ভারতের কোটিপতি ক্রিকেট লিগের জন্ম ২০০৮ সালে। দেখতে দেখতে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ১৯টা মরসুম শেষ। এই বছর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু(আরসিবি) আইপিএল ২০২৬ ফাইনাল জিতে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিজয়ী দলের তারকা খেলোয়াড় বিরাট কোহলির হাতে শোভা পাচ্ছে একটি ঝাঁ চকচকে সোনালি রংয়ের আইপিএল ট্রফি। যার নীচে একাধিক কারুকাজ । ভারতের মানচিত্রও ফুটে উঠেছে ট্রফিতে। আর ট্রফির মাঝখানে লেখা থাকে এক সংস্কৃত শ্লোক । সেই শ্লোকের অর্থ কী জানেন ?
আইপিএলের সুদৃশ্য সোনালি রঙের ট্রফির গায়ে লেখা থাকে এক সংস্কৃত শ্লোক, ‘যত্র প্রতিভা অবসর প্রাপ্যনতি’ (प्रतिभानिवृत्तिलाभः कथं प्राप्नुयात्) । এই শ্লোকের অর্থ কী জানেন? আসলে এটি এক প্রাচীন শাস্ত্রীয় শ্লোক। যার অর্থ – যেখানে প্রতিভার সাথে সুযোগের মিলন ঘটে। সংস্কৃত ভাষায় ট্রফির গায়ে লেখা এই শ্লোকের অর্থ একেবারেই সঠিক। কারণ এই টুর্নামেন্টে প্রচারের আলোয় না থাকা এমন অনেক অপরিচিত ক্রিকেটার সেরা পারফর্ম করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। কয়েকজন তো পারফরম্যান্সের সুবাদে জাতীয় দলেও সুযোগ পেয়েছেন।
“যত্র প্রতিভা অবসর প্রাপ্যনতি” (Yatra Pratibha Avsara Prapnotihi)-এর মানে হলো, আইপিএল এমন একটি মঞ্চ যেখানে প্রতিভা সুযোগ পায় – নিজেকে প্রমাণ করার একটি সুযোগ। ছোট শহর থেকে অনেক খেলোয়াড় আইপিএলে এসে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন এবং তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বড় তারকা হয়ে উঠেছেন।আইপিএল এমন এক মঞ্চ, যেখানে খ্যাতির শিখরে থাকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের সঙ্গে একই দলে একই মর্যাদায় মাঠে নামতে পারেন আনক্যাপড কোনও ক্রিকেটার। ২২ গজে সিনিয়র-জুনিয়রের ভেদাভেদ যেমন থাকে না। তেমনই আইপিএলেও এই ভেদাভেদ নেই। বরং আইপিএল থেকে একাধিক তরুণ তুর্কি উঠে আসেন, যাঁদের প্রতিভা দেখে দেশ-বিদেশের প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও মুগ্ধ হয়ে যান। আর আইপিএল সেই মঞ্চ, যেখানে তরুণ তুর্কিরা নিজের প্রতিভা যেমন প্রকাশ করতে পারেন, তেমনই সিনিয়র ক্রিকেটারের থেকে অনেক কিছু শিখতেও পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, বৈভব সূর্যবংশী আইপিএলের মাধ্যমে তার প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পেয়েছিলেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এর কারণে তিনি একজন বিশাল তারকা হয়ে ওঠেন। আইপিএল প্রতিভাকে সুযোগ করে দেয়। এই কারণেই আইপিএল ট্রফিতে “যাত্রা প্রতিভা অবসর প্রাপ্তিহি” কথাটি লেখা থাকে।।
