এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তরপ্রদেশ,১৪ এপ্রিল : উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি পুলিশ সম্প্রতি মিশন কম্পাউন্ডে অবস্থিত ‘স্টাডি ওয়ার্ল্ড ক্লাসেস’-এর শিক্ষক সোহেল আহমেদ খানকে গ্রেপ্তার করেছে । তার বিরুদ্ধে হিন্দু ছাত্রীদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণে চাপ দেওয়া এবং হিন্দু বিশ্বাস ও দেবদেবীদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ই এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় সোহেলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং এরপর ৬ই এপ্রিল তার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশ এই বিষয়ে অভিযোগকারীদের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে এবং অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে ।
আইনজীবী কল্পনা শ্রীবাস্তব এক্স-এ বলেছেন,ঝাঁসির ‘স্টাডিওয়ার্ল্ড ক্লাসে সোহেল আহমেদ খান নামে এক শিক্ষক হিন্দু ছাত্রীদের মগজধোলাই করছিল ।তিনি হিন্দু দেব-দেবীকে ভণ্ড বলে আখ্যা দিতেন, তাদের গরুর মাংস খেতে এবং ধর্মান্তরে উৎসাহিত করতেন।
তিনি স্পেশাল নোট দেওয়ার বাহানায় রাত ১১টায় তাদের ফোন করে শরীরের উপরের অংশের ভিডিও চাইতেন। এখন, ঝাঁসি পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতে হাজির করেছে।’তিনি লিখেছেন,’হে হিন্দুরা, জেগে উঠুন, আপনাদের মেয়েদের এই ধরনের কোচিং ইনস্টিটিউট থেকে রক্ষা করুন।’
অভিযোগ অনুযায়ী, সোহেল নোট দেওয়ার অছিলায় ছাত্রীদের নম্বর সংগ্রহ করে । এরপর সে গভীর রাতে তাদের মেসেজ পাঠাতে শুরু করে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণে প্ররোচিত করার চেষ্টা করে। তারা পুলিশকে আরও জানায় যে, সোহেল তাদের আপত্তিকর মেসেজও পাঠিয়েছিল ।
কিছু ছাত্রছাত্রী জানিয়েছে যে , ক্লাসের সময় সোহেল হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করতেন এবং তাদের গরুর মাংস খাওয়ার পরামর্শ দিতেন। তারা আরও অভিযোগ করেছে যে, তিনি ছাত্রছাত্রীদের মগজধোলাই করার চেষ্টা করতেন এবং পড়ানোর পরিবর্তে একাডেমিক সেশনে বারবার ধর্ম নিয়ে আলোচনা করতেন। শিক্ষার্থীরা যখন কেন্দ্র পরিচালক রবি নাগোরিয়া ও তাঁর স্ত্রীকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো জানায়, তখন সোহেল তাদের হুমকি দেন এবং পড়ানো বন্ধ করে দেন বলে জানা গেছে, যা তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে ।
শিক্ষার্থীরা এসএসপি দপ্তরে গিয়ে সোহেলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর দায়ের করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে এরপর থেকে শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত দাবি করেছেন যে কোচিং সেন্টার পরিচালকের সঙ্গে টাকা নিয়ে তার বিরোধ ছিল এবং তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সিটি সিও লক্ষ্মীকান্ত গৌতম জানিয়েছেন, অভিযোগে উল্লিখিত সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আরও তদন্ত চলছে।।
