এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৭ মে : ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামাসের নবনিযুক্ত সামরিক নেতাকে হত্যা করেছে। হামাস নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করেছে এবং আজ বুধবার নিশ্চিত করেছে যে, গাজায় তাদের নতুন সামরিক নেতা ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছে । হামাস জানিয়েছে, তাদের পূর্ববর্তী নেতার মৃত্যুর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের সামরিক ইউনিটের নতুন নেতাও নিহত হয়েছেন। হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিমান হামলায় মোহাম্মদ ওদেহ তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ নিহত হয়েছে ।
এর আগে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেন যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ওদেহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর তথ্যমতে, মঙ্গলবার গাজা শহরের একটি বাজারে হামলায় ওদেহ ও তার পরিবারের সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও ১২ জন আহত হয়েছেন।
মুসলিমদের প্রধান উৎসব ঈদুল আজহার ঠিক একদিন আগে এই হামলাটি ঘটে। বুধবার ওদেহের পরিবারের যৌথ জানাজায় অংশ নিতে গাজা শহরে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। শোকাহতরা চারটি মৃতদেহকে হামাসের সবুজ পতাকায় ঢেকে মসজিদ থেকে শহরজুড়ে মিছিল করে।তারা স্লোগান দিচ্ছিল এবং শুণ্যে গুলি ছুড়ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ওদেহের ছবি সম্বলিত পোস্টার ধরেছিল, যাতে লেখা ছিল “কাসাম ব্রিগেডের অন্যতম প্রধান”, যা হামাসের সামরিক শাখাকে ইঙ্গিত করে।
হামাস এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ওদেহ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগঠনটিতে সক্রিয় ছিলেন এবং এর সামরিক ও সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠায় প্রথম প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। কাটজ ওদেহকে ৭ অক্টোবর, ২০২৩-এর হামলার “অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা তার মতে গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণ ছিল।
কাটজ বলেছেন, ৭ অক্টোবরের গণহত্যার পর এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো ইসরায়েল হামাসের কোনো সামরিক ইউনিটের প্রধানকে হত্যা করল।
হামাসের প্রাক্তন নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ ১৬ই মে মারা গেছেন। কাটজ বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের হামলায় জড়িত হামাস নেতাদের ওপর ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখবে।
তিনি এক্স-এ লিখেছেন,“আমরা হামাসকে কোনো বেসামরিক বা সামরিক সরকার চালাতে বাধা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছি ।” নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও সতর্ক করেছেন যে, ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত যে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইসরায়েলি হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মুসলমানরা ঈদুল আজহার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই উৎসবটি সাধারণত পারিবারিক মিলন ও জমকালো ভোজের মাধ্যমে উদযাপিত হয়, কিন্তু এ বছর গাজায় তা অনেকটাই ম্লান। গাজায় খরার মধ্যেই ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। বিধ্বংসী যুদ্ধের পর গাজার অধিকাংশ মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত এবং তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বাস করছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার বিশ লক্ষেরও বেশি মানুষের প্রায় ৯০ শতাংশই ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই এখন ইঁদুর ও পয়ঃবর্জ্যে ভরা বড় বড় শিবিরে বাস করেন। বেঁচে থাকার জন্য তারা সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল।
ঈদুল আযহা, বা ‘ত্যাগের উৎসব’, হলো একটি ইসলামিক উৎসব যা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মুসলমান উদযাপন করে। হজ তীর্থযাত্রার সময় শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী এই উৎসবটি পারিবারিক মিলন, শিশুদের জন্য নতুন পোশাক এবং উপহার বিনিময়ের আনন্দের সময়। খান ইউনিস থেকে বাস্তুচ্যুত মাহমুদ সাকার বলেন, “এটা ঈদ নয়… আমরা যেন জীবন্ত লাশ।”তিনি বলেছেন যে, এই অঞ্চলে চলমান মানবিক সংকট ও গণহত্যার কারণে মানুষ গভীর যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে।।
