এইদিন ওয়েবডেস্ক,পুরুলিয়া,১৯ এপ্রিল : আগামী ৪ মে বিধানসভার ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যে ‘বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিশ্চিত’ এবং ‘তৃণমূল সরকারের বাঁচা অসম্ভব’ বলে আত্মবিশ্বাসের সুরে ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । আজ রবিবার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে নির্বাচনী জনসভার পর পুরুলিয়ায় পা রাখেন প্রধানমন্ত্রী । পুরুলিয়ার ঝাড়গ্রামে প্রার্থীদের সমর্থনে বিশাল জন সমবেশে অংশ নেন । ওই সমাবেশের একেবারে শেষে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,’বাংলার মানুষ লিখে রাখুন । এবারে আমি যেখানে যেখানে গেছি, আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি যে ৪ মে-র পর (ভোট গণনার পর) এই রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিশ্চিত। আমি দেখতে পাচ্ছি যে এই ভোট বিজেপির কার্যকর্তারা তা লড়ছেনা । এই ভোট বিজেপির কোন প্রার্থী লড়ছেন না। এই ভোট বাংলার জনতা লড়ছে । এই নির্বাচন বাংলার যুব সম্প্রদায়ের লড়ছে । এই নির্বাচন বাংলার মা বোনেরা লড়ছেন । তাই আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি এবারে তৃণমূলের নির্মম সরকারের বাঁচা সম্ভবই নয় । বিজেপির সরকার তৈরি নিশ্চিত ।’
তার আগে রাজ্যের ‘বেহাল পরিস্থিতির’ বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন,’ইহ্যাঁ না কামাই, না দাবাই,না সিচাই ৷ এখানে সব কিছুর বেহাল অবস্থা । এখানে আপনাকে যদি একটা ছোট বাড়ি বানাতে হয় তাহলে তৃণমূলের সিন্ডিকেটের ওপর আপনাকে নির্ভর করতে হবে । তৃণমূলের সাংসদ বা বিধায়কের আপনাদের সমস্যার সঙ্গে কোন লেনাদেনা নেই ।’
কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করে মোদি বলেন,’উন্নয়নবিরোধী এই সরকার রেলের হাজার হাজার কোটির প্রকল্প আটকে রেখেছে। সিন্ডিকেট রাজ উপড়ে ফেলতে হবে। আপনারা এখানে বিজেপির সাংসদ দিয়েছেন, এবার বিজেপি বিধায়ক ও মুখ্যমন্ত্রী বানানোও ততটাই জরুরি।’
রাজ্যের কর্মসংস্থান ও নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,’পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর জন্য দায়ী তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজ। ওরা শিক্ষকদের নিয়োগের টাকা লুটে নিয়েছে, হাজার হাজার যুবক-যুবতীকে ধোঁকা দিয়েছে।” কাটমানি ছাড়া বাংলায় কোনো কাজ হয় না বলে দাবি করে তাঁর হুঙ্কার, “আর কাটমানির খেলা চলবে না, মাফিয়াদের মেলাও চলবে না।’
রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন,’প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী— দুজনেই বিজেপি থেকে হলে পুরুলিয়ার বিকাশের গতি দ্বিগুণ হবে ।’ বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের মতই পুরুলিয়ার ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় ছিল উপচে পড়া ভিড় । যেকারণে প্রধানমন্ত্রীকে যথেষ্ট খুশি দেখা যায় ।।
