এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,১৪ এপ্রিল : ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেস বা সিপিএমের জোট হচ্ছে না । রাজ্যে প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসা দুই বিরোধী দল শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছে ৷ প্রচারের ময়দানেও একে অপরকে নিশানা করছে । আজ মঙ্গলবার দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে মালদহের জনসভায় যোগ দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জিকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী । সারদা- রোজভ্যালি থেকে শুরু করর আরজি কর কান্ড প্রভৃতি ইস্যুত মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে রাহুল বলেন,’মমতা ব্যানার্জি নিজেও দুর্নীতিগ্রস্ত, তিনি বাংলায় শুধু সিন্ডিকেট দিয়ে সরকার চালান।’
আজ প্রথমে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের সভা করেন রাহুল। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে মালদার চাঁচলে আসেন । আর মালদার সভাতেই তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন । তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে রাহুল বলেন, ‘সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে ১৭ লক্ষ বিনিয়োগকারীর ১৯০০ কোটি টাকা এবং রোজ ভ্যালিতে ৩১ লক্ষ মানুষের ৬৬০০ কোটি টাকা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। কয়লা পাচার থেকে শুরু করে বেআইনি খাদান – বাংলায় এখন শুধু গুন্ডা ট্যাক্স তোলা হয়। এতে বাংলার সাধারণ মানুষের কোনও লাভ হয় না, লাভ হয় শুধু তৃণমূলের সিন্ডিকেটের।’ আরজি করের তরুনী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, ‘আমরা যদি হিংসা আর মহিলাদের ওপর অত্যাচারের কথা বলি, তবে আরজি করের সেই ভয়াবহ ধর্ষণ ও খুনের কথা বলতেই হবে। পশ্চিমবঙ্গে আজ কোনও দায়বদ্ধতা নেই। তৃণমূলের গুন্ডারা যা চায়, তা-ই করতে পারে।’
আজ চাঁচলের কলমবাগান মাঠে উত্তর মালদার চার-চারজন কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা করেন রাহুল । তারা হলেন : চাঁচলের কংগ্রেস প্রার্থী আসিফ মেহেবুব, মালতীপুরের কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম নূর, রতুয়ার কংগ্রেস প্রার্থী মোত্তাকিন আলম এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের কংগ্রেস প্রার্থী মোস্তাক আলম । এই নির্বাচনী জনসভায় রাহুল মমতা ব্যানার্জির ১৫ বছরের শাসনকালকে কাঠগড়ায় তুলে রাহুল বলেন, ‘তৃণমূলের কাজই হল বাংলায় বেকারের সংখ্যা বাড়ানো। তাঁর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সব ব্যবসা ও শিল্প বন্ধ করে দিয়েছেন। তৃণমূলের নেতাদের চিনলে এবং টাকা দিলে আপনার কাজ হবে, কিন্তু আপনি সাধারণ নাগরিক হলে আপনার কোনও দাম নেই। মমতা সব জেনেও দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কিছু করেন না।’ এক সময়ের শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাংলার এই বেহাল দশার জন্য পূর্ববর্তী বামপন্থী সরকারের পাশাপাশি মমতাকেও সমানভাবে দায়ী করেন রাহুল ।।
