এইদিন বিনোদন ডেস্ক,০৫ জুন : ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিনোদন সংস্থা ‘জি’ দেশের প্রথম বহুভাষিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ‘জি শর্ট ফিল্ম কনটেস্ট’-এর মহা সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন প্রজন্মের গল্পকারদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ২০২৬ সালের শুরুতে ঘোষিত এই প্রতিযোগিতাটি দেশজুড়ে উদীয়মান প্রতিভাদের স্মার্টফোনে রেকর্ড করা অনন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলির জন্য একটি মঞ্চ। মোট আটটি ভারতীয় ভাষায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো, চলচ্চিত্র নির্মাণ যেন কেবল কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে তা নিশ্চিত করা । এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি কোণ থেকে আসা বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং গল্পগুলি যেন যথাযথ স্বীকৃতি পায়, তা নিশ্চিত করা।
প্রতিযোগিতাটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ভারতীয় সিনেমার প্রবীণ পরিচালকদের নিয়ে গঠিত একটি জুরি কমিটি বিজয়ী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই মর্যাদাপূর্ণ কমিটিতে রয়েছেন অনুরাগ কাশ্যপ (হিন্দি), রবি যাদব (মারাঠি), নাগ অশ্বিন (তেলুগু), সৃজিত মুখার্জি (বাংলা), পি. সমুদ্রখানি (তামিল), হেমন্ত রাও (কন্নড়) এবং লিজো জোস পেলিসারি (মালয়ালম)।
এর পাশাপাশি, সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত সাংবাদিক রাজীব মাসান্দের নেতৃত্বে জুরি সদস্যদের একটি বিশেষ আলাপচারিতা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গল্প বলার ধরণ, আঞ্চলিক চলচ্চিত্র এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে। মুম্বাইয়ের একটি বিখ্যাত হোটেলে অনুষ্ঠিতব্য এই জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যম প্রধান এবং তরুণ পরিচালকেরা একত্রিত হবেন। আটটি ভাষার বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে; সেরা চলচ্চিত্র, সেরা অভিনেতা, সেরা চিত্রগ্রহণ, সেরা সম্পাদনা, সেরা গল্প, সেরা সঙ্গীত, সেরা কৌতুক অভিনেতা ইত্যাদি বিভাগে বিশেষ জুরি পুরস্কারে সম্মানিত করা হবে।
তরুণ প্রতিভাদের আরও উৎসাহিত করতে, জি নির্বাচিত সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোর সম্প্রচার স্বত্ব অধিগ্রহণ করবে। এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো জি-৫ ওটিটি প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিম করা হবে এবং জি টিভি, জি কন্নড়, জি মারাঠি, জি বাংলা, জি তেলুগু, জি তামিল, জি কেরলম, জি জেস্ট এবং জিং চ্যানেলেও সম্প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে তরুণ গল্পকাররা ডিজিটাল এবং টিভি উভয় মাধ্যমেই একটি প্ল্যাটফর্ম পাবে। এর পাশাপাশি, প্রতিটি ভাষার বিভাগে একজন করে বিজয়ীকে ২ লক্ষ টাকা করে নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে।
‘জি শর্ট ফিল্ম প্রতিযোগিতা’ প্রসঙ্গে পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ বলেন, “জয়-পরাজয়ের মাঝেও শর্ট ফিল্ম আমাদের বিভিন্ন শৈলীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ও নিজেদের গল্প বলতে সাহায্য করেছে। এই প্রতিযোগিতাটি মুক্ত অভিব্যক্তির জন্য একটি জাতীয় মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে।” পরিচালক হেমন্ত রাও বলেন, “চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে আমরা কতটা সাহসের সাথে নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে সমর্থন করি তার উপর। এই মঞ্চটি তরুণ পরিচালকদের কোনো বাধা ছাড়াই নিজেদের গল্প বলার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।”

