এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৪ এপ্রিল : গতকাল বিদায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে । অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ভোট পড়েছে ৯২.৯৮% । এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্য একটা নজির । কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে এই বিপুলসংখ্যক ভোট দান পরিবর্তনের জন্য নাকি রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের প্রত্যাবর্তনের জন্য মানুষ দিয়েছে ? শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধীদল বিজেপি,উভয়ের তরফ থেকেই দাবি করা হচ্ছে যে তারাই ক্ষমতায় আসতে চলেছে । তবে এখনো দ্বিতীয় দফার ভোট বাকি । আগামী ২৯ এপ্রিল বাকি আসন গুলির ভোট গ্রহণ হবে । তার আগে সম্ভাব্য ফলাফলের ভবিষ্যৎ বাণী করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । তিনি মনে করছেন যে প্রথম দফার ভোটে বিজেপি ন্যূনতম ১১০ টি আসন পাবে এবং দ্বিতীয় দফা মিলে প্রচন্ড বহুমত নিয়ে ক্ষমতায় আসবে তাদের দল ।
আজ শুক্রবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অমিত শাহ বলেন,’গতকাল এরাজ্যের প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটদানের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ৷ বাংলার মানুষ অভূতপূর্ব উৎসাহ এবং উদ্দীপনার মধ্যে পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছে । ভোটদানের হার যা সামনে এসেছে তা গোটা দেশের গণতন্ত্রকে উৎসাহিত করার জন্য যথেষ্ট । সর্ব প্রথমে প্রথম দফার ভোট দেওয়া মানুষদের আমি অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই । আর এই কারণে ধন্যবাদ জানাবো যে ভয় থেকে ভরসার দিকে পথ চলার খুব সুন্দর শুরু হয়েছে । আর দ্বিতীয় দফার ভোটাররা ভয় থেকে ভরসার দিকে এই যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি আশা করি ।’
তিনি দাবি করেন,’বাংলার মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎকে প্রথম দফাতেই ঠিক করে নিয়েছেন । ১৬ টি জেলার ১৫২ টি আসনে ৯২.৯৮% ভোটদান নিশ্চিতভাবে বলে দেয় যে দিদি যাচ্ছে এবং বিজেপি আসছে । ভয় যাবে এবং ভরসা আসবে ।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কথায়,’এই যে বিপুলসংখ্যক ভোট পড়েছে এটা হল পরিবর্তনের জন্য ভোটদান । বিগত দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রী এবং আমাদের অন্যান্য নেতাদের জনসভাতে যে বিপুল জন সমাবেশ হচ্ছিল তার প্রতিফলন ঘটেছে ইভিএম-এ ।
অমিত শাহ বলেন,’আমি গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত জেলার নেতাদের সঙ্গে প্রথম দফার ভোটের বিষয়ে গভীর আলোচনা করেছি । আর আপনাদের স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই যে ১৫২ টি আসনের মধ্যে ১১০ টি অধিক আসনে বিজেপি জিততে চলেছে । এর অর্থ হল যে দ্বিতীয় দফা মিলে আমরা প্রচন্ড বহুমত নিয়ে শুদ্ধ রূপে এরা যে সরকার গঠন করবো।’
তিনি বলেন,’তবে এটা আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে জনসমর্থন তো আছে কিন্তু ভোটার আদপেই কি বুথে পৌঁছাতে পারবে ? সেই আশঙ্কা আজ সমাপ্ত হয়ে গেছে । আর আমার বিশ্বাস যে দ্বিতীয় দফাতেও মানুষ আরও উৎসাহের সঙ্গে ভোট দেবেন ।’ অতীতের নির্নাচনে হিংসার পরিসংখ্যান তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন,’২০১৬ সালের ভোটে ১৬৭৮ জন মানুষ আহত হয়েছিল । ২০২১ সালে ১৬৮১ জন,২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে ৬৭৪ জন, আর ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ৭৬৮ জন আহত হয়েছিল। তার তুলনায় ৩০ জনের নিচে গত কাল মানুষ আহত হয়েছে । এটা বলে দেয় যে সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে । আর মৃত্যুর ঘটনা একটাও ঘটেনি ।’ এনিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ।।
