এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৯ জুলাই : ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের হাত ধরে শিল্পে জোয়ার আসা এই পশ্চিমবঙ্গের সর্বনাশ শুরু হয় সিপিএম ক্ষমতায় আসার পর থেকে । সিপিএমের “মহান” কমরেড জ্যোতি বসুর আমলে ট্রেড ইউনিয়নের দৌরাত্ম্যে একের পর এক কলকারখানায় তালা ঝুলতে শুরু করে । সিপিএমের সেই ধারা অব্যাহত রেখে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার । সীমাহীন তোলাবাজি আর সুরক্ষার অভাবের কারনে টিকে থাকা বাকি উল্লেখযোগ্য কলকারখানাগুলি বন্ধ করে ভিন রাজ্যে পাড়ি জমিয়েছে । এখন নতুন বিজেপি সরকারের কাছে ওই সমস্ত শিল্পপতিদের ফের বিশ্বাস অর্জন করা কার্যত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে । তবে মনে হচ্ছে যে দুর্নীতি আর দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর অবস্থানের পর একটু একটু করে বিশ্বাস ফিরছে শিল্পপতিদের । বিশেষ করে সম্প্রতি রাজ্য সরকার “গুন্ডাদমন” আইন আনায় শিল্পপতিরা ফের এরাজ্যে সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে । তারা অনেকে এখন এরাজ্যে ফের বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন ।
আর এই আগ্রহ স্পষ্টতই দেখা গেল শিল্পপতি ডঃ সঞ্জীব গোয়েঙ্কার মধ্যে । আজ বৃহস্পতিবার তিনি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন । সেই ছবি এক্স-এ পোস্ট করে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ভুয়সী প্রশংসা করেছেন । সঞ্জীব গোয়েঙ্কা লিখেছেন,:পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে সাক্ষাৎ করে এবং রাজ্যের উন্নয়নের জন্য তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনাগুলো শুনে আমি আনন্দিত। ‘বিক্ষুব্ধ বাংলা’র এই রূপকল্পটি একাধারে অনুপ্রেরণাদায়ক এবং দূরদর্শী। একইভাবে প্রশংসনীয় ছিল তাঁর কর্মশক্তি, উৎসাহ এবং ক্ষুদ্রতম বিষয়েও তাঁর সূক্ষ্ম মনোযোগ।’ তিনি আরও লিখেছেন,’পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতির যাত্রা এবং রাজ্যের শিল্প পরিমণ্ডলকে শক্তিশালী করা, আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ও এর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার সুযোগগুলো নিয়ে আমাদের একটি অর্থবহ আলোচনা হয়েছে।উন্নতির এই যৌথ যাত্রায় অবদান রাখার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি।’
এদিকে জাপানের যে প্রখ্যাত কোম্পানিকে সিপিএমের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর আমলে এরাজ্য থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল,সেই মিৎসুবিশি ফের এরাজ্যে ফিরছে বিজেপি সরকারের হাত ধরে । মিৎসুবিশি হল সেই কোম্পানি যেটা ছিল স্বাধীনতার পর ভারতে জাপানের প্রথম বিনিয়োগ । গতকাল রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় ও অর্থমন্ত্রী ডঃ স্বপন দাসগুপ্তের সঙ্গে মিৎসুবিশি কর্তৃপক্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন । সেই বৈঠকে কর্তৃপক্ষ এরাজ্যে একটি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রস্তাব দেয় । শিল্পমন্ত্রী কোম্পানিটিকে জমিও চিহ্নিত করে দিয়েছেন । মিৎসুবিশি কর্তৃপক্ষ ১০ দিনের মধ্যে সেই জমি পরিদর্শনে যাবেন বলে জানা গেছে ।।
