এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৪ জুন : মমতা ব্যানার্জির নিজের হাতে তৈরি “মা-মাটি-মানুষ”- এর দল আজ খান খান । গতকালই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন দল “আসল তৃণমূল” । ৬০ জন বিধায়ক মিলে গঠিত দল বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলের খেতাব পেয়ে গেছে । বিরোধী দলনেতা হয়েছেন সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হওয়া ঋতব্রত ব্যানার্জি । তবে “আসল তৃণমূল”-এর তালিকায় যেসমস্ত নাম উঠে আসছে তাতে মমতা ব্যানার্জির কথিত ধর্মনিরপেক্ষ নীতির ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে । কারন তৃণমূলের তাবড় মুসলিম বিধায়করা ভিড়েছেন ঋতব্রতের “আসল তৃণমূল”-এ । তৃণমূলের টিকিটে জেতা ৩৪ জন মুসলিম বিধায়কের মধ্যে ১৭ জনই বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন ।
ঋতব্রতের “আসল তৃণমূল”-এ যোগ দেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের উল্লেখযোগ্য মুসলিম মুখ হল : সামসেরগঞ্জের বিধায়ক মহম্মদ নূর আলম, হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ,লালগোলার বিধায়ক আব্দুল আজিজ(তিনি এনামুক হকের জামাই),ভগবানগোলার বিধায়ক রেয়াত হোসেন, রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আক্রুজ্জামান, বীরভূমের কাজল শেখ,তৌসিফ উর রহমান এবং সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন । এছাড়া বিদ্রোহীদের তালিকায় রয়েছেন জাভেদ খান ।
২০১১ সাল থেকে তৃণমূলকে ঢালাও ভোট দিয়েছেন মুসলিমরা। মুসলিমদের স্থায়ী ভোটব্য়াঙ্ক ধরে নিয়েছিলেন মমতা। ভোটে জিতে মমতা বলেছিলেন : “যে গরু দুধ দেয় তার চাঁট সহ্য করা যায়” । শুধু তাইই নয়,মুসলিম ভোটব্যাংককে সন্তুষ্ট করতে প্রতি বছর রেড রোডে মমতা ব্যানার্জিকে হিজাব পরে নামাজ পড়তেও দেখা গেছে ৷ এছাড়া সরকারে থাকার সময় মুসলিমদের সুবিধার্থে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পও চালু করেন তিনি । এমনকি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মুসলিমদের ভোটব্যাংক বানানোর অভিযোগও উঠেছে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে । কিন্তু এবারের বিধানসভার ভোটে তাঁর সেই তোষামোদি নীতি কাজ করেনি । মুসলিমদের একটা বড় অংশও এবার সিপিএম বা কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকেছে । এছাড়া ফলতার পুনর্নির্বাচনও দেখিয়ে দিয়েছে যে মুসলিম ভোটাররা তৃণমূলের স্থায়ী সম্পত্তি নয়। প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট থাকা ফলতায় জামানত জব্দ হয়েছে তৃণমূলের। আর বুধবারও দেখা গেল তৃণমূলের মুসলিম বিধায়কদের বড় অংশ বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও মমতার পছন্দকে মানলেন না।
‘আসল তৃণমূল’-এ যোগ দেওয়া তৃণমূলের হিন্দু বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন : ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতি,মহেশতলার বিধায়ক শুভাশিস দাস, কুলপির বিধায়ক বর্ণালী ধারা,কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা,সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস, খড়্গপুরের বিধায়ক দিনেন রায়,রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়,রথীন ঘোষ,সন্দীপন সাহা,
চন্দ্রনাথ সিনহা প্রমুখ ৷ রয়েছেন হাওড়া জেলার তিন বিধায়ক । মাসের ৩ তারিখ পর্যন্তও যে তৃণমূলে মমতা ছিলেন শেষ কথা, সেই তাঁকেই এখন নিছক পরামর্শদাতা হিসাবে দেখতে চাইছেন বিদ্রোহী বিধায়করা।।
