প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমান,১৯ এপ্রিল : দু’দিন আগে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনায় “মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড” বিতরণ করে যান কেন্দ্রীর অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ । এই কার্ডের মাধ্যমে মহিলাদের প্রতি বছর ৩৬ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি । কিন্তু কেন্দ্রীর অর্থমন্ত্রীর এই কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবে নেননি এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ৷ তিনি কেন্দ্রীর অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের’ অভিযোগ তুলেছেন । আজ রবিবার পূর্ব বর্ধমানের কালনায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই বিষয়ে মমতা বলেন,’কয়েকদিন আগে এখানে এসে অর্থমন্ত্রী বেইনিভাবে কার্ড ডিস্ট্রিবিউশন করে গেছেন। আমি তাকে ধিক্কার জানাই। আর বলি নির্বাচনের সময় কার্ড বিলি করা মানে বিধিভঙ্গ।’ শুধু তাইই নয়, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করার জন্য জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা কাটোয়া বিধানসভার প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশও দেন তিনি । পাশাপাশি সরকারী প্রচার কেন্দ্র দূরদর্শনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচারের অঅভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার নির্দেশ দেন মমতা ব্যানার্জি ।
“মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড” বিতরণ করায় কেন্দ্রীর অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়র করার নির্দেশ
গত বুধবার কালনার শ্রীরামপুর আশ্রমপাড়ায় বিজেপির হ্যাণ্ডলুম ও লিভার সেলের সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।ওইদিন তিনি কালনার তাঁত বলয়ের ১০ জন মহিলার হাতে ’মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ কার্ড তুলে দিয়েছিলেন। সেই কার্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন,’যাঁরা কার্ড নিয়েছেন তাঁরা জেনে রাখুন,এটা ভাওতা ছাড়া আর কিছু নয় । এই সুযোগে আপনার নাম ঠিকানা, আপনার ব্যাংক একাউন্ট সব নিয়ে নিয়েছে। ওই যেটুকু লক্ষ্মীর ভান্ডার পান সেটাও কিন্তু শেষ করে দেবে,লুটে নেবে। আগামী দিন বলবে,এই নাও তিন হাজার টাকা দিলাম, তারপর ৩৬৫ দিন যেটুকু ছিল সেটুকুও যাবে।আর কোন ভান্ডারই আসবেনা। এটা মাথায় রাখবেন মিথ্যে কথা বলায় বিজেপির জুরিদার মেলা ভার ।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে এফ আই আর দায়েরের নির্দেশ
সরকারী প্রচার কেন্দ্র দূরদর্শনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচারের অঅভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার নির্দেশ দেন মমতা ব্যানার্জি । তিনি বলেন,’দূরদর্শন গভর্নমেন্টের প্রচারকেন্দ্র।সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক প্রচার করেছেন। তার বিরুদ্ধেও তো কমপ্লেন হওয়া উচিত। দেখছি কাকে দিয়ে করানো যায়।’
“বাংলায় চাষীদের নো প্রবলেম”
মমতা বলেন,’চাষী হত্যায় সব থেকে ভারতবর্ষ এগিয়ে। বাংলায় চাষীদের কোন প্রবলেম নেই। আমরা কৃষকদের জন্য ক্রপ ইন্সিওরেন্স করে দিয়েছি। সবার জন্য আমরা করি।’
সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার ফের আশ্বাস দিয়ে মমতা বলেন,’সরকারি কর্মীদের জন্য এই রাজ্যই একমাত্র রাজ্য যেখানে পেনশন পায়। মনে রাখবেন ২৫ পার্সেন্ট ডিএ আপনারা পেয়ে গেছেন এবং চার পার্সেন্ট ডিএ-ও আপনারা পেয়ে যাবেন।’
হিন্দুদের গীতা ছুঁইয়ে মুসলিমদের কোরাণ ছুঁইয়ে শপথ
মমতা বলেন,পরিযায়ী শ্রমিকরা আসবে বলছে। আমাকে কিছুক্ষণ আগে বেচারাম মান্না বলছিল ,
“হিন্দুদের গীতা ছুঁইয়ে শপথ করাচ্ছে বিজেপিকে ভোট দিতে হবে। তবেই যেতে দেব, ট্রেনের টিকিট দেব। আর মুসলিমদের কোরাণ ছুঁইয়ে বলছে শপথ করো তবেই যেতে দেব।। আরে গীতা -ধর্ম – কোরাণ, সবই তো মানুষের মনে । তোমার কথায় ছুঁলেই হয়ে গেল ! আর একবার ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করে দেবে হয়ে গেল ।’
“আমায় খুন করতে চাইছে বিজেপি”
মমতা বলেন,“বিজেপি তুমি আমার সিকিউরিটিকে ইডি করে তল্লাশি চালিয়ে আমাকে খুন করবার চেষ্টা করছো। ক্ষমতা থাকলে বলো কখন কোথায় করবে। আমি একা দাঁড়িয়ে থাকব। আমার সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ থাকবে না। বন্দুকটা আমার বুকে চালিয়ে দাও। আমি বুক পেতে নেব। কিন্তু মাথা নত করবো না। এটা মাথায় রেখে দিও।’
“বিজেপি ফের হারবে”
কেন্দ্রের সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
‘সারা দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। গত পরশুদিন থেকে ওদের পতন শুরু হয়ে গেছে। লোকসভায় দেখেছেন হেরেছে। এবার দেখবেন আবার হারবে, দিল্লিতে বিজেপি থাকবে না।বাংলাকে টার্গেট করলে আমরা দিল্লিকে টার্গেট করি।যাঁরা আমাদের হয়ে কাজ করছে তাঁদেরকে বলছে বাংলা ছেড়ে চলে যাও।তবে কোন কিছু একতরফা হয় না। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। তোমারে বোধীবে যে গোকুলে বাড়িছে সে ।’
“সাড়ে ৮০০ সিট করে দেশ ভাঙার পরিকল্পনা”
কেন্দ্রের আনা মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’ওটা ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পাস হয়ে গেছে । আপনি কেন করেননি । ৪৫০ এর বেশি ভোট মিলেছিল । আমরাও সমর্থন জানিয়ে ছিলাম। ৫৪৩ টায় মোদী হেরে যাবে। তাই সাড়ে ৮০০ সিট করে দেশ ভাঙার পরিকল্পনা ছিল, রাজ্য ভাঙার পরিকল্পনা ছিল। তাই আমরা জোটবদ্ধ হিসেবে হারিয়ে দিয়েছি। আগামী দিন ওদের সরকার পড়ে যাবে। একটা মাইনরিটি গর্ভমেন্ট,তাদের লোকেরা দিল্লি আসাম, উত্তর প্রদেশ ,মধ্যপ্রদেশ ,রাজস্থান থেকে এসে এখানে চমকাচ্ছে।’
তিনি বলেন,’এটা মহিলা বিল নয়,মহিলা বিল আগেই পাস হয়ে গেছে। চালাকিটা হচ্ছে ডিলিমিটেশনের পরেই আসবে এনআরসি। মনে রাখুন আমরা থাকতে এনআরসি ,ডিটেনশন ক্যাম্প !লোক তাড়ানো, লোক ভাগানো এসব আমরা করতে দেবো না। আমরা সকলের নাম আজ নয় কাল তুলে দেব।’
কালনার পর এদিন মন্তেশ্বরেরও জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী।সেই জনসভা শেষকরে বিকালে বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাসের সমর্থনে বর্ধমান স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে বড়নীলপুর মোড় পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোড শো করেন ।।

