এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,২৪ মে : উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালির শেখ শাহজাহানের কথা কে না জানে । দীর্ঘ এক দশকের অধিক সময় ধরে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাখা তৃণমূলের এই কুখ্যাত নেতার নজর থেকে নারীদের সম্ভ্রম থেকে শুরু করে জমিজায়গা, কিছুই রেহাই পেত না ৷ তেমনই সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান । তবে শুধু ওই দুই জেলাই নয়,পূর্ববর্তী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বদান্যতায় বিভিন্ন জেলাতে সৃষ্টি হয়েছিল এমনই অনেক “শাহজাহান” । তাদের বিভিন্ন কাহিনী সামনে আসছে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে । আর সেই সমস্ত নেতাদের মধ্যে অন্যতম হল পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের মেহমুদ খান ।
আসলে,মেহমুদ খান হলেন জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ । অভিযোগ যে তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় সন্দেশখালির শাহজাহানের মতই তিনি জামালপুরে কার্যত ‘ত্রাস’-এর সৃষ্টি করে রেখেছিলে ৷ তিনি এতটাই আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিলেন যে কেউ তার ভয়ে মুখ খোলার সাহস করতে পারতেন না ।
জানা গেছে,জামালপুর পুলমাথা এলাকায় কবি নজরুল ইসলামের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি রয়েছে । নজরুল জন্মজয়ন্তীতে কবির মূর্তিতে একমাত্র মেহমুদ খান ছাড়া মাল্যদানের অধিকার ছিল না কারোর । আর এনিয়ে মেহমুদ কার্যত অলিখিত ফতোয়া জারি করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে । সেই আতঙ্কে আজও নজরুল জন্মজয়ন্তীর দিনে সকাল থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত বিদ্রোহী কবির মূর্তিতে মালা পরিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর সাহস দেখাতে পারেননি পঞ্চায়েত সমিতির কোনও প্রতিনিধি বা তৃণমূল নেতৃত্ব।
যদিও বাংলার পালাবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক ময়দান থেকে অনেকটাই সরে গিয়েছেন মেহমুদ খান। তবে পঞ্চায়েত সমিতির কোনও প্রতিনিধি বা তৃণমূলের কোনো নেতা মেহমুদ খানের রোষানলে পড়ার ভয়ে কবিকে শ্রদ্ধা জানানোর সাহস করেননি । তবে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে চলা মেহমুদ খানের তৈরি অলিখিত নিয়ম ভেঙে কবি নজরুলের মূর্তিতে মালা করলো বিজেপি । আজ সকালে কয়েকজন বিজেপি কর্মী জামালপুর পুল মাথা এলাকায় বিদ্রোহী কবির মূর্তিতে ফুলের মালা পরিয়ে দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানালেন। বিজেপি বলেছে : “রাজ্যে ভয় আউট, ভরসা ইন” ।।
