এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৭ জুন : সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার মিলে দেদার বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাসের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দিয়েছে । তৃণমূল তো আবার অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় পরিচয়পত্র পর্যন্ত বানিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ । আর ওই ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির কারনে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বঙ্গের জেলাগুলিতে হিন্দুরাই এখন সংখ্যালঘু হয়ে গেছে । এমনকি নিজের দেশেই তাদের পলায়ন করতে বাধ্য হতে হচ্ছে তারা । এই বিষয়ে ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের বিশেষ মাথাব্যাথা না থাকলেও অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি মুসলিমদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া শুরু হতেই তাদের কার্যত কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে ! ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে গরুর মাংস খেয়ে নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রমান করা সিপিএমের বিকাশ ভট্টাচার্য পুশ ইন করা অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষায় ‘মানবতার বাণী’ শুনিয়ে দিয়েছেন । এবারে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন আরও এক বামপন্থী মহিলা । আর তিনি হলেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-এর এশিয়ার ডেপুটি ডিরেক্টর মীনাক্ষী গাঙ্গুলী ।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলীর কথায়,’ভারত মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা সীমান্তে আটকে রাখছে। ভারত সরকারের উচিত বেআইনিভাবে মানুষ বিতাড়ন অবিলম্বে বন্ধ করা এবং তাদের প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তাদের উচিত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুসলমানদের প্রতি এই হতাশাজনক বিদ্বেষের অবসান ঘটানো।’ কিন্তু বাংলাদেশ নিজের দেশের নাগরিকদের না গ্রহন করার জন্য একটাও শব্দ ব্যয় করেননি তিনি ।
মঙ্গলবার একটি বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউর পক্ষ থেকে তিনি বলেছেন,ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের এই পদক্ষেপ এবং ঠেলে দেওয়া মানুষদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির প্রতিরোধের কারণে দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী শূন্য রেখায় কয়েক ডজন পরিবার আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলছেন, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে তারা শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে ‘পুশ-ইন’ করার অন্তত ২১টি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে।গত মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ‘হিন্দু সংখ্যালঘুগরিষ্ঠ’ ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়ী হওয়ার পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, তার সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির অধীনে বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ আটক করেছে। প্রায় ৫ হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেছেন,পশ্চিমবঙ্গে গত মার্চ মাসের নির্বাচনের ঠিক আগে, ভারতের নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে এবং বিতর্কিত উপায়ে ভোটার তালিকা সংশোধন করে। এর ফলে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। আর এটিই মূলত আটক এবং নির্বাসনের হুমকি সৃষ্টি করেছে।এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের আসাম রাজ্যে একটি ‘ত্রুটিপূর্ণ এবং বৈষম্যমূলক’ নাগরিকত্ব যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার (এনআরসি) ফলে ১৯ লাখের বেশি মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে। সে সময় রাজ্যের হাজার হাজার বাংলাভাষীকে ডিটেনশন সেন্টারে (হোল্ডিং সেন্টার) বন্দি করা হয়।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, “জাতীয়তা যাই হোক না কেন, সশস্ত্র সীমান্ত রক্ষীদের দুটি লাইনের মাঝখানে কাউকে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়। ভারতের উচিত এই নির্মম বহিষ্কার প্রক্রিয়া বন্ধ করা। তাছাড়া উভয় দেশের সরকারেরই নিশ্চিত করা উচিত যে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা যেন কোনোভাবেই মানুষের মৌলিক মানবিক মর্যাদার বিনিময়ে না হয়।”
