থানীয় কাউন্সিলের প্রধান, শহরের মেয়র কিংবা আইনসভা ও ‘হাউজ অফ লর্ডস’-এর সদস্য হিসেবে আসীন বিপুল সংখ্যক মুসলিমের উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর ব্যাপ্তি তার চেয়েও অনেক বেশি।
সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি খুব একটা জানা না থাকলেও, যুক্তরাজ্যকে ইসলামীকরণের লক্ষ্যে মুসলিমরা রাজনৈতিক, বেসামরিক, সামরিক, আইনি, পুলিশ, গণমাধ্যম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিক ও দাতব্য সংস্থার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
যুক্তরাজ্যের সরকার ও সিভিল সার্ভিসের (সরকারি প্রশাসন) আওতায় বর্তমানে ‘হোম অফিস ইসলামিক নেটওয়ার্ক’ (HOIN), ‘এফসিডিও (FCDO) মুসলিম স্টাফ নেটওয়ার্ক’, ‘সিভিল সার্ভিস ইসলামিক সোসাইটি’ (CSIS), ‘সিভিল সার্ভিস মুসলিম নেটওয়ার্ক’ (CSMN) এবং ‘মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ (MPACUK)-এর মতো সংগঠনগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ‘আর্মড ফোর্সেস মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন’ (AFMA) কার্যক্রম পরিচালনা করে।যুক্তরাজ্যের বিচার বিভাগের আওতায় ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ মুসলিম লয়ার্স’ (AML), ‘মুসলিম লয়ার্স হাব’ এবং ‘মুসলিম লয়ার্স অ্যাকশন গ্রুপ’ (MLAG) কাজ করে।
সমান্তরাল শরিয়াহ বিচার ব্যবস্থার অধীনে ‘ইসলামিক শরিয়াহ কাউন্সিল’ (ISC), ‘মুসলিম আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল’ (MAT) এবং ‘মুসলিম ল (শরিয়াহ) কাউন্সিল’ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
যুক্তরাজ্যের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ‘ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ মুসলিম পুলিশ’ (NAMP), মেট্রোপলিটন পুলিশের ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ মুসলিম পুলিশ’ (AMP), ‘ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ মুসলিম পুলিশ’ (AMP), ‘স্কটিশ পুলিশ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন’ (SPMA) এবং ‘সিটি অফ লন্ডন পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন অফ মুসলিম পুলিশ’ (AMP) কার্যক্রম পরিচালনা করে।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম অঙ্গনে বিবিসি মুসলিম নেটওয়ার্ক, চ্যানেল ৪ মুসলিম নেটওয়ার্ক, আইটিভি মুসলিম স্টাফ নেটওয়ার্ক, সেন্টার ফর মিডিয়া মনিটরিং (CfMM), মুসলিম এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (MEND), ইসলাম চ্যানেল, ব্রিটিশ মুসলিম টিভি, মুসলিম টেলিভিশন আহমাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল (MTA International), উম্মাহ চ্যানেল, আহলেবাইত টিভি এবং ৫পিলারস (5Pillars)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
যুক্তরাজ্যের শিক্ষা খাতে মুসলিম টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন ইউকে (MTAUK), অ্যাসোসিয়েশন অফ মুসলিম স্কুলস অ্যান্ড ইনস্টিটিউটস (AMSI), ব্রিটিশ মুসলিম টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ফেডারেশন অফ স্টুডেন্ট ইসলামিক সোসাইটিস (FOSIS)-এর মতো সংগঠনগুলো সক্রিয় রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে ‘ন্যাশনাল মুসলিম স্টাফ নেটওয়ার্ক’ (NMSN) এবং ‘এনএইচএস (NHS) মুসলিম নেটওয়ার্ক’ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থাগুলোর মধ্যে ‘ইসলামিক রিলিফ ইউকে’, ‘মুসলিম হ্যান্ডস ইউকে’, ‘মুসলিম এইড’, ‘উম্মাহ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ (UWT), ‘মুসলিম গ্লোবাল রিলিফ’, ‘ন্যাশনাল জাকাত ফাউন্ডেশন’ (NZF) এবং ‘মুসলিম চ্যারিটি ইউকে’ সক্রিয় রয়েছে।
পাশাপাশি, শরিয়াহ-ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থায় ৫টি পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহ-সম্মত ব্যাংক (আল রায়ান ব্যাংক, গেটহাউস ব্যাংক, ব্যাংক অফ লন্ডন অ্যান্ড দ্য মিডল ইস্ট, ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড এবং আহলি ইউনাইটেড ব্যাংক) কার্যক্রম চালাচ্ছে; এছাড়া ২৫টি প্রচলিত ব্যাংকও রয়েছে যারা সাধারণ আর্থিক সেবার পাশাপাশি শরিয়াহ-সম্মত আর্থিক সেবা প্রদান করে থাকে।
যুক্তরাজ্যে কর্মরত অন্যান্য দেশব্যাপী ইসলামি সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্রিটিশ মুসলিমস’ (AoBM), ‘ব্রিটিশ মুসলিম নেটওয়ার্ক’ (BMN), ‘মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্রিটেন’ (MAB), ‘মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেন’ (MCB) এবং ‘ইসলামোফোবিয়া রেসপন্স ইউনিট’।
তিনি লিখেছেন,আমার বইতে আমি আলোচনা করেছি কীভাবে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন এবং ইসলামি বিশ্বে তাদের অর্থায়নকারীরা যুক্তরাজ্যের সরকার ও পার্লামেন্ট সদস্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারের (লবিং) মাধ্যমে এমন সব আইন প্রণয়ন ও পাস করানোর চেষ্টা করে, যা ব্রিটেনে ইসলামীকরণের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
যুক্তরাজ্যের আইন প্রণয়নের ওপর এ ধরনের মুসলিম গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবের সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হলো—’অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অন ব্রিটিশ মুসলিমস’ (APPG)-এর প্রণীত ‘ইসলাম- বিদ্বেষ’ ও ‘ইসলামোফোবিয়া’-র সংজ্ঞাটি যুক্তরাজ্য সরকারের গ্রহণ করা। ২১ জন মুসলিম এমপি ও ৫ জন মুসলিম ‘পিয়ার’ (উচ্চকক্ষের সদস্য)-সহ শুধুমাত্র মুসলিমদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি ‘আজিজ ফাউন্ডেশন’ থেকে অর্থায়ন পায়। আজিজ ফাউন্ডেশন হলো ২০১৫ সালে আসিফ আজিজ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি দাতব্য সংস্থা; মালাউই-তে জন্মগ্রহণকারী আসিফ আজিজ একজন মুসলিম আবাসন ব্যবসায়ী ও বিলিয়নেয়ার, যার কোম্পানি ‘ক্রাইটেরিয়ন ক্যাপিটাল’-এর ব্রিটেনে ৬ বিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগ রয়েছে এবং যিনি ২০২৪ সাল থেকে আবুধাবিতে কর-নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।
এই মুসলিম সংগঠনগুলো যে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর খুব কাছাকাছি—এমনকি খোদ ক্ষমতার করিডোরের পাশেই যাদের কার্যালয় অবস্থিত—সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করে, তার আরেকটি উদাহরণ হলো ‘সিভিল সার্ভিস মুসলিম নেটওয়ার্ক’। তাদের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
★ সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত মুসলিম সিভিল সার্ভেন্টদের প্রতিনিধিত্ব ও সহায়তা করা, তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা এবং তাদের স্বার্থের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়া।
★ সিভিল সার্ভিসের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক বোঝাপড়া গড়ে তোলা এবং বৈষম্য ও ভুল ধারণাগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।
★ এমন সব বরিষ্ঠ সহযোগীর একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যারা মুসলিম সহকর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে অনুধাবন করেন এবং ধর্মীয় বিষয়াদি সম্পর্কে সচেতনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেন।
তিনি লিখেছেন,নিঃসন্দেহে আমিই একমাত্র ব্রিটিশ নাগরিক নই যিনি বুঝতে পারেন না যে, যুক্তরাজ্যে কেন এমন একটি নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হবে—যদি না ব্রিটেন একটি ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ হওয়ার পরিবর্তে ইতিমধ্যেই এমন কোনো ব্যবস্থায় পরিচালিত হয় যেখানে পাকিস্তানের আদলে শরিয়া আইনের বিভিন্ন দিক কার্যকর রয়েছে। এছাড়া, ব্রিটেনের জনগণের করের টাকায় গড়ে ওঠা এমন অনেকগুলোর মধ্যে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে—যার মূল উদ্দেশ্য ব্রিটেনকে ইসলামীকরণ করা—সেটিকে কেবল সহ্যই নয়, বরং আমাদের সরকারি প্রশাসনে কেন স্থান দেওয়া হবে, তাও বোধগম্য নয়।
আমাদের পুলিশ বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থার মধ্যে মুসলিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সেই মৌলিক নীতিগুলোর পরিপন্থী—যার মধ্যে রয়েছে পুলিশের যুক্তরাজ্যের আইনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা, সেই আইনের অধীনে আদালতের রায় ও সাজা প্রদানের বিষয়টি এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আইনের চোখে সকলের সমান হওয়ার বিষয়টি। ব্রিটিশ জনগণের প্রতি দ্বিমুখী পুলিশি আচরণ, সারা ব্রিটেন জুড়ে অন্তত ১৪৯টি নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় মুসলিম ধর্ষণকারী চক্রের নেটওয়ার্ককে দশকের পর দশক ধরে আড়াল করে রাখা এবং মুসলিম ধর্ষক, খুনি ও সন্ত্রাসীদের প্রতি আদালতের চরম অন্যায় ও পক্ষপাতমূলক রায়—এসবই আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করে যে, যুক্তরাজ্য প্রকৃতপক্ষে ইতিমধ্যেই শরিয়া আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন ঘটিয়ে শিশু -বিবাহের বিষয়টি তদারককারী ৮৫টি পরিচিত শরিয়া আদালতের মতোই—বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন, সমিতি, কমিটি, কাউন্সিল, বেসরকারি সংস্থা (NGO), ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ’ (APPG) এবং নেটওয়ার্ক মিলে এমন এক প্রশাসনিক কাঠামো, আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলেছে যা যুক্তরাজ্যের আইনের আওতাতেই কাজ করে, অথচ তা যুক্তরাজ্যের আইনের স্বাধীন ও বিপরীতমুখী। তারা আমাদের পার্লামেন্ট ও সরকারের কাছে রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের আইন পরিবর্তন করতে চায়। উল্লেখ্য যে, এই বিষয়টি পাকিস্তানের ‘এনফোর্সমেন্ট অফ শরিয়া অ্যাক্ট, ১৯৯১’-এর ৪ ও ১৪ নম্বর ধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; ওই আইন অনুযায়ী, ‘শরিয়ার আলোকে আইনের ব্যাখ্যা করতে হবে’ এবং ‘বিচার ব্যবস্থাকে ইসলামীকরণের জন্য রাষ্ট্রকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।’
পরিশেষে—যদিও ব্রিটিশ সমাজে ইসলামের প্রভাবের বিষয়টি এই তালিকার মাধ্যমে পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব নয়—তবুও এসব সংগঠনের বাইরেও ব্রিটেনে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সন্ত্রাসী শাখা বা অংশ বিদ্যমান। এটি একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় সুন্নি মুসলিম সংগঠন, যা ১৯২৮ সালে মিশরে ইসলাম ও শরিয়া আইনের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
বর্তমানে ব্রিটেনে কার্যক্রম পরিচালনাকারী যেসব প্রতিষ্ঠান ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সহযোগী বা সম্মুখ সংগঠন হিসেবে পরিচিত, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ক্যামব্রিজ এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার লিমিটেড, ইমাজিন (IMA6INE) লিমিটেড, ওয়েম্বলি ট্রি লিমিটেড, ওয়াসলাফরঅল (Waslaforall), ফিউচার গ্র্যাজুয়েটস লিমিটেড, ইয়াস ফর ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট, হোল্ডকো ইউকে প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং নাফেল ক্যাপিটাল পার্টনার্স; সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি এগুলোর সবকটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বস্তুত, এখানে উল্লিখিত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের সাথেই ‘মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেন’ এবং ‘মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্রিটেন’-এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংযোগ রয়েছে—আর এই সংগঠনগুলোর নিজেদেরও ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সাথে সংশ্লিষ্টতা বিদ্যমান।
ব্রিটেনে ইসলামীকরণের প্রক্রিয়া কতটা গভীর হয়েছে, তার একটি বড় প্রমাণ হলো—যে সংগঠনটি মিশর, সৌদি আরব, লিবিয়া, সিরিয়া, জর্ডান, কেনিয়া, বাহরাইন, তাজিকিস্তান, কাজাখস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক মুসলিম দেশ এবং রাশিয়ায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ, সেই সংগঠনটিই যুক্তরাজ্যে অবাধে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা করে যে, তারা তাদের রাষ্ট্রীয় বৃত্তির জন্য অনুমোদিত তালিকা থেকে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাদ দিচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করে যে, ব্রিটিশ ক্যাম্পাসগুলোতে সক্রিয় ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর প্রভাবে আমিরাতের নাগরিকদের মধ্যে উগ্রবাদী মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম ব্রাদারহুড-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের কার্যক্রমের কথা জানা গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের ‘স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ’ (SOAS), কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অফ বার্মিংহাম, ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানচেস্টার, ইউনিভার্সিটি অফ লিডস, ইউনিভার্সিটি অফ ব্র্যাডফোর্ড এবং ইউনিভার্সিটি অফ নিউক্যাসল। একই মাসে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মিশর, লেবানন ও ফিলিস্তিনে সক্রিয় মুসলিম ব্রাদারহুডের বিভিন্ন শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
৯/১১-এর পর থেকে যারা ব্রিটেনে বসবাস করছেন তারা জানেন যে, এই পরিস্থিতি রাতারাতি তৈরি হয়নি; বরং আমরা বারবারই এর বিপরীতে আসা সমস্ত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছি—যেমনটা আজও করে চলেছি। ২০০৬ সালে, যখন টনি ব্লেয়ারের ‘নিউ লেবার’ সরকার যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় ছিল এবং ব্রিটেনে নিট অভিবাসনের হার বছরে আড়াই লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তখন ‘পলিসি এক্সচেঞ্জ’ (Policy Exchange) নামক একটি থিংক-ট্যাঙ্ক ‘হোয়েন প্রগ্রেসিভস ট্রিট উইথ রিঅ্যাকশনারিস’ (When Progressives Treat With Reactionaries) শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর একটি সম্মুখ-সংস্থায় (front) পরিণত হয়েছে। বিশ বছর পর তাদের সেই কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আজ যুক্তরাজ্য পরিচালিত হচ্ছে মুসলিমদের দ্বারা।
তিনি লিখেছেন,আমার নতুন বই ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট অ্যান্ড দ্য ইসলামাইজেশন অফ ব্রিটেন’ (The Great Replacement and the Islamisation of Britain) থেকে একটি অংশ এখানে তুলে ধরা হলো। ব্রিটেন ঠিক কতটা ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে গেছে এবং এটি রুখতে আমরা—অর্থাৎ ব্রিটিশ জনগণ—কী করতে পারি, তা জানতে চাইলে অনুগ্রহ করে আমার বইটির একটি কপি সংগ্রহের কথা বিবেচনা করুন।।
