এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,১৯ এপ্রিল : “বিরোধী দল এবং কংগ্রেস দেখিয়ে দিয়েছে যে নারীদের প্রতি তাদের কোনো সম্মান নেই। যেসব রাজনৈতিক দল নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের বিরোধিতা করেছে, তারা ভুলে যাচ্ছে যে একবিংশ শতাব্দীর নারীরা তাদের সমস্ত কার্যকলাপের উপর নজর রাখছে এবং তারা তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছে, আর নারীরা তাদের ক্ষমা করবে না”, নারী সংরক্ষণ বিল ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের এই ভাষাতে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বিলটি একটি ১৩১তম সাংবিধানিক সংশোধনী, যার লক্ষ্য লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
২০২৬ সালের ১৭ই এপ্রিল লোকসভায় বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়, কারণ কংগ্রেস, টিএমসি, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি সহ বিরোধী দলগুলো বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দেয়। বিলটির আপাত উদ্দেশ্য ছিল লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণের হার বাড়িয়ে তাঁদের ক্ষমতায়ন করা। প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “বিরোধী দল এবং কংগ্রেস সংবিধান প্রণেতাদের ইচ্ছাকে অপমান করেছে। কারও কাছ থেকে কিছু কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল না, বরং দেশের নারীদের কিছু দেওয়ার বিষয় ছিল।”
নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের উদ্দেশ্য ছিল নারীদের আসন্ন ২০২৯ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। এর লক্ষ্য ছিল নারীদের ক্ষমতায়ন করা এবং তাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ করে তোলা। নারী শক্তি বন্দন সংশোধনী সময়ের দাবি। কিন্তু কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগীরা আমাদের এই সৎ প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। কংগ্রেস, টিএমসি, ডিএমকে সমাজবাদী পার্টি সংবিধানের হত্যাকারী, কারণ তারা এই সংশোধনীর বিরোধিতা করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী নারীদের বহু প্রতীক্ষিত অধিকার পূরণের একটি সুযোগ নষ্ট করার জন্য বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এটি ছিল উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব বা পশ্চিম—সব দিক থেকেই সমস্ত রাজ্যকে ক্ষমতা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। কংগ্রেস বরাবরই নারী সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করেছে এবং সর্বদা বাধা সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস ও তার মিত্ররা এই সংশোধনী পাসে বাধা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল। কংগ্রেস ও তার মিত্ররা জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে এবং এই সংশোধনীর বিরোধিতা করে তারা নিজেদের নারী-বিরোধী হিসেবে প্রকাশ করেছে, বিরোধীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন,শুরুতে আমি ভেবেছিলাম যে কংগ্রেস তার অতীতের অসঙ্গতিগুলো শুধরে নেবে। দুর্ভাগ্যবশত, দলটি তার ভুল শুধরাতে ব্যর্থ হয়েছে। কংগ্রেস দল বিভিন্ন রাজ্যে অস্তিত্বের লড়াই লড়ছে এবং এখন বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের ওপর নির্ভরশীল। এই রাজনৈতিক দলগুলো যে এই সংশোধনীতে বাধা দিচ্ছে তার প্রধান কারণ হলো, তারা ভয় পাচ্ছে যে পরিবারের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাত থেকে ফসকে যাবে এবং তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে নারীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। কিন্তু কংগ্রেস ও তার মিত্ররা সংসদে নারীদের জন্য একই ধরনের সুযোগ নষ্ট করে দিয়েছে ।
কংগ্রেস ব্রিটিশদের ‘ডিভাইড এন্ড রুল’-এ বিশ্বাসী
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন,কংগ্রেস ও তার জোটসঙ্গীরা সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং তারা ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতিতে কাজ করে। এই নীতি তারা ব্রিটিশদের কাছ থেকে শিখেছে। কংগ্রেস দল প্রথম দিন থেকেই এই মিথ্যা ছড়িয়েছে যে সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর কিছু রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রথম দিন থেকেই সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই সংশোধনীতে সব রাজ্যই লাভবান হবে। তবে, টিএমসি, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি মিথ্যাচার করেছে ।
ডিএমকে-র কাছে তামিলদের আরও ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ ছিল। টিএমসি-রও সুযোগ ছিল, কিন্তু তারাও ব্যর্থ হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির কাছে তাদের নারী- বিরোধী ভাবমূর্তি শুধরে নেওয়ার সুযোগ ছিল। তারা ইতোমধ্যেই রাম মনোহর লোহিয়ার নীতি ভুলে গেছে। কংগ্রেস একটি সংস্কার-বিরোধী দল। কংগ্রেস সমস্ত ইতিবাচক সংস্কারে বাধা সৃষ্টি করে। কংগ্রেস জন-ধন অ্যাকাউন্ট, জিএসটি, তিন তালাক আইন, ৩৭০ ধারা বাতিল, ডিজিটাল পেমেন্টের বিরোধিতা করেছে, তারা ইউসিসিরও বিরোধিতা করেছে, একথা বলে প্রধানমন্ত্রী মোদী বিরোধী দলের নেতিবাচক রাজনীতির মুখোশ উন্মোচন করেছেন।
কংগ্রেস অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়ার বিরোধী নকশালদের সমর্থক
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন,সংস্কারের নাম শুনলেই কংগ্রেস তার বিরোধিতা করে। কংগ্রেস এসআইআর, সিএএ-এর বিরোধিতা করে। অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তারা তার বিরোধিতা করে। কংগ্রেস সবসময় নকশালদের সমর্থন করেছে। ভারতের জন্য যা কিছু ভালো, কংগ্রেস সবসময় তার বিরোধিতা করেছে। কংগ্রেসের এই ধরনের মনোভাবের কারণেই ভারত উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে পারেনি। এমন অনেক দেশ ছিল যারা ভারতের সঙ্গে স্বাধীনতা লাভ করেছিল এবং তারা উন্নত হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের কুচক্রী পরিকল্পনার কারণে দেশটি উন্নত হতে পারেনি ।
কংগ্রেস সীমান্ত সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ
প্রধানমন্ত্রী বলেন,কংগ্রেস সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা সিন্ধু নদীর জল সমস্যা এবং এক পদ এক পেনশন সমস্যার সমাধান করেনি। এই লড়াই কংগ্রেসের সংস্কার-বিরোধী মনোভাবের বিরুদ্ধে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে দেশের নারীরা কংগ্রেস দলকে যোগ্য জবাব দেবে। কিছু লোক এই তথ্য ছড়াচ্ছে যে এটি এনডিএ সরকারের পরাজয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন যে তিনি সংসদে বলেছিলেন এই সংশোধনীটি পাস হোক এবং তিনি বিরোধী দলকে এর কৃতিত্ব দেবেন, এভাবেই প্রধানমন্ত্রী মোদী বিরোধী দলগুলোর প্রতিটি অবৈধ এজেন্ডা ফাঁস করে দিয়েছেন।
ফের পেশ হবে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, আজ বিলটি পাস করানোর জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যা পায়নি। তবে, তিনি জাতিকে আশ্বস্ত করেছেন যে সরকার নারী ক্ষমতায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং বিরোধী দল এই আত্মবিশ্বাসকে পরাজিত করতে পারবে না। এই প্রচেষ্টা থেমে যাবে না এবং অদূর ভবিষ্যতে সরকার নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য আরও সুযোগ পাবে, প্রধানমন্ত্রী মোদী জাতিকে এই প্রতিশ্রুতি দেন।।

