এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৯ জুলাই : বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতনে জড়িত থাকার সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক নিরীহ যুবককে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করেছিল দুই শতাধিক মুসলিম ব্যক্তি । ওই হত্যা কান্ড ছাড়াও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস,পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় যুক্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । আর ওই খুনের ঘটনায় যুক্তদের কার্যত “প্রতিবাদী” তকমা দিয়েছিলেন মমতা । গতকাল ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেছিলেন, ‘এতে ফল কিন্তু বিপরীত হচ্ছে । মানুষ কিন্তু প্রতিবাদ করবে । বারুইপুরে যারা প্রতিবাদ করেছিল তাদের ৫০ জনকে আপনারা অ্যারেস্ট করেছেন ।’ আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় তার জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । মমতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন : “সীমাহীন তোষণ, মিথ্যাচার আর উস্কানি – এই তিনটি বদ অভ্যাস আপনার এখনও গেল না” ।
মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের স্লিপিং এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে মারতে মারতে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সংযুক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী পোস্ট করেছেন । তিনি লিখেছেন,’দাঙ্গাকারীরা নাকি “প্রতিবাদী”? নিজে হেরেছেন এবং আপনার দল চূড়ান্তভাবে হেরেছে।নিজের দল আসল-নকলের লড়াইয়ে জর্জরিত ও নাজেহাল! তবুও আপনার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সীমাহীন তোষণ, মিথ্যাচার আর উস্কানি – এই তিনটি বদ অভ্যাস আপনার এখনও গেল না! এখনও পরিবর্তন এলো না আপনার মধ্যে?’
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন,’আপনার বক্তব্যে আপনি যাদের “প্রতিবাদী” আখ্যা দিচ্ছেন, তারা একজন নিষ্পাপ- নিরপরাধ ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এসে শুধুমাত্র নাম-পরিচয় দেখে চিহ্নিত করে নির্মমভাবে গণপিটুনিতে মেরে ফেলেছে। এই উচ্ছৃঙ্খল লোকেরা, যারা পুলিশের গাড়ি জ্বালালো, যারা পুলিশকে মারল, রেললাইন উপড়ে ফেলল, বিশৃঙ্খলা করল, আইন- শৃঙ্খলা ভঙ্গ করল, এলাকার শান্তি বিঘ্নিত করে অশান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল, তারা আপনাদের ভাষায় “প্রতিবাদী”?’
তিনি লিখেছেন, সংযুক্ত: সংগঠিত খুনের পূর্বের ভিডিও। এরা “প্রতিবাদী”?’ এরপর তিনি মমতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন,’শুনে রাখুন, নতুন পশ্চিমবঙ্গে যেমন ধর্ষণকারী, নারী ও শিশুদের নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের রেয়াত করা হবে না, কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে, ঠিক তেমনই বর্তমান সরকারের আমলে কোনো নিষ্পাপ, নিরপরাধীকে পিটিয়ে মারার অপরাধে যুক্ত সকল অপরাধীদেরও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিধান অনুসারে আইনি ব্যবস্থার মধ্যে এনে কঠিনতম শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা এই সরকার করবে। ভিড়ের আড়ালে লুকিয়ে থেকে সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধ ঘটানোর দিন শেষ। আইনি উপায়ে এমন অপরাধীদের শেষ দেখে ছাড়বে এই নতুন সরকার।’
https://twitter.com/i/status/2075182772646252928
প্রসঙ্গত,ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল অত্যন্ত হতদরিদ্র পরিবারে সন্তান। একটি ছোট্ট বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা,দাদা-বউদি সহ ৬-৭ জনের বসবাস । পরিবারের অভাব নিত্য সঙ্গী । অটো চালাতেন ইন্দ্রজিৎ । বাবার একটি দোকান রয়েছে। দাদা গাড়ি চালিয়ে রোজগার করতেন। কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। একমাত্র রোজগেরে ছিল ছেলে ছিলেন তিনি । কারণ বাবার দোকান সেই ভাবে চলত না। তাই গণপিটুনিতে এই নিরপরাধ ছেলের এমন পরিণতিতে হাহাকার নেমে এসেছে গোটা পরিবারে।
নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বউদি বলেন,’ইখানটায় সবাই ঘরে বসেছিল। মারতে মারতে জামার কলার ধরে নিয়ে চলে গেল। প্রচুর লোক, প্রচুর লোক। আমরাও পিছনে পিছনে গেছি। পিছনে পিছনে যাচ্ছিলাম। সবাই বলে তোমাদেরও মেরে দেব। বাঁশ ছিল, তারপর ইট, লাঠি মেরেছে। ভয়েতে আবার জলে পড়ে গেছে। এখান থেকে নিয়ে বাজারে, ওখানে মরে গেছে। এখান থেকে বলছে আমি করিনি, আমি করিনি।’
ছেলের নির্মম মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন ইন্দ্রজিতের বাবা অজিত মণ্ডল। তিনি জানালেন, ওইদিন বাড়িতে চড়াও হয়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন ছেলেকে মারধর করেছিল। পরে ডেকে নিয়ে গিয়ে অজিত বলেছিল, ছেলেকে ফিরিয়ে দিয়ে যাবে। কিন্তু পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, এলাকার অটোচালক ইন্দ্রজিৎ যে নির্দোষ ছিলেন, মৌলবাদীদের রোষের শিকার হয়ে অকালে জীবন হারিয়েছেন। বিচারের আশ্বাসও দেন তিনি ।।
