এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৮ মে : ফ্রান্সে ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মনোরঞ্জনের জন্য প্রাক্তন প্রেমিকাকে অপরিচিতদের দিয়ে ধর্ষণ করানোর অপরাধে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৫১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির তিন সন্তান রয়েছে । অন্যদিকে ওই ব্যক্তির ৪২ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রেমিকাও ৩ সন্তানের জননী । ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয় । এএফপি-র এক প্রতিবেদন অনুসারে, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্যাডোমাসোকিস্টিক (অন্যকে বা নিজের শরীরকে আঘাত করে যৌন তৃপ্তি লাভের একটি অবস্থা) যৌন খেলার মাধ্যমে ওই নারীকে প্রভাবিত করত, তার ওপর নির্যাতন চালাত এবং তাকে ধর্ষণের জন্য একাধিক পুরুষের হাতে তুলে দিত ।
২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ সাত বছর ধরে ৪২ বছর বয়সী ওই নারী নরকযন্ত্রণা ভোগ করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন প্রথম ওই নারীর কাছে স্যাডোমাসোকিজমের প্রতি তার আগ্রহের কথা জানায়, তখন তিনি ভেবেছিলেন যে এটি কেবল “মারধর এবং বেঁধে রাখা” হবে। নারীটি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তার ভালো না লাগলে সে সেখানেই থেমে যাবে। কিন্তু পরে ওই নারী আদালতকে জানান যে অভিযুক্তের কার্যকলাপ আক্ষরিক অর্থেই হিংসা ছিল। মহিলাটি আরও জানান যে, তিনি তাকে ছেড়ে গেলে অশ্লীল ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিত।
মহিলাটি বলেন, সাত বছরের সম্পর্কের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ওপর ‘মানসিক নিয়ন্ত্রণ’ প্রয়োগ করত। পরে, বেল্ট, কাটিং বোর্ড এবং বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করে আক্রমণ করা হতো। মহিলাটি জানান, যৌন মিলনের সময় তার শ্বাসরোধও হতে শুরু করে। ‘দিন যত যাচ্ছিল, আমার মনে হচ্ছিল আমি ভেতরে ভেতরে মরে যাচ্ছি,’ মহিলাটি আদালতকে বলেন। তিনি আরও বলেন, এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি আক্রমণের পাশাপাশি তাকে অন্য পুরুষদের সাথে একই বিছানায় শুতে বাধ্য করত।
২০১৫ সালের বিচার চলাকালীন তিনি একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন। মহিলাটি বলেন, বড়দিনের আগের রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে একটি মোটরওয়ে স্টেশনে নিয়ে যায় এবং ‘অপরিচিতদের কাছে নিজেকে সঁপে দিতে’ বলে। সেখান থেকে তাকে বন্ধু, সহকর্মী এবং অপরিচিতসহ বেশ কয়েকজন পুরুষের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।মহিলাটি আরও বলেন যে, ২০১৭ সালে, কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার দিনেই অভিযুক্ত তাকে একজন ট্রাক চালকের সাথে যৌনমিলনে বাধ্য করেছিল। মহিলাটি আদালতকে বলেন, “৪৮৭ জন পুরুষ, এরপর আমি আর গণনা করিনি, এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আমি ১০ বার পর্যন্ত দেখেছি।” মহিলাটি আরও বলেন যে, অভিযুক্ত এবং অপরিচিতদের দ্বারা ক্রমাগত হয়রানির কারণে তিনি এখন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।
এদিকে, অভিযুক্ত আদালতে যুক্তি দেয় যে, মহিলাটি তার কাজে সম্মতি দিয়েছিলেন। সে আদালতকে জানায় যে, সে মনে করেনি এতে তার জীবনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে। তবে, আদালতে উপস্থাপিত শত শত টেক্সট এবং ভয়েস মেসেজ প্রমাণ করে যে, মহিলাটি তার কথা না শুনলে অভিযুক্ত তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর, আদালত অভিযুক্তকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়। আদালত তার রায়ে এও স্পষ্ট করে দেয় যে, অভিযুক্ত তার সাজার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোগ করার পরেই প্যারোলের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। আদালত অভিযুক্তকে তার সন্তানদের সাথে দেখা করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।।
