এইদিন ওয়েবডেস্ক,মঙ্গলকোট(পূর্ব বর্ধমান),১১ মে : ২০১১ সালে এরাজ্যে ক্ষমতায় আসার কয়েক বছরের মধ্যেই তৃণমূল নেতাদের নখদাঁত বেরিয়ে আসতে শুরু করে ৷ সীমাহীন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি তো ছিলই, তার পাশাপাশি ভয় দেখিয়ে মানুষের হকের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার ভুরি ভুরি নজির সৃষ্টি করেছিল তৃণমূল নেতারা৷ কোথাও মন্দিরের জায়গা দখল করে তৃণমূলের পার্টি অফিস বানানো,আবার কোথাও দোকানবাড়ি কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল এরাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে ।পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের মাজিগ্রামে তৃণমূলের এমনই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন অনুপ চৌধুরী নামে এক বিজেপি নেতা । অবশেষে ৪ মে ২০২৬ তারিখে রাজ্যে পালাবদলের পর তার অধিকার ফিরিয়ে দিল গ্রামবাসীরা ৷ এদিকে দখল পেয়ে বেআইনিভাবে নির্মিত তৃণমূলের ওই কার্যালয় পরিষ্কার করতে গিয়ে উদ্ধার হল রাশি রাশি নথিপত্র । আর সেই সমস্ত নথিপত্রগুলি হল সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করা গ্রামবাসীদের ফর্ম । বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নেওয়া যে ফর্মগুলি ওই পার্টি অফিসে বস্তার মধ্যে ভরে স্তুপাকারে জমা করে রাখা হয়েছিল । এমন অন্তত ৫ বস্তাভর্তি ফর্মের হদিশ পেয়েছে গ্রামবাসীরা৷ তৃণমূলের গুনধর নেতাদের এহেন কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন ।
জানা গেছে,মঙ্গলকোটের ভাল্যগ্রামের বাসিন্দা অনুপ চৌধুরী মাজিগ্রাম অঞ্চলের চারটি বুথে বিজেপির প্রমূখের দায়িত্বে রয়েছেন। মাজিগ্রাম বাসস্ট্যান্ডের কাছেই মল্লিকপুকুর পাড়ে মাটির দেওয়াল দোকানঘরে অনুপবাবু জুতো, কাপড় ইত্যাদি বিক্রি করতেন । তিনি বলেন,’প্রায় ৩০ বছর আগে ৫৪ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং ১৮ ফুট চওড়া এই জায়গাটি স্থানীয় একটি পরিবারের কাছে আমি কিনেছিলাম । আমি সেখানে ব্যবসা করতাম ও সেখানেই থাকতাম । কিন্তু ২০১৩ সালে দাদা হঠাৎ মারা যান । ফলে পরিবারের দেখভালের জন্য আমায় দোকান বন্ধ করে ভাল্যগ্রামে বাড়িতে চলে যেতে হয় । সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের লোকজন আমার দোকানঘর ভেঙে দিয়ে জোর করে পার্টি অফিস তৈরি করে। উপার্জনের একমাত্র উৎসটা ফিরে পেতে তৃণমূল নেতাদের দরজায় দরজায় ঘুরেছি । কিন্তু তাদের মন গলেনি ।’ তার অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধেই তার দোকানটি দখল করে নিয়েছিল তৃণমূল ।
এদিকে গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে, গোটা রাজ্যের পাশাপাশি মঙ্গলকোট বিধানসভাতেও ধরাশায়ী হয় তৃণমূল । জেতে বিজেপি প্রার্থী । তারপর থেকেই অনুপ চৌধুরীর দোকান ফেরাতে উদ্যোগী হয় মাজিগ্রামের সাধারণ মানুষ । বেগতিক বুঝে ভোটের ফল ঘোষণার পরেই কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে বেপাত্তা হয়ে যায় তৃণমূলের লোকেরা । আজ সোমবার গ্রামবাসীরা জড়ো হয়ে তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে সাফাই করার পর নতুন তালা লাগিয়ে তার চাবি অনুপ চৌধুরীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ।
বিজেপির মঙ্গলকোট ৩ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন মুখার্জি বলেন,’তৃণমূলের পার্টি অফিস সাফাই করতে গিয়ে আমরা হতবাক হয়ে যাই । দেখি পাঁচটি বস্তায় ভরা রয়েছে বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা সহ আরও কিছু প্রকল্পের জন্য পূরণ করা অসংখ্য ফর্ম । অধিকাংশই ২০২০-২১ সালে জমা নেওয়া৷। যেগুলি ভোটের জন্য ধাপ্পা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জমা নিয়েছিল তৃণমূলের নেতারা । কিন্তু সরকারি দফতরে জমা না করে পার্টি অফিসে ফেলে রেখেছিল। হয়তো এসব সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তৃণমূল নেতারা সাধারণ মানুষের কাছে টাকাও তুলেছে ।’
তিনি আরও জানান, ভোটে নিশ্চিত পরাজয়ের আঁচ পেয়ে আরও অসংখ্য ফর্ম পুড়িয়ে দিয়েছিল তৃণমূলের লোকেরা । সৌমেনবাবু বলেন,’নিরীহ সাধারণ মানুষের সাথে কতবড় প্রতারণা করে গেছে তৃণমূল, সেটা ভেবে অবাক হয়ে যাচ্ছি । দীর্ঘ ১৫ টা বছর ধরে ওরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে গেছে ।’।

